ঢাকা ০৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুড়িগ্রামে যৌথ অভিযানে ভারতীয় ১৩ লাখ টাকার মোবাইলসহ এনামুল আ/টক নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের ২০২৬-২০২৮ সাধারণ গ্রুপের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে তালম ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম গোদাগাড়ীতে মাদকের বিরুদ্ধে জিডি ও তরুণীর অনশন উন্মোচিত চার ভাইয়ের অপরাধ সাম্রাজ্য নরসিংদী তে জনস্বার্থে মোবাইল কোর্ট জনগণের ভালোবাসায় মির্জা ফখরুল: নীতি, আদর্শ ও নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ সংসদ কক্ষে নিজের আসনে বসে ভোট গ্রহণ দেখলেন প্রধানমন্ত্রী শিশু ভূমিষ্ট হওয়ার পর আপনারা যেমন তার যত্ন করেন ঠিক সেইভাবে শিশু চারাটিকেও প্রতিদিন যত্ন করতে হবে-ইউএনও, এটিএম কামরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে বঙ্গভবনে বিদায়ী সংবর্ধনা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রত্যাশা সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের

যশোরের সন্তান বাচ্চু রহমান ৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে প্রথম হয়েছে

মামুন হোসেন, যশোর প্রতিনিধিঃ

 

 

শৈশবের স্বপ্ন ছিল পুলিশের ইউনিফর্ম পরার। কারণ, বাবা ছিলেন আনসার বাহিনীর সদস্য। বাবার ইউনিফর্ম, বুট আর বেল্ট নিয়েই খেলতে খেলতে বড় হওয়া সেই ছোট্ট ছেলেটিই আজ ৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে প্রথম হয়ে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলেন।

 

যশোরের কেশবপুর উপজেলার কানাইডাঙ্গা গ্রামের নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান বাচ্চু রহমান। বাবা নজরুল ইসলাম আনসার বাহিনীর সদস্য, মা বিলকিস বেগম গৃহিণী। অভাব-অনটনের সংসারেও ছেলের পড়াশোনার স্বপ্ন থামিয়ে দেননি তারা।

 

কানাইডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং পাঁজিয়া মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাস করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই জানতে পারেন, বিসিএসের মাধ্যমে এএসপি হওয়া যায়। তখনই লক্ষ্য স্থির করেন—

 

পুলিশ ক্যাডারেই যোগ দেবেন। ৪৫তম বিসিএসে প্রিলিমিনারিতেই বাদ পড়েছিলেন। কিন্তু হাল ছাড়েননি। ব্যর্থতাকে শক্তিতে পরিণত করে প্রস্তুতি চালিয়ে যান। ৪৯তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়ার পর এবার ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে পুলিশ ক্যাডারে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

 

বাচ্চু রহমান জানান, নিয়মিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রিকা পড়তেন। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, মাদক ও সাইবার অপরাধের খবর তাঁকে নাড়া দিত। মানুষের সবচেয়ে কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা থেকেই তিনি পুলিশ ক্যাডারকে বেছে নিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, পদ বা পদবি নয়, একজন সৎ, দক্ষ ও মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে মানুষের আস্থা অর্জন করাই তাঁর সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।

যশোরের কেশবপুরের এই কৃতী সন্তানের অসাধারণ অর্জনে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা। তাঁর এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের জন্য হোক অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামে যৌথ অভিযানে ভারতীয় ১৩ লাখ টাকার মোবাইলসহ এনামুল আ/টক

যশোরের সন্তান বাচ্চু রহমান ৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে প্রথম হয়েছে

আপডেট টাইম : ০৬:৫৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

মামুন হোসেন, যশোর প্রতিনিধিঃ

 

 

শৈশবের স্বপ্ন ছিল পুলিশের ইউনিফর্ম পরার। কারণ, বাবা ছিলেন আনসার বাহিনীর সদস্য। বাবার ইউনিফর্ম, বুট আর বেল্ট নিয়েই খেলতে খেলতে বড় হওয়া সেই ছোট্ট ছেলেটিই আজ ৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে প্রথম হয়ে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলেন।

 

যশোরের কেশবপুর উপজেলার কানাইডাঙ্গা গ্রামের নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান বাচ্চু রহমান। বাবা নজরুল ইসলাম আনসার বাহিনীর সদস্য, মা বিলকিস বেগম গৃহিণী। অভাব-অনটনের সংসারেও ছেলের পড়াশোনার স্বপ্ন থামিয়ে দেননি তারা।

 

কানাইডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং পাঁজিয়া মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাস করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই জানতে পারেন, বিসিএসের মাধ্যমে এএসপি হওয়া যায়। তখনই লক্ষ্য স্থির করেন—

 

পুলিশ ক্যাডারেই যোগ দেবেন। ৪৫তম বিসিএসে প্রিলিমিনারিতেই বাদ পড়েছিলেন। কিন্তু হাল ছাড়েননি। ব্যর্থতাকে শক্তিতে পরিণত করে প্রস্তুতি চালিয়ে যান। ৪৯তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়ার পর এবার ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে পুলিশ ক্যাডারে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

 

বাচ্চু রহমান জানান, নিয়মিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রিকা পড়তেন। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, মাদক ও সাইবার অপরাধের খবর তাঁকে নাড়া দিত। মানুষের সবচেয়ে কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা থেকেই তিনি পুলিশ ক্যাডারকে বেছে নিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, পদ বা পদবি নয়, একজন সৎ, দক্ষ ও মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে মানুষের আস্থা অর্জন করাই তাঁর সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।

যশোরের কেশবপুরের এই কৃতী সন্তানের অসাধারণ অর্জনে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা। তাঁর এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের জন্য হোক অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।


প্রিন্ট