ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের পরামর্শ রাষ্ট্রপতির নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী এলপিজি নিয়ে জনগণকে জিম্মির চেষ্টা করলে আইনি ব্যবস্থা : জ্বালানিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজায় প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানো হচ্ছে; ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রেক্ষিতে সহায়তা প্রত্যাশা করছি: অর্থমন্ত্রী অঢেল সম্পদের মালিক একাধিক মামলার আসামি অমিতের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ গোবিন্দগঞ্জের ইউএনওর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্নীতির একাধিক তদন্ত হলেও অদ্যবধি কোনো রিপোর্ট প্রকাশ হয়নি: ক্ষুব্ধ জনসাধারণ নাজপুরের বিরামপুরে উপজেলা মুকুন্দপুর ইউনিয়নে মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ‎ কিশোরগ্যাং কিরন রবি দাশের হামলার শিকার ঋষীধারা বিদ্যাপীঠের প্রতিষ্ঠাতা অংকন ব্যাণাজীর কালীগঞ্জে বিরোধপূর্ণ জমি পরিদর্শনে সহকারী কমিশনার (ভূমি), আদালতের রায় পর্যন্ত বালু ভরাটে নিষেধাজ্ঞা

বাংলাদেশে ২০০ কোটি পাউন্ড দেবে ইউকেইএফ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন ও বেসরকারি খাতের প্রকল্পে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের রপ্তানি ঋণ সংস্থা ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স (ইউকেইএফ)। যেসব প্রকল্পে যুক্তরাজ্যের পণ্য, প্রযুক্তি ও সেবা ব্যবহার করা হবে, সেসব প্রকল্পের যোগ্য বাংলাদেশি ক্রেতা ও প্রতিষ্ঠান এই অর্থায়ন সুবিধা পেতে পারে।

সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশে পরিবহন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, বিমানবন্দর উন্নয়ন, উৎপাদন শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ভৌত অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতের প্রকল্পে এই অর্থায়ন সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন জানায়, বাংলাদেশে এই অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট সুযোগগুলো সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে চলতি সপ্তাহে সরকারি প্রতিনিধি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছে ইউকেইএফ।

সংস্থাটি বাংলাদেশে ১০০ কোটি থেকে ২০০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত অর্থায়নের সক্ষমতা রাখে। এর আওতায় যোগ্য বাংলাদেশি ক্রেতা ও প্রতিষ্ঠানসমূহ যুক্তরাজ্যের পণ্য ও সেবাসংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।

যুক্তরাজ্যের সরবরাহকারীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে এমন প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক অর্থায়নের সুযোগ তৈরিতে ইউকেইএফ আর্থিক গ্যারান্টি, ঋণ ও বিমাসহ নানা ধরনের সুবিধাদি দিয়ে থাকে।

সংস্থাটির এই সুবিধা বিশ্বজুড়ে ৬০টিরও বেশি স্থানীয় মুদ্রায় প্রদান করা সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন কাঠামোর মধ্যে রয়েছে বায়ার ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি, স্ট্যান্ডার্ড বায়ার লোন গ্যারান্টি, ডাইরেক্ট লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি এবং আর্লি প্রজেক্ট সার্ভিসেস গ্যারান্টি।

সম্ভাব্য প্রকল্প ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে (২ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সফর করছে। সফরকালে প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ সরকার, বিভিন্ন ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে।

বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে যেসব ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের আধুনিক প্রযুক্তি, ব্যাংকিং দক্ষতা ও অর্থায়ন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়গুলো এসব বৈঠকে গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রতিনিধিদলে রয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাজ্যের ট্রেড কাউন্সেলোর মার্ক বিরেল; ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালের জন্য ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্সের কান্ট্রি হেড সন্দীপ কুদতারকার এবং দক্ষিণ এশিয়ার ট্রেড পলিসি প্রধান রোহিনী আগারওয়াল।

সফরের অংশ হিসেবে প্রতিনিধিদলটি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ, এইচএসবিসি ও আইসিসি বাংলাদেশের মতো খ্যাতনামা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হচ্ছে।

এসব আলোচনায় ইউকেইএফ-এর অর্থায়ন কীভাবে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর আর্থিক চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাজ্যের ট্রেড কাউন্সেলোর মার্ক বিরেল বলেন, “যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে অত্যন্ত সুদৃঢ় ও দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। এই সফরের মাধ্যমে আমরা সরকার ও দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের কাছ থেকে সরাসরি অভিজ্ঞতা ও মতামত শোনার সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান, উন্নত প্রযুক্তি ও অর্থায়ন কীভাবে বাংলাদেশে উদ্ভাবন, টেকসই প্রবৃদ্ধি ও সার্বিক উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে—আমরা সেই সম্ভাবনাগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখছি।

 


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের পরামর্শ রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশে ২০০ কোটি পাউন্ড দেবে ইউকেইএফ

আপডেট টাইম : ০৯:২৪:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন ও বেসরকারি খাতের প্রকল্পে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের রপ্তানি ঋণ সংস্থা ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স (ইউকেইএফ)। যেসব প্রকল্পে যুক্তরাজ্যের পণ্য, প্রযুক্তি ও সেবা ব্যবহার করা হবে, সেসব প্রকল্পের যোগ্য বাংলাদেশি ক্রেতা ও প্রতিষ্ঠান এই অর্থায়ন সুবিধা পেতে পারে।

সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশে পরিবহন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, বিমানবন্দর উন্নয়ন, উৎপাদন শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ভৌত অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতের প্রকল্পে এই অর্থায়ন সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন জানায়, বাংলাদেশে এই অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট সুযোগগুলো সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে চলতি সপ্তাহে সরকারি প্রতিনিধি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছে ইউকেইএফ।

সংস্থাটি বাংলাদেশে ১০০ কোটি থেকে ২০০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত অর্থায়নের সক্ষমতা রাখে। এর আওতায় যোগ্য বাংলাদেশি ক্রেতা ও প্রতিষ্ঠানসমূহ যুক্তরাজ্যের পণ্য ও সেবাসংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।

যুক্তরাজ্যের সরবরাহকারীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে এমন প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক অর্থায়নের সুযোগ তৈরিতে ইউকেইএফ আর্থিক গ্যারান্টি, ঋণ ও বিমাসহ নানা ধরনের সুবিধাদি দিয়ে থাকে।

সংস্থাটির এই সুবিধা বিশ্বজুড়ে ৬০টিরও বেশি স্থানীয় মুদ্রায় প্রদান করা সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন কাঠামোর মধ্যে রয়েছে বায়ার ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি, স্ট্যান্ডার্ড বায়ার লোন গ্যারান্টি, ডাইরেক্ট লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি এবং আর্লি প্রজেক্ট সার্ভিসেস গ্যারান্টি।

সম্ভাব্য প্রকল্প ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে (২ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সফর করছে। সফরকালে প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ সরকার, বিভিন্ন ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে।

বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে যেসব ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের আধুনিক প্রযুক্তি, ব্যাংকিং দক্ষতা ও অর্থায়ন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়গুলো এসব বৈঠকে গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রতিনিধিদলে রয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাজ্যের ট্রেড কাউন্সেলোর মার্ক বিরেল; ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালের জন্য ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্সের কান্ট্রি হেড সন্দীপ কুদতারকার এবং দক্ষিণ এশিয়ার ট্রেড পলিসি প্রধান রোহিনী আগারওয়াল।

সফরের অংশ হিসেবে প্রতিনিধিদলটি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ, এইচএসবিসি ও আইসিসি বাংলাদেশের মতো খ্যাতনামা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হচ্ছে।

এসব আলোচনায় ইউকেইএফ-এর অর্থায়ন কীভাবে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর আর্থিক চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাজ্যের ট্রেড কাউন্সেলোর মার্ক বিরেল বলেন, “যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে অত্যন্ত সুদৃঢ় ও দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। এই সফরের মাধ্যমে আমরা সরকার ও দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের কাছ থেকে সরাসরি অভিজ্ঞতা ও মতামত শোনার সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান, উন্নত প্রযুক্তি ও অর্থায়ন কীভাবে বাংলাদেশে উদ্ভাবন, টেকসই প্রবৃদ্ধি ও সার্বিক উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে—আমরা সেই সম্ভাবনাগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখছি।

 


প্রিন্ট