হাফসা আক্তারঃ
রাজধানীর উত্তরায় স্কয়ার ভবনে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া পরিস্থিতিতে কয়েক দফা হামলায় ভবনের কাঁচ, দরজা–জানালা ও বিভিন্ন দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। মার্কেট সংশ্লিষ্টদের দাবি, এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ভবনের নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে এক অটোরিকশাচালকের কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এরপর রাতে “একজনকে হত্যা করা হয়েছে”—এমন একটি গুজব ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে সংঘবদ্ধ কিছু লোক ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শাহরিয়ার আলী জানান, ঘটনাটি একটি ছোটখাটো বিরোধ থেকে শুরু হয়। গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর কিছু লোক জড়ো হয়ে ভাঙচুর শুরু করে এবং এ সুযোগে একটি দুষ্কৃতিকারী চক্র লুটপাটের চেষ্টা করে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ঘটনাস্থলে কোনো লাশের অস্তিত্বও মেলেনি। ঘটনায় ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে।
অন্যদিকে উত্তরা অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আবু বক্কর দাবি করেন, তাদের কাছে একজন চালককে মারধরের ভিডিও রয়েছে, যা দেখে চালকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে একটি পক্ষ পরিস্থিতিকে ভিন্ন দিকে নিয়ে গিয়ে উস্কানি দেয়। তিনি জানান, তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে কোনো চালক নিহত হননি এবং পুরো বিষয়টি পরিকল্পিত অপপ্রচারের অংশ হতে পারে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার কথাও জানান তিনি।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।