জাকির হোসেনঃ
পবিত্র কোরআনের আলোয় আলোকিত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে কৃতি হাফেজে কোরআনদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ এবং বিপুল সংখ্যক হাফেজের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক অনন্য মিলনমেলায়।
(২৩ মে ) শনিবার পিরোজপুর ডাক দিয়া যাই হলরুমে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (এমপি)। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “কোরআনের হাফেজরা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো জাতির অহংকার। যারা নিজেদের হৃদয়ে পবিত্র কোরআন ধারণ করে, তারা সমাজে নৈতিকতা, মানবিকতা ও ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ের নানা সামাজিক অবক্ষয়, মাদক, সহিংসতা ও মূল্যবোধের সংকট থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে কোরআনের শিক্ষার বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান অর্জনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “একজন হাফেজ শুধু মসজিদের ইমাম নন, তিনি হতে পারেন সমাজ পরিবর্তনের অগ্রদূত।”
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কৃতি হাফেজদের ফুলের শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এ সময় অভিভাবকদের মধ্যেও আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি লক্ষ্য করা যায়। সন্তানদের এমন অর্জনে অনেক অভিভাবক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কোরআনের শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে। তাই একটি আদর্শ সমাজ গঠনে হাফেজদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বক্তারা কোরআনের শিক্ষাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার বক্তব্যে আরও বলেন, “যে সমাজে কোরআনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠিত হয়, সে সমাজে অন্যায়, দুর্নীতি ও বৈষম্যের স্থান থাকে না। কোরআনের আদর্শই পারে একটি মানবিক ও কল্যাণরাষ্ট্র গঠন করতে।” সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি পিরোজপুর ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি ইমরান হোসেনের সভাপতি কে অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের ড. আব্দুল্লাহ হিল মাহমুদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক সহ ছাত্রশিবিরের জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ, সুধীজন, ছাত্রনেতা, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ধর্মীয় আবহ ও আন্তরিকতার ছাপ ছিল চোখে পড়ার মতো।
সবশেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন স্থানীয় একজন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন।