সিরাজগন্জ জেলা প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার উনুখা পাগলা পীর উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিদ্যালয়ের অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের একাংশ প্রস্তাবিত সভাপতি প্রার্থী খন্দকার তৌহিদুর রহমানের নাম বাতিল করে বিকল্প প্রার্থী থেকে সভাপতি মনোনয়নের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এডহক কমিটির সভাপতি পদের জন্য তিনজনের নামের তালিকায় রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা খন্দকার তৌহিদুর রহমানকে ১ নম্বর ক্রমিকে এবং আরও দুইজন বিএনপি নেতাকে যথাক্রমে ২ ও ৩ নম্বর ক্রমিকে উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হয়ে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাদের দাবি, খন্দকার তৌহিদুর রহমানকে সভাপতি করা হলে তারা ক্লাস বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবেন। তবে তালিকার ২ বা ৩ নম্বর ক্রমিকে থাকা যেকোনো একজনকে সভাপতি করা হলে তাদের কোনো আপত্তি থাকবে না বলে জানান তারা।
স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও খন্দকার তৌহিদুর রহমানকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত, শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান, হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী গণস্বাক্ষর করে সলঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল এবং বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।
অভিভাবক ও এলাকাবাসীর ভাষ্য, উনুখা পাগলা পীর উচ্চ বিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ের সুনাম, শিক্ষার মান এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিতর্কিত ব্যক্তিকে সভাপতি না করে তালিকায় থাকা অন্য যেকোনো যোগ্য ব্যক্তিকে সভাপতি করে এডহক কমিটি গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে খন্দকার তৌহিদুর রহমানের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “কিছু জানি না।” এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 
























