ঢাকা ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তরুণদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশে জবিতে ‘ইউথ ইমপ্যাক্ট সামিট’ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের একটি পরীক্ষা স্থগিত অনফিশিয়াল টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ইনিংস ও ৪১৩ রানের হার বাংলাদেশ এ দলের ‘কালো দাগ’ মুক্ত সিরিয়া, খুললো উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক: এলজিআরডি মন্ত্রী দেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা দিতে চায় ইউএনডিপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য সুখবর ব্ল্যাক কফি কী সত্যিই ওজন কমাতে পারে? ঝগড়ার পরে সম্পর্ক ঠিক করতে কী করবেন?

টক্সিক কর্মী হওয়ার লক্ষণগুলো কি আপনার আছে?

সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: অনেকেই মনে করেন, অফিসে তাদের সঙ্গে কাজ করা সহজ এবং তারা দলকে উৎসাহিত করে। কিন্তু অজান্তেই কিছু অভ্যাস অন্যদের জন্য কাজকে জটিল করে তুলতে পারে। পরচর্চা করা, অন্যের কৃতিত্ব কেড়ে নেওয়া, ক্রমাগত নেতিবাচক মনোভাব বা ভুলের জন্য অন্যকে দায় চাপানো এসব আচরণ সহকর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি করে এবং আপনাকে টক্সিক কর্মী হিসেবে চিহ্নিত করে। নিজেকে বোঝার জন্য কিছু সংকেত আছে, যা আপনার আচরণ পরীক্ষা করতে সাহায্য করবে। এবার দেখে নেওয়া যাক, টক্সিক হওয়ার সম্ভাব্য লক্ষণগুলো।

পরচর্চা বা গুজব ছড়ানো
যদি আপনার কথাবার্তায় প্রায়ই ‘আমি অমুক সম্পর্কে শুনেছি’ বা ‘কেউ বলছে, কিন্তু…’ জাতীয় বাক্য থাকে, তবে আপনি হয়তো অফিসে পরচর্চাকারী। এ ধরনের আচরণ ভুল তথ্য ছড়ায়, উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং সতীর্থদের মধ্যে আত্মরক্ষামূলক মনোভাব জাগায়। নিজের কথা যাচাই করুন ‘যদি কেউ আমার সম্পর্কে এমন বলতো, আমি কি খুশি হতাম?’। কাজ-কেন্দ্রিক ও ইতিবাচক কথাবার্তা বিশ্বাস পুনর্নির্মাণে সাহায্য করে এবং আপনাকে এমন একজন করে তোলে, যার পাশে অন্যরা নিরাপদ বোধ করে।

অন্যের কৃতিত্ব কেড়ে নেওয়া
যদি দলের সাফল্যকে নিজের একক অর্জন হিসেবে দেখেন, তবে এটি আপনার সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর। কঠিন কাজের কৃতিত্ব নিজে নিতে গেলে সহকর্মীদের মধ্যে বিশ্বাস হারিয়ে যায়। ‘আমার’ শব্দের বদলে ‘আমাদের’ ব্যবহার করুন এবং দেখুন কিভাবে সহকর্মীরা আপনাকে পাশে নিয়ে দাঁড়ায়।

ক্রমাগত অভিযোগ করা
কাজের চাপ কখনো অনেকের জন্যই বিরক্তিকর হয়, কিন্তু যদি নিয়মিত হতাশাজনক মন্তব্য বা দীর্ঘশ্বাস ফেলার অভ্যাস থাকে, আপনি দলের উচ্ছ্বাস নষ্ট করতে পারেন। নেতিবাচকতা সংক্রামক; এটি মিটিং এবং কাজের উদ্দীপনাকে কমিয়ে দেয়। সমালোচনামূলক চিন্তা ভিন্ন, কিন্তু শুধুমাত্র অভিযোগ করা ক্ষতিকর।

ভুলের জন্য অন্যদের দায় চাপানো
নিজের ভুল অন্যের ওপর চাপানো কাজকে অস্বস্তিকর করে তোলে। নিজের ভুল স্বীকার করা এবং সমাধানের প্রস্তাব রাখা একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ। সততা এবং দায়িত্বশীল আচরণ সহকর্মীদের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করে।

সূক্ষ্মভাবে অন্যদের ক্ষতি করা
টক্সিক আচরণ অনেক সময় সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ পায়। যেমন-কথার মাঝে বাধা দেওয়া, অন্যের বাক্য শেষ করা, ইমেইলে ছোটখাটো ভুলের দায় চাপানো বা মিটিংয়ে প্রশ্নের আড়ালে যোগ্যতা কমিয়ে দেখানো। এই ছোট ছোট কাজগুলো সহকর্মীর আত্মবিশ্বাস নষ্ট করতে পারে। যদি প্রায়ই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে শেষ মুহূর্তে তথ্য পান, এটি ইঙ্গিত দেয় যে আপনার আচরণ অন্যদের দূরে ঠেলে দিচ্ছে।

নিজের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে এই দিকগুলো চিহ্নিত করলে আপনি পরিবর্তন আনতে পারেন এবং অফিসের পরিবেশকে আরও ইতিবাচক ও সহায়ক করে তুলতে পারবেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশে জবিতে ‘ইউথ ইমপ্যাক্ট সামিট’

টক্সিক কর্মী হওয়ার লক্ষণগুলো কি আপনার আছে?

আপডেট টাইম : ০৪:৪৭:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: অনেকেই মনে করেন, অফিসে তাদের সঙ্গে কাজ করা সহজ এবং তারা দলকে উৎসাহিত করে। কিন্তু অজান্তেই কিছু অভ্যাস অন্যদের জন্য কাজকে জটিল করে তুলতে পারে। পরচর্চা করা, অন্যের কৃতিত্ব কেড়ে নেওয়া, ক্রমাগত নেতিবাচক মনোভাব বা ভুলের জন্য অন্যকে দায় চাপানো এসব আচরণ সহকর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি করে এবং আপনাকে টক্সিক কর্মী হিসেবে চিহ্নিত করে। নিজেকে বোঝার জন্য কিছু সংকেত আছে, যা আপনার আচরণ পরীক্ষা করতে সাহায্য করবে। এবার দেখে নেওয়া যাক, টক্সিক হওয়ার সম্ভাব্য লক্ষণগুলো।

পরচর্চা বা গুজব ছড়ানো
যদি আপনার কথাবার্তায় প্রায়ই ‘আমি অমুক সম্পর্কে শুনেছি’ বা ‘কেউ বলছে, কিন্তু…’ জাতীয় বাক্য থাকে, তবে আপনি হয়তো অফিসে পরচর্চাকারী। এ ধরনের আচরণ ভুল তথ্য ছড়ায়, উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং সতীর্থদের মধ্যে আত্মরক্ষামূলক মনোভাব জাগায়। নিজের কথা যাচাই করুন ‘যদি কেউ আমার সম্পর্কে এমন বলতো, আমি কি খুশি হতাম?’। কাজ-কেন্দ্রিক ও ইতিবাচক কথাবার্তা বিশ্বাস পুনর্নির্মাণে সাহায্য করে এবং আপনাকে এমন একজন করে তোলে, যার পাশে অন্যরা নিরাপদ বোধ করে।

অন্যের কৃতিত্ব কেড়ে নেওয়া
যদি দলের সাফল্যকে নিজের একক অর্জন হিসেবে দেখেন, তবে এটি আপনার সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর। কঠিন কাজের কৃতিত্ব নিজে নিতে গেলে সহকর্মীদের মধ্যে বিশ্বাস হারিয়ে যায়। ‘আমার’ শব্দের বদলে ‘আমাদের’ ব্যবহার করুন এবং দেখুন কিভাবে সহকর্মীরা আপনাকে পাশে নিয়ে দাঁড়ায়।

ক্রমাগত অভিযোগ করা
কাজের চাপ কখনো অনেকের জন্যই বিরক্তিকর হয়, কিন্তু যদি নিয়মিত হতাশাজনক মন্তব্য বা দীর্ঘশ্বাস ফেলার অভ্যাস থাকে, আপনি দলের উচ্ছ্বাস নষ্ট করতে পারেন। নেতিবাচকতা সংক্রামক; এটি মিটিং এবং কাজের উদ্দীপনাকে কমিয়ে দেয়। সমালোচনামূলক চিন্তা ভিন্ন, কিন্তু শুধুমাত্র অভিযোগ করা ক্ষতিকর।

ভুলের জন্য অন্যদের দায় চাপানো
নিজের ভুল অন্যের ওপর চাপানো কাজকে অস্বস্তিকর করে তোলে। নিজের ভুল স্বীকার করা এবং সমাধানের প্রস্তাব রাখা একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ। সততা এবং দায়িত্বশীল আচরণ সহকর্মীদের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করে।

সূক্ষ্মভাবে অন্যদের ক্ষতি করা
টক্সিক আচরণ অনেক সময় সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ পায়। যেমন-কথার মাঝে বাধা দেওয়া, অন্যের বাক্য শেষ করা, ইমেইলে ছোটখাটো ভুলের দায় চাপানো বা মিটিংয়ে প্রশ্নের আড়ালে যোগ্যতা কমিয়ে দেখানো। এই ছোট ছোট কাজগুলো সহকর্মীর আত্মবিশ্বাস নষ্ট করতে পারে। যদি প্রায়ই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে শেষ মুহূর্তে তথ্য পান, এটি ইঙ্গিত দেয় যে আপনার আচরণ অন্যদের দূরে ঠেলে দিচ্ছে।

নিজের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে এই দিকগুলো চিহ্নিত করলে আপনি পরিবর্তন আনতে পারেন এবং অফিসের পরিবেশকে আরও ইতিবাচক ও সহায়ক করে তুলতে পারবেন।


প্রিন্ট