ঢাকা ১২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের দুর্বৃত্তদের ছিটানো বিষে মারা গেছে সাড়ে ৪ লাখ টাকার পোনা কাপ্তাই লেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বিশ্বের জন্য লজ্জার: মিশরের কোচ হোসাম হাসান ন্যাটো সম্মেলনের আগে মস্কোর দিকে ৪০০-র বেশি ড্রোন নিক্ষেপ ইউক্রেনের “ময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির ক্ষোভে রুবেল হত্যা, গ্রেপ্তার ৪” মিথ্যা অপপ্রচার দিয়ে ভালো উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করা হয় মনোয়ার হোসেন জীবন ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে শুরু হলো ‘গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল কুড়িগ্রামে আধুনিক হাঁস পালন সম্প্রসারণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার, বাড়ছে খামারিদের আগ্রহ হিসাবে গড়মিলের অভিযোগে আলোচনায় বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়

পরিশ্রম না করেও সারাক্ষণ ঘুম পায়; জেনে নিন কারণ ও করণীয়

সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: নিজস্ব প্রতিবেদক: পর্যাপ্ত পরিশ্রম না করেও যদি সারাক্ষণ ঘুম ঘুম লাগে বা ক্লান্তি অনুভূত হয়, তাহলে বিষয়টিকে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু অলসতার লক্ষণ নয়; বরং শরীরের বিভিন্ন শারীরিক বা মানসিক সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এমন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞের মতে, ঘুম শুধু শারীরিক ক্লান্তির কারণে আসে না। দীর্ঘ সময় একই ধরনের একঘেয়ে কাজ করা, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শরীরচর্চার অভাব কিংবা রাতের শিফটে কাজ করার কারণেও দিনের বেলায় ঘুম ঘুম ভাব দেখা দিতে পারে।

এছাড়া শরীরের বিভিন্ন হরমোনের পরিবর্তনও এর অন্যতম কারণ। বিশেষ করে থাইরয়েড হরমোন কমে গেলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। তখন ক্লান্তি, অবসাদ ও অতিরিক্ত ঘুমের প্রবণতা দেখা দেয়।

সবজি দেখলেই মুখ ঘুরিয়ে নেয় শিশু? সহজ ৬ উপায়েই বদলে যাবে অভ্যাস
ডায়াবেটিস থাকলেও এমন সমস্যা হতে পারে। রক্তে শর্করার মাত্রা খুব বেশি বেড়ে গেলে বা হঠাৎ কমে গেলেও শরীরে দুর্বলতা ও তন্দ্রাভাব তৈরি হয়।

চিকিৎসকেরা আরও জানান, কিডনি বা লিভারের জটিলতা থাকলে শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলেও সারাক্ষণ ঘুম পেতে পারে।

ডায়রিয়া বা বমির কারণে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের হয়ে গেলে দুর্বলতা ও ঘুম ঘুম ভাব দেখা দেয়। একইভাবে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হলেও ক্লান্তি ও মাথা ঝিমঝিমের সঙ্গে ঘুম পেতে পারে।

রক্তশূন্যতা থাকলেও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না। ফলে সারাক্ষণ ক্লান্তি ও ঘুমের অনুভূতি তৈরি হয়।

ভাইরাসজনিত সংক্রমণের সময় এবং অনেক ক্ষেত্রে সুস্থ হওয়ার পরও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত এই সমস্যা থাকতে পারে। আবার রাতে ভালোভাবে ঘুম না হলে বা ঘুমের সময় শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি হলে দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম আসে।

অতিরিক্ত ওজন, মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এমন হতে পারে। বিশেষ করে ঠান্ডা, অ্যালার্জি, ব্যথানাশক বা উদ্বেগ কমানোর কিছু ওষুধ ঘুমের প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।

যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে

ঘুম ঘুম ভাবের পাশাপাশি আরও কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন—

১. সব সময় ক্লান্তি ও অবসাদ লাগা
২. মাথাব্যথা বা মাথা ঝিমঝিম করা
৩. খিটখিটে মেজাজ
৪. মনোযোগ ও স্মরণশক্তি কমে যাওয়া
৫. কাজের দক্ষতা কমে যাওয়া

কী করবেন?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কয়েকটি অভ্যাস বদলালেই অনেক ক্ষেত্রে এই সমস্যা কমানো সম্ভব।

১. প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠুন।
২. পর্যাপ্ত সময় ঘুমান।
৩. দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকবেন না এবং মোবাইল বা পর্দার সামনে সময় কম কাটান।
৪. প্রতিদিন হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করুন।
৫. পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং পুষ্টিকর সুষম খাবার খান।
৬. ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, কিডনি, লিভারের রোগ বা ঘুমের সমস্যায় ভুগলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।
৭. কোনো ওষুধ খাওয়ার পর অতিরিক্ত ঘুম পেলে চিকিৎসককে জানান।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

চিকিৎসকের মতে, মানসিক চাপ, ভাইরাসজনিত অসুস্থতা বা কিছু ওষুধের কারণে কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ঘুম ঘুম ভাব থাকতে পারে। তবে যদি দুই থেকে চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এই সমস্যা থাকে, কর্মক্ষমতা কমে যায় বা দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের

পরিশ্রম না করেও সারাক্ষণ ঘুম পায়; জেনে নিন কারণ ও করণীয়

আপডেট টাইম : ১০:১০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: নিজস্ব প্রতিবেদক: পর্যাপ্ত পরিশ্রম না করেও যদি সারাক্ষণ ঘুম ঘুম লাগে বা ক্লান্তি অনুভূত হয়, তাহলে বিষয়টিকে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু অলসতার লক্ষণ নয়; বরং শরীরের বিভিন্ন শারীরিক বা মানসিক সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এমন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞের মতে, ঘুম শুধু শারীরিক ক্লান্তির কারণে আসে না। দীর্ঘ সময় একই ধরনের একঘেয়ে কাজ করা, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শরীরচর্চার অভাব কিংবা রাতের শিফটে কাজ করার কারণেও দিনের বেলায় ঘুম ঘুম ভাব দেখা দিতে পারে।

এছাড়া শরীরের বিভিন্ন হরমোনের পরিবর্তনও এর অন্যতম কারণ। বিশেষ করে থাইরয়েড হরমোন কমে গেলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। তখন ক্লান্তি, অবসাদ ও অতিরিক্ত ঘুমের প্রবণতা দেখা দেয়।

সবজি দেখলেই মুখ ঘুরিয়ে নেয় শিশু? সহজ ৬ উপায়েই বদলে যাবে অভ্যাস
ডায়াবেটিস থাকলেও এমন সমস্যা হতে পারে। রক্তে শর্করার মাত্রা খুব বেশি বেড়ে গেলে বা হঠাৎ কমে গেলেও শরীরে দুর্বলতা ও তন্দ্রাভাব তৈরি হয়।

চিকিৎসকেরা আরও জানান, কিডনি বা লিভারের জটিলতা থাকলে শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলেও সারাক্ষণ ঘুম পেতে পারে।

ডায়রিয়া বা বমির কারণে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের হয়ে গেলে দুর্বলতা ও ঘুম ঘুম ভাব দেখা দেয়। একইভাবে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হলেও ক্লান্তি ও মাথা ঝিমঝিমের সঙ্গে ঘুম পেতে পারে।

রক্তশূন্যতা থাকলেও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না। ফলে সারাক্ষণ ক্লান্তি ও ঘুমের অনুভূতি তৈরি হয়।

ভাইরাসজনিত সংক্রমণের সময় এবং অনেক ক্ষেত্রে সুস্থ হওয়ার পরও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত এই সমস্যা থাকতে পারে। আবার রাতে ভালোভাবে ঘুম না হলে বা ঘুমের সময় শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি হলে দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম আসে।

অতিরিক্ত ওজন, মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এমন হতে পারে। বিশেষ করে ঠান্ডা, অ্যালার্জি, ব্যথানাশক বা উদ্বেগ কমানোর কিছু ওষুধ ঘুমের প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।

যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে

ঘুম ঘুম ভাবের পাশাপাশি আরও কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন—

১. সব সময় ক্লান্তি ও অবসাদ লাগা
২. মাথাব্যথা বা মাথা ঝিমঝিম করা
৩. খিটখিটে মেজাজ
৪. মনোযোগ ও স্মরণশক্তি কমে যাওয়া
৫. কাজের দক্ষতা কমে যাওয়া

কী করবেন?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কয়েকটি অভ্যাস বদলালেই অনেক ক্ষেত্রে এই সমস্যা কমানো সম্ভব।

১. প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠুন।
২. পর্যাপ্ত সময় ঘুমান।
৩. দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকবেন না এবং মোবাইল বা পর্দার সামনে সময় কম কাটান।
৪. প্রতিদিন হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করুন।
৫. পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং পুষ্টিকর সুষম খাবার খান।
৬. ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, কিডনি, লিভারের রোগ বা ঘুমের সমস্যায় ভুগলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।
৭. কোনো ওষুধ খাওয়ার পর অতিরিক্ত ঘুম পেলে চিকিৎসককে জানান।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

চিকিৎসকের মতে, মানসিক চাপ, ভাইরাসজনিত অসুস্থতা বা কিছু ওষুধের কারণে কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ঘুম ঘুম ভাব থাকতে পারে। তবে যদি দুই থেকে চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এই সমস্যা থাকে, কর্মক্ষমতা কমে যায় বা দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।


প্রিন্ট