মীম আক্তার :
রাজধানীর তুরাগ থানায় সংঘটিত আলোচিত অটোরিক্সা চালক সাইফুল ইসলাম (৪২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১)।
এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজনসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাব-১ জানায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সাইফুল ইসলাম যাত্রী বহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তুরাগ এলাকার একটি লেক থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। ধারণা করা হয়, দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পানিতে ফেলে দেয় এবং তার অটোরিক্সাটি ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী লাভলী বেগম বাদী হয়ে তুরাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করলে র্যাব-১ ছায়া তদন্ত শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ এপ্রিল পৃথক অভিযানে প্রধান আসামী মো. শহীদুল ইসলাম (৩৪)কে ধামরাই এলাকা থেকে এবং স্বপন শেখ ওরফে কবির শেখ (২৮) কে তুরাগের দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। বাবুলের নেতৃত্বে সাতজনের একটি চক্র সাইফুলকে অটোরিক্সাসহ ভাড়া করে নিয়ে যায়। পরে তাকে কাঁচাবাজার এলাকায় অচেতন করে লেকের পানিতে ফেলে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার অটোরিক্সাটি বিক্রি করে আসামিদের মধ্যে টাকা ভাগ করে দেওয়া হয়।
র্যাব আরও জানায়, এ ঘটনায় জড়িত বাবুল, নাইম, সোবাহান ও নার্গিস ইতোমধ্যে অন্য মামলায় কারাগারে রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য তুরাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।