ঢাকা ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুড়িগ্রামে যৌথ অভিযানে ভারতীয় ১৩ লাখ টাকার মোবাইলসহ এনামুল আ/টক নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের ২০২৬-২০২৮ সাধারণ গ্রুপের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে তালম ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম গোদাগাড়ীতে মাদকের বিরুদ্ধে জিডি ও তরুণীর অনশন উন্মোচিত চার ভাইয়ের অপরাধ সাম্রাজ্য নরসিংদী তে জনস্বার্থে মোবাইল কোর্ট জনগণের ভালোবাসায় মির্জা ফখরুল: নীতি, আদর্শ ও নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ সংসদ কক্ষে নিজের আসনে বসে ভোট গ্রহণ দেখলেন প্রধানমন্ত্রী শিশু ভূমিষ্ট হওয়ার পর আপনারা যেমন তার যত্ন করেন ঠিক সেইভাবে শিশু চারাটিকেও প্রতিদিন যত্ন করতে হবে-ইউএনও, এটিএম কামরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে বঙ্গভবনে বিদায়ী সংবর্ধনা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রত্যাশা সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের

বালিয়াডাঙ্গীতে আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়া দেখে অজ্ঞান, হাসপাতালে ভর্তি ।

মোঃ মজিবর রহমান শেখ
ঠাকুরগাঁও :ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের লালাপুর শুকানিপাড়া গ্রামে আগুনে বাড়িঘর পুড়েছে হিসাব উদ্দীনের। এক পা নেই বৃদ্ধ হিসাব উদ্দীনের (৬০)। তারপরও ২ হাজার টাকা বেতনে একটি চাতাল পাহারা এবং ছেলেকে নিয়ে অন্যের জমি বর্গায় চাষাবাদ করে দিন যাচ্ছিল তাঁর। কিন্তু আগুনে নিমেষে ধ্বংস হয়ে গেল তাঁর তিলে তিলে গড়া ঘরবাড়ি। সবকিছু হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে পরিবারটি। ঘটনার বিহ্বলতায় হিসাব উদ্দীনের স্ত্রী মাসুদা বেগম অজ্ঞান হয়ে যান। পরে তাঁকে ভর্তি করা হয় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

গত ১৭ মার্চ সোমবার সকালে আগুনে পুড়েছে তাঁর বাড়ির সবকিছু। তিনিসহ ৯টি পরিবারের আসবাব, ধান, ভুট্টা, চাল, নগদ টাকা সহ প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। হিসাব উদ্দীন বলেন, ‘মোর সব শেষ হই গেইছে, কিছু বাঁচাবা পারুনি, মোর তো একখান পা নাই। মোর স্ত্রী আগিন দেখে অজ্ঞান, ওয়াক হাসপাতালত ভর্তি করিবা হইছে। রোজাডা কেংকরে খুলিম সানকে (সন্ধ্যায়), ওইডারও কোনো বুদ্ধি নাই।’ক্ষতিগ্রস্ত এক পরিবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী রুপালি আক্তার বলেন, ‘আমার পড়ার বইটা পর্যন্ত বাঁচাতে পারিনি। সব পুড়ে গেছে। ঈদের পরে পরীক্ষা। বাবা দিনমজুর। বই কিনে দিবে, নাকি বাড়ি ঘর ঠিক করবে।’ বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার শফিউল্লাহ বসুনিয়া জানান, রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত। প্রচণ্ড রোদ ও বাতাস থাকায় দ্রুত ছড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা খবর পাওয়ামাত্র ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। বাতাস না হলে আগুন এত দূর পর্যন্ত ছড়াত না।’আগুনে পুড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থী রুপালি আক্তারের বইখাতাও। আগুনে পুড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থী রুপালি আক্তারের বইখাতাও।
দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পরিদর্শন করেছেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পলাশ কুমার দেবনাথ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সামিয়েল মার্ডি প্রমুখ। ইউএনও পলাশ কুমার দেবনাথ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাল, কম্বল ও নগদ টাকা প্রদান করা হয়েছে। জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরে আরও সহযোগিতা করা হবে। এদিকে বড়বাড়ী ইউনিয়নের রূপগঞ্জে একই সময় আগুনে গমখেত পুড়েছে কয়েকজন কৃষকের।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামে যৌথ অভিযানে ভারতীয় ১৩ লাখ টাকার মোবাইলসহ এনামুল আ/টক

বালিয়াডাঙ্গীতে আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়া দেখে অজ্ঞান, হাসপাতালে ভর্তি ।

আপডেট টাইম : ০৭:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫

মোঃ মজিবর রহমান শেখ
ঠাকুরগাঁও :ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের লালাপুর শুকানিপাড়া গ্রামে আগুনে বাড়িঘর পুড়েছে হিসাব উদ্দীনের। এক পা নেই বৃদ্ধ হিসাব উদ্দীনের (৬০)। তারপরও ২ হাজার টাকা বেতনে একটি চাতাল পাহারা এবং ছেলেকে নিয়ে অন্যের জমি বর্গায় চাষাবাদ করে দিন যাচ্ছিল তাঁর। কিন্তু আগুনে নিমেষে ধ্বংস হয়ে গেল তাঁর তিলে তিলে গড়া ঘরবাড়ি। সবকিছু হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে পরিবারটি। ঘটনার বিহ্বলতায় হিসাব উদ্দীনের স্ত্রী মাসুদা বেগম অজ্ঞান হয়ে যান। পরে তাঁকে ভর্তি করা হয় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

গত ১৭ মার্চ সোমবার সকালে আগুনে পুড়েছে তাঁর বাড়ির সবকিছু। তিনিসহ ৯টি পরিবারের আসবাব, ধান, ভুট্টা, চাল, নগদ টাকা সহ প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। হিসাব উদ্দীন বলেন, ‘মোর সব শেষ হই গেইছে, কিছু বাঁচাবা পারুনি, মোর তো একখান পা নাই। মোর স্ত্রী আগিন দেখে অজ্ঞান, ওয়াক হাসপাতালত ভর্তি করিবা হইছে। রোজাডা কেংকরে খুলিম সানকে (সন্ধ্যায়), ওইডারও কোনো বুদ্ধি নাই।’ক্ষতিগ্রস্ত এক পরিবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী রুপালি আক্তার বলেন, ‘আমার পড়ার বইটা পর্যন্ত বাঁচাতে পারিনি। সব পুড়ে গেছে। ঈদের পরে পরীক্ষা। বাবা দিনমজুর। বই কিনে দিবে, নাকি বাড়ি ঘর ঠিক করবে।’ বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার শফিউল্লাহ বসুনিয়া জানান, রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত। প্রচণ্ড রোদ ও বাতাস থাকায় দ্রুত ছড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা খবর পাওয়ামাত্র ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। বাতাস না হলে আগুন এত দূর পর্যন্ত ছড়াত না।’আগুনে পুড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থী রুপালি আক্তারের বইখাতাও। আগুনে পুড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থী রুপালি আক্তারের বইখাতাও।
দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পরিদর্শন করেছেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পলাশ কুমার দেবনাথ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সামিয়েল মার্ডি প্রমুখ। ইউএনও পলাশ কুমার দেবনাথ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাল, কম্বল ও নগদ টাকা প্রদান করা হয়েছে। জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরে আরও সহযোগিতা করা হবে। এদিকে বড়বাড়ী ইউনিয়নের রূপগঞ্জে একই সময় আগুনে গমখেত পুড়েছে কয়েকজন কৃষকের।


প্রিন্ট