ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের পরামর্শ রাষ্ট্রপতির নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী এলপিজি নিয়ে জনগণকে জিম্মির চেষ্টা করলে আইনি ব্যবস্থা : জ্বালানিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজায় প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানো হচ্ছে; ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রেক্ষিতে সহায়তা প্রত্যাশা করছি: অর্থমন্ত্রী অঢেল সম্পদের মালিক একাধিক মামলার আসামি অমিতের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ গোবিন্দগঞ্জের ইউএনওর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্নীতির একাধিক তদন্ত হলেও অদ্যবধি কোনো রিপোর্ট প্রকাশ হয়নি: ক্ষুব্ধ জনসাধারণ নাজপুরের বিরামপুরে উপজেলা মুকুন্দপুর ইউনিয়নে মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ‎ কিশোরগ্যাং কিরন রবি দাশের হামলার শিকার ঋষীধারা বিদ্যাপীঠের প্রতিষ্ঠাতা অংকন ব্যাণাজীর কালীগঞ্জে বিরোধপূর্ণ জমি পরিদর্শনে সহকারী কমিশনার (ভূমি), আদালতের রায় পর্যন্ত বালু ভরাটে নিষেধাজ্ঞা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না : এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না। তবে, স্থানীয়ভাবে বিএনপি সমর্থিত নির্দিষ্ট প্রার্থী থাকবে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকার নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হলেও কোনো প্রার্থী কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত, তা স্থানীয়ভাবে মানুষের কাছে পরিচিত হতে পারে। তবে, এ কারণে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতায় কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না।

আজ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে স্থানীয় পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে বিএনপি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী রাখে।

তবে, এসব প্রার্থী দলীয় প্রতীকে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী হবেন না; তারা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে না’— এটি যেমন সত্য, তেমনি বাস্তবতা হলো কোনো এলাকায় একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেটিও ভোটারদের অজানা থাকবে না।

এক্ষেত্রে বিএনপি কোনো বিশেষ সুবিধা বা আলাদা অবস্থান নেবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে সরকারের ভূমিকা হবে নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করা।

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী যোগ্যতা থাকা যেকোনো বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। কোনো প্রার্থী যাতে নিরাপদে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেন এবং ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এজন্য নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় প্রশাসন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

তিনি বলেন, ‘সরকারের মেসেজ খুবই পরিষ্কার। যেহেতু এটি দলীয় নির্বাচন নয়, তাই আইন অনুযায়ী যোগ্যতা থাকা সব প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।’

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে চায়। এসব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

এ সময় ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব রয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করে আসছে। এ সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্তরাজ্য ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি বিনিয়োগ করেছে।

সারাহ কুক বলেন, জাতীয় নগর উন্নয়ন কর্মসূচি এবং নতুন জাতীয় নগর উন্নয়ন নীতি প্রণয়নে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করেছে। দীর্ঘদিনের এই অংশীদারিত্ব থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগুলো ভবিষ্যতে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, বৈঠকে সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন বিশেষ গুরুত্ব পাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে যুক্তরাজ্য আগ্রহী। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবিলা এবং মানুষের সহনশীলতা বাড়াতে যুক্তরাজ্য কাজ করছে।

সুন্দরবন এলাকায় যুক্তরাজ্যের চলমান বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে সারাহ কুক বলেন, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাব মোকাবিলায় সেখানে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। ভবিষ্যতে সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আরো কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।

সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের সঙ্গে সরকারের ধারাবাহিক সৌজন্য সাক্ষাতের অংশ হিসেবেই ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো উন্নয়ন সহযোগী। অতীতে যেমন তারা বাংলাদেশের পাশে ছিল, বর্তমানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বৈঠকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করতে যুক্তরাজ্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সিটি কর্পোরেশনগুলোতে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে তারা কাজ করতে চায়। এর পাশাপাশি অন্যান্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ প্রকল্পেও ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে।

তিনি বলেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেলের আওতায় বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ব্রিটিশ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জন্য যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট টিম বা যোগাযোগের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, অর্থবছর পরিবর্তনের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আগামী ২০২৮ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থবছর ১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ৩১ মার্চ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভায় এ বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে, সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগছে।

 


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের পরামর্শ রাষ্ট্রপতির

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না : এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০২:৩৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না। তবে, স্থানীয়ভাবে বিএনপি সমর্থিত নির্দিষ্ট প্রার্থী থাকবে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকার নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হলেও কোনো প্রার্থী কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত, তা স্থানীয়ভাবে মানুষের কাছে পরিচিত হতে পারে। তবে, এ কারণে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতায় কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না।

আজ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে স্থানীয় পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে বিএনপি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী রাখে।

তবে, এসব প্রার্থী দলীয় প্রতীকে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী হবেন না; তারা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে না’— এটি যেমন সত্য, তেমনি বাস্তবতা হলো কোনো এলাকায় একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেটিও ভোটারদের অজানা থাকবে না।

এক্ষেত্রে বিএনপি কোনো বিশেষ সুবিধা বা আলাদা অবস্থান নেবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে সরকারের ভূমিকা হবে নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করা।

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী যোগ্যতা থাকা যেকোনো বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। কোনো প্রার্থী যাতে নিরাপদে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেন এবং ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এজন্য নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় প্রশাসন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

তিনি বলেন, ‘সরকারের মেসেজ খুবই পরিষ্কার। যেহেতু এটি দলীয় নির্বাচন নয়, তাই আইন অনুযায়ী যোগ্যতা থাকা সব প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।’

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে চায়। এসব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

এ সময় ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব রয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করে আসছে। এ সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্তরাজ্য ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি বিনিয়োগ করেছে।

সারাহ কুক বলেন, জাতীয় নগর উন্নয়ন কর্মসূচি এবং নতুন জাতীয় নগর উন্নয়ন নীতি প্রণয়নে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করেছে। দীর্ঘদিনের এই অংশীদারিত্ব থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগুলো ভবিষ্যতে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, বৈঠকে সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন বিশেষ গুরুত্ব পাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে যুক্তরাজ্য আগ্রহী। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবিলা এবং মানুষের সহনশীলতা বাড়াতে যুক্তরাজ্য কাজ করছে।

সুন্দরবন এলাকায় যুক্তরাজ্যের চলমান বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে সারাহ কুক বলেন, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাব মোকাবিলায় সেখানে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। ভবিষ্যতে সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আরো কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।

সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের সঙ্গে সরকারের ধারাবাহিক সৌজন্য সাক্ষাতের অংশ হিসেবেই ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো উন্নয়ন সহযোগী। অতীতে যেমন তারা বাংলাদেশের পাশে ছিল, বর্তমানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বৈঠকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করতে যুক্তরাজ্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সিটি কর্পোরেশনগুলোতে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে তারা কাজ করতে চায়। এর পাশাপাশি অন্যান্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ প্রকল্পেও ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে।

তিনি বলেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেলের আওতায় বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ব্রিটিশ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জন্য যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট টিম বা যোগাযোগের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, অর্থবছর পরিবর্তনের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আগামী ২০২৮ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থবছর ১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ৩১ মার্চ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভায় এ বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে, সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগছে।

 


প্রিন্ট