ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বিশ্বম্ভরপুরের অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের দুর্বৃত্তদের ছিটানো বিষে মারা গেছে সাড়ে ৪ লাখ টাকার পোনা কাপ্তাই লেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বিশ্বের জন্য লজ্জার: মিশরের কোচ হোসাম হাসান ন্যাটো সম্মেলনের আগে মস্কোর দিকে ৪০০-র বেশি ড্রোন নিক্ষেপ ইউক্রেনের “ময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির ক্ষোভে রুবেল হত্যা, গ্রেপ্তার ৪” মিথ্যা অপপ্রচার দিয়ে ভালো উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করা হয় মনোয়ার হোসেন জীবন ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে শুরু হলো ‘গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল

বিচ্ছেদ বেড়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালোবাসা শেখাচ্ছে মিসর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,সিটিজেন নিউজ: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও বিয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে মিসরে। দেশটিতে তালাকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এমন কর্মসূচি চালু করেছে সরকার। কর্মসূচির নাম ‘মাওয়াদ্দা’, যার অর্থ ভালোবাসা।

এক হিসাবে দেখা গেছে, মিসরে ২০১৭ সালে তালাকের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার। এর আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
কর্মসূচিটি পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। এর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ২০২০ সাল থেকে বছরে প্রায় আট লাখ তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা।

শুধু তাই নয় দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ভালোবাসা সম্পর্কিত একটি কোর্সও বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

দেশটির সোশাল সলিডারিটি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে মাওয়াদ্দা কর্মসূচিটি। সেখানকার এক কর্মকর্তা আমর ওথম্যান। তিনি বলছিলেন, ‘সমস্যার মূল উৎপাটন করতে চাইলে বিয়ের আগেই শিক্ষা দেয়া সরকার।’

গত জুলাইতে তরুণদের এক সম্মেলনে মিসরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেছিলেন, তালাক ও বিচ্ছেদের মানে হলো শিশুর তার বাবা-মায়ের মধ্যে মাত্র একজনের সঙ্গ পেয়ে বড় হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট সিসির এ উদ্বেগের কারণে মাওয়াদ্দা কর্মসূচিটি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মসূচির কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি এ কর্মসূচির আওতায় দেশটির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনে একটি হাসির নাটক মঞ্চস্থ করা হয়। নাটকটিতে দেখা যায়, স্বামী বাইরে থেকে এসেছেন। এ সময় স্ত্রী ঘর ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। কিন্তু স্বামীর জন্য এ সময় খাবার তৈরি ছিল না। ফলে স্ত্রীর সঙ্গে উঁচু গলায় কথা বলতে থাকেন স্বামী।

এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বামীকে স্ত্রী জানান, তিনি স্কুল থেকে বাচ্চাদের নিয়ে এসেছেন, গিয়েছিলেন চাকরি করতেও। এরপর চুলায় রান্না চড়ানো, এ অবস্থায় কি তাকে দোষ দেয়া ঠিক?

‘স্বামীদেরও ঘরের কাজ করা উচিত।’ এ নাটকটি দেখা উপস্থিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এমনটি বলছিলেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ২৩ বছর বয়সী জুলিয়া গোসেফ জানান, তিনি তার বন্ধুকে নিয়ে নাটকটি দেখেছেন। অর্থনৈতিক কারণে বিয়ের পর তাকে ও তার স্বামীকে হয়ত কাজ করতে হতে পারে। তখন নাটকের মতোই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা তার।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন

বিচ্ছেদ বেড়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালোবাসা শেখাচ্ছে মিসর

আপডেট টাইম : ১১:১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,সিটিজেন নিউজ: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও বিয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে মিসরে। দেশটিতে তালাকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এমন কর্মসূচি চালু করেছে সরকার। কর্মসূচির নাম ‘মাওয়াদ্দা’, যার অর্থ ভালোবাসা।

এক হিসাবে দেখা গেছে, মিসরে ২০১৭ সালে তালাকের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার। এর আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
কর্মসূচিটি পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। এর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ২০২০ সাল থেকে বছরে প্রায় আট লাখ তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা।

শুধু তাই নয় দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ভালোবাসা সম্পর্কিত একটি কোর্সও বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

দেশটির সোশাল সলিডারিটি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে মাওয়াদ্দা কর্মসূচিটি। সেখানকার এক কর্মকর্তা আমর ওথম্যান। তিনি বলছিলেন, ‘সমস্যার মূল উৎপাটন করতে চাইলে বিয়ের আগেই শিক্ষা দেয়া সরকার।’

গত জুলাইতে তরুণদের এক সম্মেলনে মিসরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেছিলেন, তালাক ও বিচ্ছেদের মানে হলো শিশুর তার বাবা-মায়ের মধ্যে মাত্র একজনের সঙ্গ পেয়ে বড় হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট সিসির এ উদ্বেগের কারণে মাওয়াদ্দা কর্মসূচিটি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মসূচির কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি এ কর্মসূচির আওতায় দেশটির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনে একটি হাসির নাটক মঞ্চস্থ করা হয়। নাটকটিতে দেখা যায়, স্বামী বাইরে থেকে এসেছেন। এ সময় স্ত্রী ঘর ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। কিন্তু স্বামীর জন্য এ সময় খাবার তৈরি ছিল না। ফলে স্ত্রীর সঙ্গে উঁচু গলায় কথা বলতে থাকেন স্বামী।

এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বামীকে স্ত্রী জানান, তিনি স্কুল থেকে বাচ্চাদের নিয়ে এসেছেন, গিয়েছিলেন চাকরি করতেও। এরপর চুলায় রান্না চড়ানো, এ অবস্থায় কি তাকে দোষ দেয়া ঠিক?

‘স্বামীদেরও ঘরের কাজ করা উচিত।’ এ নাটকটি দেখা উপস্থিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এমনটি বলছিলেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ২৩ বছর বয়সী জুলিয়া গোসেফ জানান, তিনি তার বন্ধুকে নিয়ে নাটকটি দেখেছেন। অর্থনৈতিক কারণে বিয়ের পর তাকে ও তার স্বামীকে হয়ত কাজ করতে হতে পারে। তখন নাটকের মতোই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা তার।


প্রিন্ট