ঢাকা ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঊলিপুরে ২৮ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মগোপনে বিএনপি নেতা জুলাই জাদুঘর পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ দেশের এভিয়েশন হাবের অগ্রযাত্রায় লুফথানসার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী সরকার : বিমান মন্ত্রী ঢাকা-জার্কাতা অংশীদারিত্ব জোরদারে ৫ প্রস্তাব পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর তৃণমূলের আস্থায় এম কফিল উদ্দিন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে আলোচনায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি অনুমোদন মৃধাবাড়ি থেকে কাজলা সড়ক-ফুটপাত দখলমুক্ত ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস প্রস্তুতি ম্যাচে কুইন্সল্যান্ডের কাছে হারলো বাংলাদেশ নারী দল কালিয়াকৈরে বিভিন্ন পূজা মন্ডপে দিনরাত জেগে ব্যস্ত সময় পার করছে প্রতিমা তৈরীর কারিগররা

ছাত্রীর ফেসবুক ইনবক্সে ‘নগ্ন ছবি’ পাঠানোর অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি,সিটিজেন নিউজ: ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর ফেসবুক ইনবক্সে ‘নগ্ন ছবি’ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর জীববিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক মো. রেজাউল করিম গা ঢাকা দিয়েছেন।

এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কাছে শাস্তিমূলক বদলির সুপারিশ করেছে। তবে এই ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ছাত্রী বা অন্য কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মে দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর ফেসবুকের মেসেজ বক্সে শিক্ষক রেজাউল করিম তার ‘নগ্ন ছবি’ পাঠান। ঘটনার পর ওই ছাত্রী কয়েকজন শিক্ষকের ইনবক্সে ছবিটি ফরোয়ার্ড করে।

এ ঘটনা শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ মো. ফরিদকে জানান। তিনি শরীরচর্চা শিক্ষক মাসুম বিল্লাহকে তদন্তের দায়িত্ব দিলে মাসুম বিল্লাহ তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা খুঁজে পান।

তদন্তের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ বলেন, ওই ছবির সঙ্গে শিক্ষক রেজাউল করিমের বাসার দৃশ্যের মিল খুঁজে পাওয়া গেছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয় থেকে বদলির সুপারিশ করেছি পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অপর শিক্ষকরাও রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে সুপারিশ করেছেন। এছাড়া ওই ছবির সঙ্গে কিছু অশ্লীল মেসেজও পাওয়া গেছে। যা তিনি ছাত্রীর ইনবক্সে দিয়েছেন।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল করিম ঘটনা আড়াল করতে তার ফেসবুক আইডি ‘হ্যাক’ হওয়ার কথা জানিয়ে ওইদিনই ঝালকাঠি সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন ১২ মে এ ঘটনায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ও তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে জানিয়ে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বরাবর একটি আবেদন করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকেরা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বেও ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও যৌন হয়রানির মৌখিক অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকাকেও তিনি কিছুদিন আগে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে তারা জানান।

এ প্রসঙ্গে ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ মো. ফরিদ বলেন, আমি শিক্ষকদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে বৃহস্পতিবার উপ-পরিচালকের বরাবর অতি দ্রুত শাস্তিমূলক বদলির সুপারিশ করেছি।

তিনি আরো বলেন, এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতীতে এ ধরনের আরো অভিযোগ রয়েছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঊলিপুরে ২৮ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মগোপনে বিএনপি নেতা

ছাত্রীর ফেসবুক ইনবক্সে ‘নগ্ন ছবি’ পাঠানোর অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০২:২১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০১৯

জেলা প্রতিনিধি,সিটিজেন নিউজ: ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর ফেসবুক ইনবক্সে ‘নগ্ন ছবি’ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর জীববিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক মো. রেজাউল করিম গা ঢাকা দিয়েছেন।

এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কাছে শাস্তিমূলক বদলির সুপারিশ করেছে। তবে এই ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ছাত্রী বা অন্য কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মে দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর ফেসবুকের মেসেজ বক্সে শিক্ষক রেজাউল করিম তার ‘নগ্ন ছবি’ পাঠান। ঘটনার পর ওই ছাত্রী কয়েকজন শিক্ষকের ইনবক্সে ছবিটি ফরোয়ার্ড করে।

এ ঘটনা শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ মো. ফরিদকে জানান। তিনি শরীরচর্চা শিক্ষক মাসুম বিল্লাহকে তদন্তের দায়িত্ব দিলে মাসুম বিল্লাহ তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা খুঁজে পান।

তদন্তের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ বলেন, ওই ছবির সঙ্গে শিক্ষক রেজাউল করিমের বাসার দৃশ্যের মিল খুঁজে পাওয়া গেছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয় থেকে বদলির সুপারিশ করেছি পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অপর শিক্ষকরাও রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে সুপারিশ করেছেন। এছাড়া ওই ছবির সঙ্গে কিছু অশ্লীল মেসেজও পাওয়া গেছে। যা তিনি ছাত্রীর ইনবক্সে দিয়েছেন।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল করিম ঘটনা আড়াল করতে তার ফেসবুক আইডি ‘হ্যাক’ হওয়ার কথা জানিয়ে ওইদিনই ঝালকাঠি সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন ১২ মে এ ঘটনায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ও তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে জানিয়ে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বরাবর একটি আবেদন করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকেরা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বেও ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও যৌন হয়রানির মৌখিক অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকাকেও তিনি কিছুদিন আগে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে তারা জানান।

এ প্রসঙ্গে ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ মো. ফরিদ বলেন, আমি শিক্ষকদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে বৃহস্পতিবার উপ-পরিচালকের বরাবর অতি দ্রুত শাস্তিমূলক বদলির সুপারিশ করেছি।

তিনি আরো বলেন, এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতীতে এ ধরনের আরো অভিযোগ রয়েছে।


প্রিন্ট