ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুড়িগ্রামে যৌথ অভিযানে ভারতীয় ১৩ লাখ টাকার মোবাইলসহ এনামুল আ/টক নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের ২০২৬-২০২৮ সাধারণ গ্রুপের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে তালম ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম গোদাগাড়ীতে মাদকের বিরুদ্ধে জিডি ও তরুণীর অনশন উন্মোচিত চার ভাইয়ের অপরাধ সাম্রাজ্য নরসিংদী তে জনস্বার্থে মোবাইল কোর্ট জনগণের ভালোবাসায় মির্জা ফখরুল: নীতি, আদর্শ ও নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ সংসদ কক্ষে নিজের আসনে বসে ভোট গ্রহণ দেখলেন প্রধানমন্ত্রী শিশু ভূমিষ্ট হওয়ার পর আপনারা যেমন তার যত্ন করেন ঠিক সেইভাবে শিশু চারাটিকেও প্রতিদিন যত্ন করতে হবে-ইউএনও, এটিএম কামরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে বঙ্গভবনে বিদায়ী সংবর্ধনা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রত্যাশা সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের

পরিবারের বড় সন্তানেরা কেন বেশি সফল হয়, গবেষণায় মিলল ভিন্ন ব্যাখ্যা

সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: পড়াশোনা থেকে শুরু করে কর্মজীবনের আয়; সাফল্যের প্রায় সব মাপকাঠিতেই পরিবারের বড় সন্তানরা বেশ এগিয়ে থাকে। ছোট ভাইবোনদের জন্য খবরটা একটু মন খারাপ করা হতে পারে।এতদিন একে কেবল সামাজিক সংস্কার বা ‘স্টেরিওটাইপ’ মনে করা হলেও সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ। বিশেষ করে শৈশবে জীবাণুর সংক্রমণ এবং মা-বাবার মনোযোগের তারতম্য এই পার্থক্যের মূল কারণ।

জীবাণুর আক্রমণ ও মস্তিষ্কের বিকাশ
যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ডেনমার্কের গবেষকদের একটি যৌথ গবেষণাপত্রে দেখা গেছে, বড় ভাই-বোনেরা অনেক সময় ছোটদের জন্য রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে। ডেনমার্কের প্রশাসনিক তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকরা জানান, বড় সন্তানদের তুলনায় ছোটরা জন্মের প্রথম বছরেই মারাত্মক শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির হওয়ার ঝুঁকি দুই থেকে তিনগুণ বেশি থাকে।

শৈশবের এই অসুস্থতা সরাসরি মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা দেয়। শরীর যখন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে, তখন মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সেখানে ব্যয় হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে প্রভাব ফেলে।

আয়ের বৈষম্য ও শারীরিক প্রভাব
নরওয়ের একটি জনসংখ্যাভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, বড়দের তুলনায় ছোটরা দ্রুত শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়ে এবং প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তাদের আয়ও তুলনামূলক কম হয়। প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তারা আয়ও কম করে এবং পরবর্তী প্রতিটি সন্তানের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। এমনকি ছোট বোনদের ক্ষেত্রে কিশোরী বয়সে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার সম্ভাব্যতাও বেশি থাকে।

ডেনমার্কের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের মধ্যে আয়ের যে ১ দশমিক ৯ শতাংশ পার্থক্য থাকে, তার অর্ধেকটাই নির্ধারিত হয়ে যায় শৈশবের এই স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে।

মা-বাবার মনোযোগ: বড় ফ্যাক্টর
ছোট ভাই-বোনেরা প্রায়ই যে অভিযোগ করে—বড়রা বেশি মনোযোগ পায় এবং তাদের এই অভিযোগ সত্য। যুক্তরাষ্ট্রের ‘টাইম-ইউজ’ ডেটা দেখায়, পুরো শৈশবজুড়ে বড় সন্তানেরা সমবয়সী দ্বিতীয় সন্তানের তুলনায় প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট বেশি ‘কোয়ালিটি টাইম’ বা গুণগত সময় উপভোগ করে।

গবেষকদের মতে, মা-বাবারা নির্দিষ্ট সময়ে সন্তানদের মধ্যে মনোযোগ সমানভাবে ভাগ করার চেষ্টা করেন। তবে পরবর্তী সন্তানদের যত্নের প্রয়োজন বেশি থাকায় প্রথম সন্তানেরা শৈশবজুড়ে মোট সময় বেশি পেয়ে যায়। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শুরুর সময়ে এই অতিরিক্ত মানসিক উদ্দীপনা বড় সন্তানের মস্তিষ্কের বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ছোট ভাইবোনদের অভিযোগ একেবারে অমূলক নয়।

 


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামে যৌথ অভিযানে ভারতীয় ১৩ লাখ টাকার মোবাইলসহ এনামুল আ/টক

পরিবারের বড় সন্তানেরা কেন বেশি সফল হয়, গবেষণায় মিলল ভিন্ন ব্যাখ্যা

আপডেট টাইম : ০৪:৪২:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: পড়াশোনা থেকে শুরু করে কর্মজীবনের আয়; সাফল্যের প্রায় সব মাপকাঠিতেই পরিবারের বড় সন্তানরা বেশ এগিয়ে থাকে। ছোট ভাইবোনদের জন্য খবরটা একটু মন খারাপ করা হতে পারে।এতদিন একে কেবল সামাজিক সংস্কার বা ‘স্টেরিওটাইপ’ মনে করা হলেও সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ। বিশেষ করে শৈশবে জীবাণুর সংক্রমণ এবং মা-বাবার মনোযোগের তারতম্য এই পার্থক্যের মূল কারণ।

জীবাণুর আক্রমণ ও মস্তিষ্কের বিকাশ
যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ডেনমার্কের গবেষকদের একটি যৌথ গবেষণাপত্রে দেখা গেছে, বড় ভাই-বোনেরা অনেক সময় ছোটদের জন্য রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে। ডেনমার্কের প্রশাসনিক তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকরা জানান, বড় সন্তানদের তুলনায় ছোটরা জন্মের প্রথম বছরেই মারাত্মক শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির হওয়ার ঝুঁকি দুই থেকে তিনগুণ বেশি থাকে।

শৈশবের এই অসুস্থতা সরাসরি মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা দেয়। শরীর যখন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে, তখন মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সেখানে ব্যয় হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে প্রভাব ফেলে।

আয়ের বৈষম্য ও শারীরিক প্রভাব
নরওয়ের একটি জনসংখ্যাভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, বড়দের তুলনায় ছোটরা দ্রুত শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়ে এবং প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তাদের আয়ও তুলনামূলক কম হয়। প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তারা আয়ও কম করে এবং পরবর্তী প্রতিটি সন্তানের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। এমনকি ছোট বোনদের ক্ষেত্রে কিশোরী বয়সে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার সম্ভাব্যতাও বেশি থাকে।

ডেনমার্কের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের মধ্যে আয়ের যে ১ দশমিক ৯ শতাংশ পার্থক্য থাকে, তার অর্ধেকটাই নির্ধারিত হয়ে যায় শৈশবের এই স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে।

মা-বাবার মনোযোগ: বড় ফ্যাক্টর
ছোট ভাই-বোনেরা প্রায়ই যে অভিযোগ করে—বড়রা বেশি মনোযোগ পায় এবং তাদের এই অভিযোগ সত্য। যুক্তরাষ্ট্রের ‘টাইম-ইউজ’ ডেটা দেখায়, পুরো শৈশবজুড়ে বড় সন্তানেরা সমবয়সী দ্বিতীয় সন্তানের তুলনায় প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট বেশি ‘কোয়ালিটি টাইম’ বা গুণগত সময় উপভোগ করে।

গবেষকদের মতে, মা-বাবারা নির্দিষ্ট সময়ে সন্তানদের মধ্যে মনোযোগ সমানভাবে ভাগ করার চেষ্টা করেন। তবে পরবর্তী সন্তানদের যত্নের প্রয়োজন বেশি থাকায় প্রথম সন্তানেরা শৈশবজুড়ে মোট সময় বেশি পেয়ে যায়। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শুরুর সময়ে এই অতিরিক্ত মানসিক উদ্দীপনা বড় সন্তানের মস্তিষ্কের বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ছোট ভাইবোনদের অভিযোগ একেবারে অমূলক নয়।

 


প্রিন্ট