ঢাকা ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী আমরা দেশ ও জনগণের জন্য এনসিপিসহ একসঙ্গে কাজ করছি: জামায়াত আমির ঢাকায় যাত্রাবিরতি ভুটানের রাজার, স্বাগত জানালেন রাষ্ট্রপতি আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) তরুণদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশে জবিতে ‘ইউথ ইমপ্যাক্ট সামিট’ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের একটি পরীক্ষা স্থগিত অনফিশিয়াল টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ইনিংস ও ৪১৩ রানের হার বাংলাদেশ এ দলের ‘কালো দাগ’ মুক্ত সিরিয়া, খুললো উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক: এলজিআরডি মন্ত্রী

সংসদে এনসিপি অনেক ভোকাল, বিরোধীদল হিসেবে জামায়াত দুর্বল: রুমিন ফারহানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংসদে বিরোধী জোটের মধ্যে এনসিপি বেশি ভোকাল ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। আবার জামায়াতে ইসলামীকে বিরোধীদল হিসেবে কিছুটা দুর্বল মনে হয়েছে তার।

জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

বর্তমান সংসদে বিরোধী দল এনসিপি ও জামায়াত যে জোট তাদের সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, আমি কে তাদের পারফরমেন্স জাজ করার। তবে আমার কাছে এনসিপির বক্তব্য থেকে মনে হয়েছে এটা আদর্শিক জোট নয়, এটি নির্বাচনি এবং কৌশলগত একটি জোট, যেটা এনসিপি বলেছে।

রুমিন আরও বলেন, আমি সংসদে আর ১০ জন সাধারণ দর্শকের মতো যেটা দেখেছি- আমার কাছে মনে হয়েছে এনসিপি অনেক বেশি ভোকাল, অনেক বেশি চেষ্টা করছে সংসদে একটা শক্ত বিরোধী প্রভাব তৈরি করার। সে ক্ষেত্রে আমার জামায়াতকে কিছুটা দুর্বল মনে হয়েছে এবং এটা শুধু আমার পর্যবেক্ষণ না, এটা অন্যান্য অনেকের সঙ্গে কথা বলে আমি এই ফিডব্যাক পেয়েছি।

বিরোধী দলের দুর্বলতা বলতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, আমাদের জুলাই সনদ নিয়ে দুই দিনের দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে মুলতবি প্রস্তাবের উপর। সেখানে সরকারি দল আইনি পয়েন্টগুলো যেভাবে ক্লিয়ার করেছে তার পাল্টা আইনি যুক্তিতর্ক বিরোধী দলের কাছ থেকে পাই নাই আমরা। সরকারি দলে যেমন আইনজীবী আছেন, বিরোধী দলেও কিন্তু প্র্যাকটিসিং আইনজীবী আছেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, সাধারণ মানুষ আশা করেছিল- আইনি যুক্তিতর্ক আরও অনেক জোরদারভাবে বিরোধী দল উপস্থাপন করবে হয়তো। কিন্তু আমরা সে জায়গায় এক ধরনের কমতি লক্ষ্য করেছি। অনেক বেশি আবেগময় বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তাতে কোন দোষনীয় কিছু না। রাজনীতি আবেগের বাইরে নয়। তবে যেহেতু আইনি ব্যাপারগুলোর উপর বারবার আলোকপাত করা হয়েছে। আমার মনে হয়েছে আরও অনেক বেশি জোরালোভাবে আইনি যুক্তিতর্ক দেওয়া যেত।

স্বতন্ত্র এ সংসদ সদস্য আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইন কিংবা বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ সচিবালয় প্রতিষ্ঠা অর্থাৎ বিচার বিভাগকে একটা আধুনিক বিচার বিভাগ এবং স্বাধীন নিরপেক্ষ একটা বিচার বিভাগ করার জন্য যেই পদক্ষেপগুলো শুরু হয়েছিল, সেই মাজদার হোসেন মামলা ১৯৯৯ সাল থেকে সেটা কিন্তু আজকে ২০২৬- এ এসেও মুখ থুবড়ে পড়েছে। এমনকি মাজদার হোসেনের বার কাউন্সিল সনদ স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে পার্লামেন্টের ঝড় তোলা যেত। আমরা আশা করেছিলাম বিরোধী দল এই ঝড়টা তুলতে পারবে।

আপনি (রুমিন ফারহানা) এ বিষয়ে সংসদে ঝড়তে তুলতে পারতেন কিনা প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, খুব ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে সরকারি দল বোধগম্য কারণেই আমাকে এক মিনিটও সময় দিতে চায় নাই এ বিষয়ে কথা বলতে। চিফ হুইপের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখতে পারেন, আমি কত লক্ষ বার চিফ হুইপকে অনুরোধ করেছিলাম জুলাই সনদ আলোচনায় আমাকে পাঁচটা মিনিট সময় দেওয়ার জন্য। উনি ওনার বসের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আসবেন এবং বস নিশ্চিতভাবে অনুমতি দেয় নাই।

রুমিন বলেন, কিন্তু অবাক করার বিষয় বিরোধী দলও নিজেকে এতই কম্পিটেন্ট মনে করে যে, তারা ভেবেছে রুমিন ফারহানার আর কথা বলার দরকার নাই। তাই আমি বিরোধী দল থেকেও সময় পাই নাই। সরকারি দল থেকেও সময় পাই নাই।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী

সংসদে এনসিপি অনেক ভোকাল, বিরোধীদল হিসেবে জামায়াত দুর্বল: রুমিন ফারহানা

আপডেট টাইম : ১০:৪৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংসদে বিরোধী জোটের মধ্যে এনসিপি বেশি ভোকাল ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। আবার জামায়াতে ইসলামীকে বিরোধীদল হিসেবে কিছুটা দুর্বল মনে হয়েছে তার।

জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

বর্তমান সংসদে বিরোধী দল এনসিপি ও জামায়াত যে জোট তাদের সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, আমি কে তাদের পারফরমেন্স জাজ করার। তবে আমার কাছে এনসিপির বক্তব্য থেকে মনে হয়েছে এটা আদর্শিক জোট নয়, এটি নির্বাচনি এবং কৌশলগত একটি জোট, যেটা এনসিপি বলেছে।

রুমিন আরও বলেন, আমি সংসদে আর ১০ জন সাধারণ দর্শকের মতো যেটা দেখেছি- আমার কাছে মনে হয়েছে এনসিপি অনেক বেশি ভোকাল, অনেক বেশি চেষ্টা করছে সংসদে একটা শক্ত বিরোধী প্রভাব তৈরি করার। সে ক্ষেত্রে আমার জামায়াতকে কিছুটা দুর্বল মনে হয়েছে এবং এটা শুধু আমার পর্যবেক্ষণ না, এটা অন্যান্য অনেকের সঙ্গে কথা বলে আমি এই ফিডব্যাক পেয়েছি।

বিরোধী দলের দুর্বলতা বলতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, আমাদের জুলাই সনদ নিয়ে দুই দিনের দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে মুলতবি প্রস্তাবের উপর। সেখানে সরকারি দল আইনি পয়েন্টগুলো যেভাবে ক্লিয়ার করেছে তার পাল্টা আইনি যুক্তিতর্ক বিরোধী দলের কাছ থেকে পাই নাই আমরা। সরকারি দলে যেমন আইনজীবী আছেন, বিরোধী দলেও কিন্তু প্র্যাকটিসিং আইনজীবী আছেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, সাধারণ মানুষ আশা করেছিল- আইনি যুক্তিতর্ক আরও অনেক জোরদারভাবে বিরোধী দল উপস্থাপন করবে হয়তো। কিন্তু আমরা সে জায়গায় এক ধরনের কমতি লক্ষ্য করেছি। অনেক বেশি আবেগময় বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তাতে কোন দোষনীয় কিছু না। রাজনীতি আবেগের বাইরে নয়। তবে যেহেতু আইনি ব্যাপারগুলোর উপর বারবার আলোকপাত করা হয়েছে। আমার মনে হয়েছে আরও অনেক বেশি জোরালোভাবে আইনি যুক্তিতর্ক দেওয়া যেত।

স্বতন্ত্র এ সংসদ সদস্য আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইন কিংবা বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ সচিবালয় প্রতিষ্ঠা অর্থাৎ বিচার বিভাগকে একটা আধুনিক বিচার বিভাগ এবং স্বাধীন নিরপেক্ষ একটা বিচার বিভাগ করার জন্য যেই পদক্ষেপগুলো শুরু হয়েছিল, সেই মাজদার হোসেন মামলা ১৯৯৯ সাল থেকে সেটা কিন্তু আজকে ২০২৬- এ এসেও মুখ থুবড়ে পড়েছে। এমনকি মাজদার হোসেনের বার কাউন্সিল সনদ স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে পার্লামেন্টের ঝড় তোলা যেত। আমরা আশা করেছিলাম বিরোধী দল এই ঝড়টা তুলতে পারবে।

আপনি (রুমিন ফারহানা) এ বিষয়ে সংসদে ঝড়তে তুলতে পারতেন কিনা প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, খুব ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে সরকারি দল বোধগম্য কারণেই আমাকে এক মিনিটও সময় দিতে চায় নাই এ বিষয়ে কথা বলতে। চিফ হুইপের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখতে পারেন, আমি কত লক্ষ বার চিফ হুইপকে অনুরোধ করেছিলাম জুলাই সনদ আলোচনায় আমাকে পাঁচটা মিনিট সময় দেওয়ার জন্য। উনি ওনার বসের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আসবেন এবং বস নিশ্চিতভাবে অনুমতি দেয় নাই।

রুমিন বলেন, কিন্তু অবাক করার বিষয় বিরোধী দলও নিজেকে এতই কম্পিটেন্ট মনে করে যে, তারা ভেবেছে রুমিন ফারহানার আর কথা বলার দরকার নাই। তাই আমি বিরোধী দল থেকেও সময় পাই নাই। সরকারি দল থেকেও সময় পাই নাই।


প্রিন্ট