আবুল কালাম আজাদ, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ভালুকায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। দিনে ও রাতে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে গৃহস্থালির স্বাভাবিক কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে ভালুকা সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে দীর্ঘ সময় পর তা ফিরে আসে। বিশেষ করে রাতের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
মেদুয়ারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এক পিডিবি গ্রাহক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত শুক্রবার রাতে অন্তত ২২ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে। এতে পরিবারের ছোট শিশুদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। সামনে এইচএসসি পরীক্ষা থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ সূত্রে জানা গেছে, সমিতির মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ৪ লাখ ৮৫ হাজার, বাণিজ্যিক প্রায় ২৫ হাজার ৫০০, শিল্প ৫ হাজার ২০০ এবং সেচ গ্রাহক ৪ হাজার ১০০। বর্তমানে মোট বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৯০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২১০ থেকে ২১৫ মেগাওয়াট। ভালুকা ও গফরগাঁও উপজেলায় সম্মিলিত চাহিদা প্রায় ১৩০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার আকমল হোসেন বলেন, “চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।”
অন্যদিকে, বিপিডিবি ভালুকা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তাদের মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ আবাসিক এবং ২০ শতাংশ অন্যান্য শ্রেণির গ্রাহক। ভালুকায় তাদের বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২০ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১২ থেকে ১৩ মেগাওয়াট।
বিপিডিবি ভালুকা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ বলেন, “চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়ায় নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।”
এদিকে, দীর্ঘস্থায়ী ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করে জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।