বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৭ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান

নড়াইলে বোরোর ব্যাপক ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩ বার পঠিত

জেলার তিন উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে বোরো ধানের ব্যাপক ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে | জেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠে সোনালি ধানের সমারোহ | বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন ধানের শিষ| ফসলের মাঠে সবুজ বর্ণ থেকে ধান পেকে হলুদ বর্ণ ধারণ করা শুরু হয়েছে| কোথাও কোথাও আগাম লাগানো ধান আগে পেকে যাওয়ায় ধান কাটা শুরু হয়েছে |

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিপু মজুমদার বাসসকে বলেন, আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পর্যন্ত জেলায় ৮ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে| আর মাত্র কয়েক দিন পরই কৃষকের উঠান ভরে উঠবে সোনালি ধানে| ভরে উঠবে ধানের গোলা| মুখে ফুটবে স্বস্তির হাসি |

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নড়াইলের তিন উপজেলায় চলতি মৌসুমে মোট ৫০ হাজার ৩০৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে| এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৩ হাজার ৩৪৬ হেক্টর জমিতে, লোহাগড়া উপজেলায় ১০ হাজার ৩৩৭ হেক্টর জমিতে এবং কালিয়া উপজেলায় ১৬ হাজার ৬২৬ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে| আবাদ হওয়া জমি থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার ২০৮ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে ।

কালিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক রিফায়েত শেখ বাসসকে বলেন, ‘চলতি মৌসুমে আমি ৫ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি| ফলন ভালো হয়েছে | বোরোর বীজ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক এবং সেচের কোনো ঘাটতি না থাকায় বোরো ধান চাষে কোনো সমস্যা হয়নি |’

সরেজমিনে বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন| আবার কোথাও কোথাও পাকা ধান কাটতে শুরু করছেন কৃষকরা| গত কয়েকদিনের প্রচণ্ড দাবদাহেও ঘরে বসে নেই তারা| রৌদ্র তাপ উপেক্ষা করে ভোর থেকে মাঠে গিয়ে ধান কাটছেন |

নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, বোরো মৌসুমের শুরু থেকে আমরা কৃষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি| যাতে তারা আধুনিক কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করে| এছাড়া ফসলের সঠিক পরিচর্যার জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শও দেওয়া হয়েছে| সরকারের প্রণোদনা হিসেবে দেয়া বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ পেয়ে কৃষকরা বোরো ধান চাষে বেশি আগ্রহী হয়েছেন।

তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বোরো আবাদে কৃষকদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে| চারা রোপণ থেকে শুরু করে কাটা পর্যন্ত কৃষকদের পাশে আছে কৃষি বিভাগ| ধান সম্পূর্ণ কেটে ঘরে তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে| কৃষকের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের লক্ষ্য|

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বোরো ধান একটি প্রধান শীতকালীন ও রবিশস্য| যা সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে রোপণ করা হয় এবং এপ্রিল থেকে জুন মাসে কাটা হয়| এই মৌসুমের ধান দেশের মোট ধান উৎপাদনের একটি বড়ো অংশ জুড়ে থাকে| যা আবাদ ও সেচের জন্য নিবিড় পরিচর্যা ও পানি ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল।

সরকার সাধারণত এই মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট মূল্যে ধান-চাল সংগ্রহ করে থাকে  কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৬ সালে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা দরে এবং চাল ৪৯ টাকা দরে সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com