শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
মামলা চলবে মেটার বিরুদ্ধে স্বামীকে হত্যার পর ৬ টুকরো করার দায়ে স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড হিজড়াদের কাফন-দাফনের বিধান পরিশ্রম না করেও সারাক্ষণ ঘুম পায়; জেনে নিন কারণ ও করণীয় আমেরিকায় নিজের স্টেডিয়াম চালু করলেন শাহরুখ খান জুলাই শহীদ স্মরণে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ জামায়াতের ময়মনসিংহ বোর্ডে পরীক্ষার্থী ৭৩ হাজার ৩৭ জাইকা-সহায়তাপ্রাপ্ত আরবান বিল্ডিং সেফটি প্রকল্পে ঋণ বিতরণের শর্ত শিথিল রাজশাহীর বিএনপি নেতা টুকুর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচার দেশ রক্ষায় কেটেছে যৌবন, বার্ধক্যে অটোরিকশার স্টিয়ারিং হাতে, মাত্র ৮ হাজার ৪০০ টাকার পেনশনে মানবেতর জীবনযাপন অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স কর্পোরাল রফিকুল ইসলামের

স্বামীকে হত্যার পর ৬ টুকরো করার দায়ে স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
  • ০ বার পঠিত

আদালত প্রতিবেদক: রাজধানীর মহাখালী এলাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ ছয় টুকরো করার ঘটনায় স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ১৬তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এ রায় ঘোষণা করেন। একই রায়ে লাশ গুমের অপরাধে তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার রায়ে হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, লাশ গুমের দায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাস বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন আদালত। এদিন রায় ঘোষণার সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (অতিরিক্ত পিপি) খন্দকার শফি নেওয়াজ নাসির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩০ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মহাখালীর আমতলী এলাকায় একটি ড্রাম থেকে এক ব্যক্তির মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ। একই দিন রাত ১১টার পর মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টারের কাছ থেকে একটি ব্যাগের মধ্যে উরু থেকে খণ্ডিত দুটি পা এবং কাঁধ থেকে খণ্ডিত দুটি হাতের অংশ উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ। দুই দিনে লাশের ৬ টুকরা উদ্ধার করা হয়।

রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ। এরপর ১২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয় ফাতেমাকে। জিজ্ঞাসাবাদে ফাতেমা পুলিশকে জানান, পারিবারিক কলহ, টাকা-পয়সা বণ্টন ও একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে স্বামী ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়। এক পর্যায়ে ফাতেমা পরিকল্পনা করে তার অটোরিকশা চালক স্বামীকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে নিস্তেজ করেন, এরপর গলাকেটে হত্যা করে লাশ ৬ টুকরা করেন।

একটি লাল রঙের কাপড়ের ব্যাগে মাথা, শরীরের মূল অংশকে একটি নীল রঙের পানির ড্রামে এবং খণ্ডিত দুই পা ও দুই হাতকে একটি বড় কাপড়ের ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখেন ফাতেমা। এরপর রিকশা ভাড়া করে প্রথমে আমতলী এলাকায় শরীরের মূল অংশ ফেলে দেন। পরে মহাখালী এনা বাস কাউন্টারের সামনে খণ্ডিত দুই হাত ও দুই পা ভর্তি ব্যাগ রেখে দেন। এরপর খণ্ডিত মাথা রাখা ব্যাগ গুলশান লেকে ফেলে দিয়ে বাসায় আসেন তিনি।

এ ঘটনায় ময়না মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ১ জুন মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর ফাতেমা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্ত শেষে ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের পরিদর্শক কাজী শরীফুল ইসলাম ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর ফাতেমার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০২৩ সালের ১২ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com