ঢাকা ০৫:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নতুন পুরস্কার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রাষ্ট্রের কল্যাণে দলনিরপেক্ষভাবেই কাজ করব: রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের বৈঠক অবকাঠামো-নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই: এলজিআরডি মন্ত্রী অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তির উৎস নজরুল: রিজভী প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী আমরা দেশ ও জনগণের জন্য এনসিপিসহ একসঙ্গে কাজ করছি: জামায়াত আমির ঢাকায় যাত্রাবিরতি ভুটানের রাজার, স্বাগত জানালেন রাষ্ট্রপতি

ধোপাজান চলতি নদীতে বালু পাথর-লুটপাট বন্ধে ও বৈধ ইজারা দিয়ে নদী চালুর দাবিতে মানববন্ধন

মোঃরফিকুল ইসলাম সোহাগঃ
​সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

​সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ধোপাজান চলতি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ, পরিবেশ রক্ষা এবং প্রশাসনিক অভিযান জোরদারসহ নিয়ম মেনে দ্রুত ইজারা চালুর দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জ শহরের আলফাত স্কয়ার (ট্রাফিক পয়েন্টে) ‘ধোপাজান চলতি নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি’-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

​সংগঠনের উপদেষ্টা এরশাদ মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ নূরের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কমিটির আহ্বায়ক গোলাম হোসেন অভি।

​সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেন,
​শেখ এমদাদুল হক উপদেষ্টা,
​আল আমিন যুগ্ম আহ্বায়ক,
​অমিত তালুকদার যুগ্ম আহ্বায়ক,
​আজিজুর রহমান রুহেল যুগ্ম আহ্বায়ক, মোসাদ্দেক হোসেন যুগ্ম আহবায়ক,
​শফিকুল বারী যুগ্ম সদস্য সচিব,
​মুফতী শহীদুল ইসলাম পলাশী সভাপতি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সুনামগঞ্জ জেলা শাখা,

​সমাবেশে বক্তারা বলেন, ধোপাজান চলতি নদী সুনামগঞ্জের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। স্থানীয় পরিবেশ রক্ষা ও অর্থনীতিকে সচল রাখতে এ নদীর অবদান অপরিসীম। তবে দীর্ঘ দিন ধরে নদীটির ইজারা বন্ধ থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির প্রভাবশালী চক্র রাতের আঁধারে ড্রেজার ও বিভিন্ন ধরনের নৌযান ব্যবহার করে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বালু ও পাথর লুটপাট করে আসছে, ​এর ফলে, সরকার শত কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ওপর দিকে নদীপাড়ের বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা মারাত্মক নদীভাঙনের কবলে পড়ার আশংকায় রয়েছে।

​বক্তারা স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা সদস্যদের গাফিলতি ও অসাধু চক্রের সাথে যোগসাজশের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা প্রশ্ন তুলে বলেন, পুলিশের চেকপোস্ট থাকা সত্ত্বেও কীভাবে রাতে বালু ও পাথর ভর্তি নৌকা নদী পার হয়ে যায়।

​এজন্য পুলিশি পাহারা ও নজরদারি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত টাস্কফোর্স, গঠন করে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধন থেকে ​জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আন্দোলনের পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো পেশ করা হয়, ​অবৈধ উত্তোলন বন্ধ, রাতের আঁধারে পরিচালিত পরিবেশ-বিধ্বংসী বালু ও পাথর উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। আইনানুগভাবে বালুমহাল ইজারা না দেওয়া পর্যন্ত নদীতে সব ধরনের বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখতে হবে।

নদী এলাকায় রাতে প্রশাসনিক টহল জোরদার এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করতে হবে।

অবৈধ চক্রের সাথে জড়িত অসাধু ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান করতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি দ্রুত কোনো দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা ও নদীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

​মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে আরও উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব রহমতুল্লাহ, আলাউর রহমান, মাজহারুল ইসলাম সুবেল, মো. শরীফ, জুলাই যোদ্ধা, আজিজুল হকসহ স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষ ও সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ।
​মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা ঐতিহ্যবাহী ধোপাজান চলতি নদী রক্ষায় জেলা প্রশাসনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

ধোপাজান চলতি নদীতে বালু পাথর-লুটপাট বন্ধে ও বৈধ ইজারা দিয়ে নদী চালুর দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট টাইম : ১১:৪৬:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

মোঃরফিকুল ইসলাম সোহাগঃ
​সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

​সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ধোপাজান চলতি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ, পরিবেশ রক্ষা এবং প্রশাসনিক অভিযান জোরদারসহ নিয়ম মেনে দ্রুত ইজারা চালুর দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জ শহরের আলফাত স্কয়ার (ট্রাফিক পয়েন্টে) ‘ধোপাজান চলতি নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি’-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

​সংগঠনের উপদেষ্টা এরশাদ মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ নূরের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কমিটির আহ্বায়ক গোলাম হোসেন অভি।

​সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেন,
​শেখ এমদাদুল হক উপদেষ্টা,
​আল আমিন যুগ্ম আহ্বায়ক,
​অমিত তালুকদার যুগ্ম আহ্বায়ক,
​আজিজুর রহমান রুহেল যুগ্ম আহ্বায়ক, মোসাদ্দেক হোসেন যুগ্ম আহবায়ক,
​শফিকুল বারী যুগ্ম সদস্য সচিব,
​মুফতী শহীদুল ইসলাম পলাশী সভাপতি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সুনামগঞ্জ জেলা শাখা,

​সমাবেশে বক্তারা বলেন, ধোপাজান চলতি নদী সুনামগঞ্জের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। স্থানীয় পরিবেশ রক্ষা ও অর্থনীতিকে সচল রাখতে এ নদীর অবদান অপরিসীম। তবে দীর্ঘ দিন ধরে নদীটির ইজারা বন্ধ থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির প্রভাবশালী চক্র রাতের আঁধারে ড্রেজার ও বিভিন্ন ধরনের নৌযান ব্যবহার করে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বালু ও পাথর লুটপাট করে আসছে, ​এর ফলে, সরকার শত কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ওপর দিকে নদীপাড়ের বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা মারাত্মক নদীভাঙনের কবলে পড়ার আশংকায় রয়েছে।

​বক্তারা স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা সদস্যদের গাফিলতি ও অসাধু চক্রের সাথে যোগসাজশের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা প্রশ্ন তুলে বলেন, পুলিশের চেকপোস্ট থাকা সত্ত্বেও কীভাবে রাতে বালু ও পাথর ভর্তি নৌকা নদী পার হয়ে যায়।

​এজন্য পুলিশি পাহারা ও নজরদারি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত টাস্কফোর্স, গঠন করে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধন থেকে ​জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আন্দোলনের পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো পেশ করা হয়, ​অবৈধ উত্তোলন বন্ধ, রাতের আঁধারে পরিচালিত পরিবেশ-বিধ্বংসী বালু ও পাথর উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। আইনানুগভাবে বালুমহাল ইজারা না দেওয়া পর্যন্ত নদীতে সব ধরনের বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখতে হবে।

নদী এলাকায় রাতে প্রশাসনিক টহল জোরদার এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করতে হবে।

অবৈধ চক্রের সাথে জড়িত অসাধু ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান করতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি দ্রুত কোনো দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা ও নদীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

​মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে আরও উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব রহমতুল্লাহ, আলাউর রহমান, মাজহারুল ইসলাম সুবেল, মো. শরীফ, জুলাই যোদ্ধা, আজিজুল হকসহ স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষ ও সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ।
​মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা ঐতিহ্যবাহী ধোপাজান চলতি নদী রক্ষায় জেলা প্রশাসনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


প্রিন্ট