শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
আমার কোনো প্রতিশ্রুতি নেই, যা প্রয়োজন তাই করবো: মির্জা আব্বাস বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন: আসিফ নজরুল ৫৪ বছরের সংকট দেড় বছরে সমাধান করা বাস্তবসম্মত নয় : রিজওয়ানা ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আসা পোস্টাল ভোট গণনায় নেবে ইসি আমাদের সরকারের কেউ এমন কাজ করেনি যে হাসিনার মতো হবে: প্রেস সচিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে : ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বিএনপি নেতা মিঠুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হলো গাজীপুরে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে হাতবোমা ও মাদকসহ ৩৫ জন আটক সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক আসবে : ইসি সচিব বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

মাদক কারবারি বিডিআর রাজু–আল মামুন সিন্ডিকেট নারীবাণিজ্য, মাদক ও চাঁদাবাজির ভয়াল অধ্যায়

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫০ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সাংবাদিকতার আড়ালে অপকর্মই যেন মূল পেশা হয়ে উঠেছে অবৈধ মাদক ব্যবসায়ী রবিউল আলম ওরফে বিডিয়ার রাজু ও মাদক কারবারি আব্দুল্লাহ আল মামুন।

উত্তরাতে আজকাল সাংবাদিক পরিচয়ের দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। ভুয়া ও অপসংবাদিকতার ভয়াবহ বিস্তারই আজ সত্যনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভুয়াদের তান্ডবে যারা সত্য প্রকাশে অটল, তারাই আজ অপসংবাদিকদের ইন্ধনে দফায় দফায় লাঞ্ছিত, অপমানিত ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
কখনো শোনা যায়—কোনো সাংবাদিককে গণধোলাই দেওয়া হয়েছে, আবার কখনো চাঁদাবাজির অভিযোগে সাংবাদিক পরিচয়ধারী কাউকে থানায় নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঘটনার গভীরে গেলে বারবার একটি বিষয়ই স্পষ্ট হয়ে ওঠে—এসব ঘটনার পেছনে কাজ করছে একটি সংঘবদ্ধ অপসংবাদিক চক্র। ফলে সত্য উদঘাটনের আগেই মিথ্যা সংবাদ হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাটি হয়ে দাঁড়ায় দ্বিমুখী।
এরই ভয়াবহ দৃষ্টান্ত দেখা গেছে উত্তরায় ১৩ তারিখে সংঘটিত সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায়।
মিডিয়ার নামই এখন অবৈধ ব্যবসার লাইসেন্স!
বর্তমানে যেকোনো মিডিয়ার নাম ব্যবহার করেই যেন অবৈধ ব্যবসা চালানো যায়—এমন একটি ভয়ংকর বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। পেশাদার সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী কাজে বাধা দিচ্ছে এমন কিছু ব্যক্তি, যারা মূলত মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধী হলেও নিজেদের সাংবাদিক পরিচয়ে পরিচিত করে।
‘দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ’ নামক একটি পত্রিকার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এই চক্রের বিরুদ্ধে নারী ব্যবসা, ফ্ল্যাট বাড়িতে পতিতাবৃত্তি পরিচালনা, মাদক ব্যবসা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে একাধিকবার গ্রেফতার হওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে।

রাজু ওরফে বিডিআর রাজু: অপসংবাদিকতার প্রতীক

এই চক্রের অন্যতম মুখ রবিউল আলম রাজু ওরফে বিডিআর রাজু। তার বিরুদ্ধে রয়েছে—
নারী পিপাসু ও নোংরা রাজনীতির অভিযোগ
মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনে বাধ্য করা
নারীদের জোরপূর্বক দেহ ব্যবসায় ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ।
সাংবাদিক পরিচয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল____
এক সাক্ষাৎকারে বিডিআর রাজু নিজ মুখেই স্বীকার করেন—তিনি বিডিআরে চাকরিরত অবস্থায় অপকর্মের দায়ে বহিষ্কৃত হন এবং জেল ও জরিমানার শাস্তি ভোগ করেন। সেই ব্যক্তি আজ সাংবাদিক পরিচয়ে সমাজে দাপট দেখাচ্ছে—এটাই জনমনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
রাজুর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী ও নারীদের হয়রানি করে অর্থ আদায়ের ভিডিও, স্ক্রিনশট ও কল রেকর্ড ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হয়ে উঠেছে। এটি প্রতিবেদকের
হাতে ও এসেছে, যা প্রমাণ করে দীর্ঘদিন ধরে বিডিআর তকমা লাগিয়ে রাজু এই অপকর্ম চালিয়ে আসছে। মাদকসহ (ইয়াবা) ডিবি পুলিশের হাতে একাধিকবার গ্রেফতার হওয়া রবিউল আলম রাজু ওরফে বিডিয়ার রাজুর বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ এবং সে সকল ভিডিও ফুটে ইতিমধ্যে প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে একাধিক মাধ্যমে।

আল মামুন ওরফে ‘মাদক কারবারি মামুন: ___পর্দার আড়ালের কারিগর
এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে আব্দুল্লাহ আল মামুনের নাম, যিনি নিজেকে পত্রিকার সম্পাদক, কখনো ডাক্তার, কখনো আবার ‘ডক্টরেট করা উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি’ হিসেবে পরিচয় দেন। তবে তার আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডে সেই পরিচয়ের কোনো প্রতিফলন পাওয়া যায় না।
স্থানীয়দের ভাষায়, আল মামুনের প্রধান হাতিয়ারই হচ্ছে বিডিআর রাজু। রাজুকে সামনে রেখে তিনি পুরো সিন্ডিকেট পরিচালনা করেন। জুলাই ২৪–এর আগেও আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জের আব্দুল্লাহ আল মামুন ও বিডিয়ার রাজু উত্তরা এলাকায় সক্রিয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় তারা নিরীহ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো, হয়রানি ও অর্থ আদায়ে জড়িত ছিল। চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অফিসে ডেকে এনে অসহায় নারীদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর লেখা পত্রিকায় ছাপানোর হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হতো। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে একাধিক নারী দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার কথিত সম্পাদক ও মাদক ব্যবসায়ী, মামুন ও বিডিয়ার রাজুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানা গেছে।

প্রকাশ্য হামলার ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি পেশাদার সাংবাদিক_____

অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তরায় রাজুর প্রকাশ্য নির্দেশনায় এক পেশাদার সাংবাদিকের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়। বর্তমানে তিনি কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শুধু তিনি নন—আরও কয়েকজন সুনামধন্য মিডিয়ার সাংবাদিক এই চক্রের হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
টাকার বিনিময়ে পদ-পদবি, অফিস বদলই নিয়ম
‘দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ’ পত্রিকা___
মাসে মাসে অফিস পরিবর্তন
সপ্তাহে সপ্তাহে প্রতিনিধি বদল
মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কাউকে প্রতিনিধি, কাউকে সম্পাদক, কাউকে উপদেষ্টা বানানো এ যেন এক খোলা বাণিজ্যিক সাংবাদিকতা বাজার। এসব দেখার বা শোনার যেন কেউ নেই—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই: এই দেশে কি তারা আইনের ঊর্ধ্বে ?
সব অভিযোগ, প্রমাণ ও ঘটনার পরও প্রশ্ন থেকেই যায়
এরা কি তাহলে আইনের ঊর্ধ্বে?
সাংবাদিকতার মতো পবিত্র পেশাকে কলঙ্কিত করা এই অপসংবাদিক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে বিডিআর রাজু ও আল মামুনের সকল অপকর্মের নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট পত্রিকার ডিক্লেয়ারেশন বাতিল এবং অপসংবাদিকতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে প্রকৃত সাংবাদিকতাই একদিন মুখ থুবড়ে পড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com