ঢাকা ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী আমরা দেশ ও জনগণের জন্য এনসিপিসহ একসঙ্গে কাজ করছি: জামায়াত আমির ঢাকায় যাত্রাবিরতি ভুটানের রাজার, স্বাগত জানালেন রাষ্ট্রপতি আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) তরুণদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশে জবিতে ‘ইউথ ইমপ্যাক্ট সামিট’ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের একটি পরীক্ষা স্থগিত অনফিশিয়াল টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ইনিংস ও ৪১৩ রানের হার বাংলাদেশ এ দলের ‘কালো দাগ’ মুক্ত সিরিয়া, খুললো উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক: এলজিআরডি মন্ত্রী

পেঁয়াজের বাজার চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ, কেজি ২৬০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে পেঁয়াজের খুচরা বাজারে। তদারকি না থাকায় দিনের আলো ফুটতেই যে যেভাবে পারছে দাম বাড়িয়ে ভোক্তার পকেট কাটছে। দামের অপ্রতিরোধ্য যাত্রায় খুচরা বাজারে আজ শনিবারও বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। আজ প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৭০ টাকায়। যা একদিন আগে ছিল ২৫০ টাকা।

বাজার বা দোকানের অনেক খুচরা বিক্রেতা দু’তিন দিন আগে পেঁয়াজ কিনলেও সকালে বাজার দেখে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। অন্যদিকে ক্রমাগত দামের ঊর্ধ্বগতিতে পেঁয়াজ কেনা ও ভোগের পরিমাণও কমিয়ে দিয়েছে ভোক্তারা। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

তবে পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ শনিবার পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। শুক্রবারের তুলনায় দাম বাড়েনি। পাইকারি বাজারে শুক্রবার দেশি পেঁয়াজ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, আজ শনিবারও একই দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।

আজ শনিবার (১৬ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর উত্তর রায়েরবাগ বাইতুত তাকওয়া জামে মসজিদ বাজার এলাকার কবির জেনারেল স্টোরের দোকানি শরিফুল জানান, দেশি পেঁয়াজের কেজি ২৭০ টাকা আর বার্মার পেঁয়াজ ২৫০ টাকা। তিনি বলেন, ‘দেখেন দুপুরের পর কী হয়? সন্ধ্যার মধ্যে কেজি ৩০০ টাকাও হইয়া যাইতে পারে।’

একই বাজারের ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন বলেন, ‘আমি সবচেয়ে ভালো দেশি পেঁয়াজ ২৫০ টাকাই বিক্রি করছি। পেঁয়াজটা আমার আগের কেনা। শুনছি আড়তে আজকেও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। আজ কিনে আনলে আমরাও বেশি দামে বিক্রি করতে হইত।’

বাজারের ইনসাফ জেনারেল স্টোরের দোকানি জানান, পেঁয়াজ দেশি ভালোটা ২৫০ টাকা ও একটু নিম্নমানেরটা ২৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ ২৬০ টাকা এবং একটু নিম্নমানের ও আমদানি করা পেঁয়াজ ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শনির আখড়া গোবিন্দপুর বাজারের দোকানদার জামাল বলেন, আজকের বাজারও কিছুটা বাড়তির দিকে। দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ২৬০ টাকায় বিক্রি করছি। বাজারের অন্যান্যরাও একই দামেই বিক্রি করছে।

পেঁয়াজের খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিনই দাম বাড়ার কারণে মানুষ পেঁয়াজ খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। আগে মোটামুটি সামর্থ্যবান যারা ছিলেন, তারা ৫ কেজির (এক পাল্লা) নিচে পেঁয়াজ কিনতেন না। কিন্তু এখন তারা এক কেজির বেশি কেনেন না। আর একপোয়া (২৫০ গ্রাম) পরিমাণ পেঁয়াজ বিক্রির হার অনেক বেড়ে গেছে।

উত্তর রায়েরবাগের ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন বলেন, ‘আমি গত কয়েক সপ্তাহে একসঙ্গে এক কেজির বেশি পেঁয়াজ কিনেছেন এমন ক্রেতা পাইনি। মানুষ পেঁয়াজ খাওয়া অনেক কামিয়ে দিয়েছে। অনেকে ১০/২০ টাকারও পেঁয়াজ চায় এখন, বিক্রিও করি। আগে এমন ছিল না।’

শনির আখড়া বাজারের সুর্বণা সুইটসের মালিক সুজিত দত্ত বলেন, ‘আমাদের ঘরে পেঁয়াজ খাওয়া অনেক কমে গেছে। আগে যেখানে ২ কেজি লাগতো এখন সেখানে আধা কেজি দিয়ে পার করছি। এত দাম বেড়ে যাচ্ছে, ব্যবহার কমানো ছাড়া তো আমাদের কোনো উপায় নেই।’

মাতুয়াইল কবরস্থান রোডের নুরুল আমিনের বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. ইসমাইল মৃধা বলেন, ‘সকাল বিকেল পেঁয়াজের দাম বাড়ে, এটা কেমন দেশ? মনে হয় কেউ দেখার নেই। কিছু তো করতে পারব না তাই পেঁয়াজ খাওয়া কমিয়ে দিয়েছি। ৫০০ গ্রাম পেঁয়াজ দিয়ে ১০ দিন খাচ্ছি। আগে যেখানে মাসে লাগতো ৬ কেজি পেঁয়াজ।’


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী

পেঁয়াজের বাজার চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ, কেজি ২৬০ টাকা

আপডেট টাইম : ১১:২২:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে পেঁয়াজের খুচরা বাজারে। তদারকি না থাকায় দিনের আলো ফুটতেই যে যেভাবে পারছে দাম বাড়িয়ে ভোক্তার পকেট কাটছে। দামের অপ্রতিরোধ্য যাত্রায় খুচরা বাজারে আজ শনিবারও বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। আজ প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৭০ টাকায়। যা একদিন আগে ছিল ২৫০ টাকা।

বাজার বা দোকানের অনেক খুচরা বিক্রেতা দু’তিন দিন আগে পেঁয়াজ কিনলেও সকালে বাজার দেখে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। অন্যদিকে ক্রমাগত দামের ঊর্ধ্বগতিতে পেঁয়াজ কেনা ও ভোগের পরিমাণও কমিয়ে দিয়েছে ভোক্তারা। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

তবে পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ শনিবার পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। শুক্রবারের তুলনায় দাম বাড়েনি। পাইকারি বাজারে শুক্রবার দেশি পেঁয়াজ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, আজ শনিবারও একই দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।

আজ শনিবার (১৬ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর উত্তর রায়েরবাগ বাইতুত তাকওয়া জামে মসজিদ বাজার এলাকার কবির জেনারেল স্টোরের দোকানি শরিফুল জানান, দেশি পেঁয়াজের কেজি ২৭০ টাকা আর বার্মার পেঁয়াজ ২৫০ টাকা। তিনি বলেন, ‘দেখেন দুপুরের পর কী হয়? সন্ধ্যার মধ্যে কেজি ৩০০ টাকাও হইয়া যাইতে পারে।’

একই বাজারের ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন বলেন, ‘আমি সবচেয়ে ভালো দেশি পেঁয়াজ ২৫০ টাকাই বিক্রি করছি। পেঁয়াজটা আমার আগের কেনা। শুনছি আড়তে আজকেও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। আজ কিনে আনলে আমরাও বেশি দামে বিক্রি করতে হইত।’

বাজারের ইনসাফ জেনারেল স্টোরের দোকানি জানান, পেঁয়াজ দেশি ভালোটা ২৫০ টাকা ও একটু নিম্নমানেরটা ২৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ ২৬০ টাকা এবং একটু নিম্নমানের ও আমদানি করা পেঁয়াজ ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শনির আখড়া গোবিন্দপুর বাজারের দোকানদার জামাল বলেন, আজকের বাজারও কিছুটা বাড়তির দিকে। দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ২৬০ টাকায় বিক্রি করছি। বাজারের অন্যান্যরাও একই দামেই বিক্রি করছে।

পেঁয়াজের খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিনই দাম বাড়ার কারণে মানুষ পেঁয়াজ খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। আগে মোটামুটি সামর্থ্যবান যারা ছিলেন, তারা ৫ কেজির (এক পাল্লা) নিচে পেঁয়াজ কিনতেন না। কিন্তু এখন তারা এক কেজির বেশি কেনেন না। আর একপোয়া (২৫০ গ্রাম) পরিমাণ পেঁয়াজ বিক্রির হার অনেক বেড়ে গেছে।

উত্তর রায়েরবাগের ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন বলেন, ‘আমি গত কয়েক সপ্তাহে একসঙ্গে এক কেজির বেশি পেঁয়াজ কিনেছেন এমন ক্রেতা পাইনি। মানুষ পেঁয়াজ খাওয়া অনেক কামিয়ে দিয়েছে। অনেকে ১০/২০ টাকারও পেঁয়াজ চায় এখন, বিক্রিও করি। আগে এমন ছিল না।’

শনির আখড়া বাজারের সুর্বণা সুইটসের মালিক সুজিত দত্ত বলেন, ‘আমাদের ঘরে পেঁয়াজ খাওয়া অনেক কমে গেছে। আগে যেখানে ২ কেজি লাগতো এখন সেখানে আধা কেজি দিয়ে পার করছি। এত দাম বেড়ে যাচ্ছে, ব্যবহার কমানো ছাড়া তো আমাদের কোনো উপায় নেই।’

মাতুয়াইল কবরস্থান রোডের নুরুল আমিনের বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. ইসমাইল মৃধা বলেন, ‘সকাল বিকেল পেঁয়াজের দাম বাড়ে, এটা কেমন দেশ? মনে হয় কেউ দেখার নেই। কিছু তো করতে পারব না তাই পেঁয়াজ খাওয়া কমিয়ে দিয়েছি। ৫০০ গ্রাম পেঁয়াজ দিয়ে ১০ দিন খাচ্ছি। আগে যেখানে মাসে লাগতো ৬ কেজি পেঁয়াজ।’


প্রিন্ট