ঢাকা ১০:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংস্কৃতির বিকাশেই গড়ে উঠবে মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম : ত্রাণমন্ত্রী জুমার নামাজ শেষে দোয়া-মোনাজাত মাধ্যমে পিরোজপুরে আল্লামা সাঈদীর তৃতীয় শাহাদাত বার্ষিকী পালিত সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে কাভারভ্যানসহ ২২ লাখ টাকার অবৈধ তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানিক প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া বিয়ে করে তালাকদিয়ে বিয়ে না করে সংসার করছে নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে যুক্ত হচ্ছে আরও ৫০০ বেড, কাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল : দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকটে ৩৫ টি পোশাক কারখানা বন্ধ উৎপাদনে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

মোদিকে বিশিষ্টজনদের চিঠি জয় শ্রীরামের নামে গণপিটুনি-হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,সিটিজেন নিউজ: জয় শ্রীরাম কিংবা জয় হনুমানের মতো ধর্মীয় স্লোগান না বলার কারণে ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের নানাভাবে নির্যাতন, হেনস্থা ও হত্যার ঘটনা ক্রমাগত বাড়তে থাকার প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখেছেন ভারতের বিশিষ্ট নাগরিকরা।

কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার এক অনলাইন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশিষ্ট এসব নাগরিকরা প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে অবিলম্বে ধর্মের নামে এই উন্মাদন বন্ধকরাসহ দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেতা, লেখক, সাহিত্যিক, সমাজসেবী, চিকিৎসক, পরিবেশবিদ, ভাস্কর, চিত্রকর, শিক্ষাবিদ, গায়কসহ বিভিন্ন পেশার ৪৯ বিশিষ্টজন প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। নিজেদের শান্তিকামী ও গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ উল্লেখ করে গণপিটুনি ও ধর্মের নামে চলমান উন্মাদনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

আদুর গোপালকৃষ্ণন, গৌতম ঘোষ, শ্যাম বেনেগালের মতো খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালকের পাশাপাশি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন কলকাতার নামকরা অভিনয়শিল্পী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অপর্ণা সেন, কৌশিক সেন ছাড়া মতো চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্টজনেরা।

বিশেষ করে দলিত ও মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার ও গণপিটুনির জন্য তারা কেন্দ্র সরকারকে দায়ী করেছেন। চিঠির শুরুতেই এসব বিশিষ্টজনেরা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে।

চিঠিতে তারা লিখেছেন, ‘ভারত ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে যে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমানাধিকার। সংবিধানই সেই অধিকার দিয়েছে।’ ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (এনসিআরবি) পরিসংখ্যান তুলে ধরে তারা বলেন, ২০১৬ সালে দলিতদের ওপর ৮৪০টি অত্যাচারের ঘটনা ঘটেছে।

তারা বলছেন, এসব ক্ষেত্রে দোষীদের বিচার হয়েছে এমন নজির প্রায় নেই বললেই চলে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমীক্ষা ও রিপোর্টের উল্লেখ করে গণপিটুনি ও অন্যান্য অত্যাচারের ঘটনার পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে চিঠিতে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি, এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের এবং দ্রুত ও নিশ্চিতভাবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’

জয় শ্রীরাম কিংবা জয় হনুমান না বলায় মারধর ও গণপিটুনির মতো ঘটনা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায়ই ঘটছে। সম্প্রতি বিহারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবক জয় শ্রীরাম না বলায় তাকে গণপিটুনিতে হত্যা করা।

মোদিকে চিঠি দেয়া এসব বিশিষ্টজনরা বলছেন, ‘জয় শ্রীরাম এখন এক যুদ্ধের হুঙ্কার। এই স্লোগানকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো এই উন্মদনা হচ্ছে ধর্মের নামে। এটা তো মধ্যযুগ নয়। রামের নামে এই উন্মাদনা আপনি অবিলম্বে বন্ধ করুন।’


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কৃতির বিকাশেই গড়ে উঠবে মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম : ত্রাণমন্ত্রী

মোদিকে বিশিষ্টজনদের চিঠি জয় শ্রীরামের নামে গণপিটুনি-হত্যা

আপডেট টাইম : ১১:৪৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,সিটিজেন নিউজ: জয় শ্রীরাম কিংবা জয় হনুমানের মতো ধর্মীয় স্লোগান না বলার কারণে ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের নানাভাবে নির্যাতন, হেনস্থা ও হত্যার ঘটনা ক্রমাগত বাড়তে থাকার প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখেছেন ভারতের বিশিষ্ট নাগরিকরা।

কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার এক অনলাইন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশিষ্ট এসব নাগরিকরা প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে অবিলম্বে ধর্মের নামে এই উন্মাদন বন্ধকরাসহ দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেতা, লেখক, সাহিত্যিক, সমাজসেবী, চিকিৎসক, পরিবেশবিদ, ভাস্কর, চিত্রকর, শিক্ষাবিদ, গায়কসহ বিভিন্ন পেশার ৪৯ বিশিষ্টজন প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। নিজেদের শান্তিকামী ও গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ উল্লেখ করে গণপিটুনি ও ধর্মের নামে চলমান উন্মাদনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

আদুর গোপালকৃষ্ণন, গৌতম ঘোষ, শ্যাম বেনেগালের মতো খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালকের পাশাপাশি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন কলকাতার নামকরা অভিনয়শিল্পী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অপর্ণা সেন, কৌশিক সেন ছাড়া মতো চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্টজনেরা।

বিশেষ করে দলিত ও মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার ও গণপিটুনির জন্য তারা কেন্দ্র সরকারকে দায়ী করেছেন। চিঠির শুরুতেই এসব বিশিষ্টজনেরা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে।

চিঠিতে তারা লিখেছেন, ‘ভারত ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে যে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমানাধিকার। সংবিধানই সেই অধিকার দিয়েছে।’ ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (এনসিআরবি) পরিসংখ্যান তুলে ধরে তারা বলেন, ২০১৬ সালে দলিতদের ওপর ৮৪০টি অত্যাচারের ঘটনা ঘটেছে।

তারা বলছেন, এসব ক্ষেত্রে দোষীদের বিচার হয়েছে এমন নজির প্রায় নেই বললেই চলে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমীক্ষা ও রিপোর্টের উল্লেখ করে গণপিটুনি ও অন্যান্য অত্যাচারের ঘটনার পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে চিঠিতে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি, এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের এবং দ্রুত ও নিশ্চিতভাবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’

জয় শ্রীরাম কিংবা জয় হনুমান না বলায় মারধর ও গণপিটুনির মতো ঘটনা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায়ই ঘটছে। সম্প্রতি বিহারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবক জয় শ্রীরাম না বলায় তাকে গণপিটুনিতে হত্যা করা।

মোদিকে চিঠি দেয়া এসব বিশিষ্টজনরা বলছেন, ‘জয় শ্রীরাম এখন এক যুদ্ধের হুঙ্কার। এই স্লোগানকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো এই উন্মদনা হচ্ছে ধর্মের নামে। এটা তো মধ্যযুগ নয়। রামের নামে এই উন্মাদনা আপনি অবিলম্বে বন্ধ করুন।’


প্রিন্ট