মীম আক্তার :
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ নবনির্মিত অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার (ATMC) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মিজু আফরোজা খানম, এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি।
নতুন এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার চালুর ফলে দেশের আকাশপথ ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন যুগের সূচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর এই সিস্টেমের মাধ্যমে ফ্লাইট পরিচালনায় নির্ভুলতা ও সময়ানুবর্তিতা বৃদ্ধি পাবে, আকাশসীমার ধারণক্ষমতা বাড়বে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে সহায়ক হয়ে দেশের এভিয়েশন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বেবিচকের সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মোঃ নূর-ই-আলম। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জিন-মার্ক সেরে-শার্লে।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের আকাশসীমা আরও নিরাপদ, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে ফ্রান্স সরকার ও প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থ্যালেস-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে বৈশ্বিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। আঞ্চলিক সহযোগিতা ও তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে সমন্বিত আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চেয়ারম্যান তাঁর বক্তব্যে জানান, দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে অত্যাধুনিক এটিএম-সিএনএস সিস্টেম চালুর ফলে নিরাপত্তা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং এটি বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বলেন, এই প্রকল্প বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার সহযোগিতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে ফ্রান্স সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
জানা যায়, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি থেকে নতুন এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়। এতে সমন্বিত ফ্লাইট ডাটা প্রসেসিং, রাডার ও ADS-B প্রযুক্তি ব্যবহার করে রিয়েল-টাইম ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে ওভারফ্লাইট রাজস্ব বৃদ্ধি, ফ্লাইট বিলম্ব কমানো এবং জ্বালানি সাশ্রয়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।