ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাঙ্গামাটির বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে

 বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে নেপালের এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছেছেন রাঙ্গামাটির সাইক্লিস্ট ও অভিযাত্রী বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা। কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেলে যাত্রা শুরু করে ৩৮ দিন পর গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে ৫ হাজার ৩৬৪ মিটার উচ্চতার এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছান পাহাড়ের এই কৃতি সন্তান বীর কুমার।

গত ১৬ আগস্ট সকাল ৮টা ৩৯ মিনিটে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের মধ্য দিয়ে চ্যালেঞ্জিং এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে বীর কুমার। কক্সবাজারের সৈকতের নোনাজল ছেড়ে সাইকেলে চেপে ‘সি টু হিমালয়াস-এক্সপেডিশন ফর অ্যাওয়ারনেস’ নামের এই অভিযান শুরু হয়েছিল কক্সবাজারের কবিতা চত্বর বীচ থেকে। এরপর সাইকেলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাবান্ধা সীমান্ত হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন বীর। সেখান থেকে শিলিগুড়ি হয়ে নেপালে পৌঁছে শুরু হয় বীর কুমারের হিমালয়ের দুর্গম পথের অভিযান।

স্থল পথে ভারত হয়ে নেপালে প্রবেশ, কাঠমান্ডু থেকে দীর্ঘ কাঠখড় পুড়িয়ে পারমিট সংগ্রহ এবং পরবর্তী সময়ে হিমালয়ের আঁকা-বাঁকা বন্ধুর পথ, তীব্র ঠান্ডা, বৃষ্টি, তুষারপাত এবং অক্সিজেনের মারাত্মক ঘাটতিকে বুড়ো আঙুল
দেখিয়ে বীর কুমারের গন্তব্যে পৌঁছানো যেন এক রূপ কথার গল্প।

চ্যলেঞ্জিং এই যাত্রার পর গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার তিনি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ৩৬৪ মিটার বা ১৭ হাজার ৫৯৮ ফুট উচ্চতায় এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে উড়িয়েছেন দেশের লাল-সবুজ পতাকা। এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছানোর আগে কয়েক দিনের ব্যবধানে হিমালয়ের তিনটি দুর্গম চূড়া ও গিরিপথ অতিক্রম করেন বীর কুমার। ১৮ সেপ্টেম্বর ৫হাজার ৮৩মিটার উচ্চতার নাংকার্তশাং পিক সামিট করেন তিনি। ওই দিন বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে চূড়ায় পৌঁছান।

বীর কুমারের দাবি, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে স্থল পথে সাইকেলে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছানো প্রথম বাংলাদেশী এবং পাহাড়ের তিনিই প্রথম ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠীর সাইক্লিস্ট।

বীর কুমারের দেয়া তথ্য মতে, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ৩৭২ কিলোমিটারের বেশি পথ সাইকেল চালিয়ে তিনি পৌঁছান নেপালের নামচে বাজারে। এটি এভারেস্ট ট্রেকিংয়ের প্রবেশদ্বার বা গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত। ১১ হাজার ২৮৬ ফুট উচ্চতার এই শহরে অভিযাত্রীরা সাধারণত হিমালয়ের আরও উচ্চতায় পৌঁছানোর জন্য শরীর উপযোগী করে তোলার জন্য বিরতি নেন। সেখান থেকে শুরু হয় আসল লড়াই। খুম্বু উপত্যকার দুর্গম পাহাড়ি পথ, যেখানে সাধারণত মানুষ হেঁটে চলতে গিয়ে হাঁপিয়ে ওঠে, সেখানে সাইকেল নিয়ে এগিয়ে চলা ছিল এক অসম্ভব চ্যালেঞ্জ। সেখান থেকে তিনি যাত্রা করেন চুখুংরি অভিমুখে। সোলুখুম্বু বা এভারেস্ট অঞ্চলে অবস্থিত ১৮ হাজার ২০৯ ফুটের পাথুরে পর্বতচূড়া চুখুংরি-তে দাঁড়িয়ে বীর কুমার বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা হাতে নিয়ে গেয়ে ওঠেন ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।’

অভিযানের শুরু থেকেই প্রতিদিনের যাত্রার নানা অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন বীর কুমার। দীর্ঘ এই পথে তাঁকে পাড়ি দিতে হয়েছে দুর্গম পাহাড়ি পথ, প্রতিকূল আবহাওয়া ও নানা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। কখনো ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে, কখনো দুর্গম ও উঁচু পাহাড়ি পথে সাইকেল চালিয়ে এগিয়ে গেছেন তিনি। প্রতিকূলতার মধ্যেও নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি বীর কুমার। ৩৮ দিনের এই দীর্ঘ অভিযাত্রার লক্ষ্য ছিল শুধু হিমালয়ের দুর্গম পথ জয় করা নয়। রক্তদান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু ন্যায্যতা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরাও ছিল অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের সম্ভাবনাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি। বীর কুমার বলেন, ‘স্বপ্ন বড় হলে পথ যত কঠিনই হোক, থেমে যাওয়া যায় না।’

তিনি বাসস’কে জানান, এই অভিযানের প্রতিটি ধাপে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। দীর্ঘ পথ, আবহাওয়ার পরিবর্তন, দুর্গম পাহাড়ি ট্রেইল এবং শারীরিক ও মানসিক চাপ সামলে তাকে সামনে এগুতে হয়েছে। তবে দেশের মানুষের শুভকামনা, ভালোবাসা ও সহযোগিতা তাকে সাহস জুগিয়েছে। এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর বীর কুমার বলেন, এই অর্জন তার একার নয়। দীর্ঘ অভিযাত্রায় যাঁরা সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। সামনে থাকা লক্ষ্যগুলো পূরণ করে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে নিরাপদে দেশে ফিরতে চান তিনি।

বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা সাইকেল অভিযানের অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। এরআগে তিনি সাইকেলে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণ করেছেন। দেশের দীর্ঘতম ক্রস-কান্ট্রি রুট টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সাইকেলে পাড়ি দিয়েছেন।

এছাড়া ভারতের ১০টি রাজ্য ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শুরু করে প্রায় ৭১ দিনে ৫ হাজার ৭শ’ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ২০২৪ সালের মার্চে দেশে ফিরেন তিনি। কাপ্তাই উপজেলার ওয়া¹া ইউনিয়নের বাসিন্দা বীর কুমার কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংক ও ওয়া¹া ভলান্টিয়ারের প্রতিষ্ঠাতা। দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছায় রক্তদান, মানবসেবা এবং পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত তিনি।

এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের এই উচ্চতায় পৌঁছানো যেকোনো পেশাদার অভিযাত্রীর জন্যই সম্মানের বিষয়। সেখানে সাইকেল নিয়ে বীর কুমারের যাওয়ার কৃতিত্ব দেশের সাইক্লিং ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। তবে বীর কুমারের এই অভিযাত্রার লক্ষ্য এখানেই থামছে না। তিনি জানান, ৫ হাজার ৪১৬ মিটার উচ্চতার থরং লা পাস, ৪ হাজার ১৩০ মিটার উচ্চতার অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্প এবং ৫ হাজার ১০৪ মিটার উচ্চতার লার্ক্যা লা পাসও তিনি সাইকেলে চড়ে সামিট করতে চান।

বীর বলেন, ‘একে একে বাকি তিনটি লক্ষ্যও সফলভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টায় এগিয়ে চলেছি। পাহাড়ের বীর কুমার বীরদর্পে আরো এগিয়ে যাবে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরবে বাংলাদেশের লাল সবুজের পকাতা, গেয়ে উঠবে আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি, এমনটাই প্রত্যাশা দেশের সকল মানুষের। ‘জীবন একটি রোমাঞ্চকর অভিযান ছাড়া কিছু নয়’-হেলেন কেলারের এই কথার সার্থক রুপান্তর ঘটিয়েছেন পাহাড়ের রত্ন তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর তরুণ বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাঙ্গামাটির বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে

আপডেট টাইম : ১২:১২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে নেপালের এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছেছেন রাঙ্গামাটির সাইক্লিস্ট ও অভিযাত্রী বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা। কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেলে যাত্রা শুরু করে ৩৮ দিন পর গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে ৫ হাজার ৩৬৪ মিটার উচ্চতার এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছান পাহাড়ের এই কৃতি সন্তান বীর কুমার।

গত ১৬ আগস্ট সকাল ৮টা ৩৯ মিনিটে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের মধ্য দিয়ে চ্যালেঞ্জিং এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে বীর কুমার। কক্সবাজারের সৈকতের নোনাজল ছেড়ে সাইকেলে চেপে ‘সি টু হিমালয়াস-এক্সপেডিশন ফর অ্যাওয়ারনেস’ নামের এই অভিযান শুরু হয়েছিল কক্সবাজারের কবিতা চত্বর বীচ থেকে। এরপর সাইকেলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাবান্ধা সীমান্ত হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন বীর। সেখান থেকে শিলিগুড়ি হয়ে নেপালে পৌঁছে শুরু হয় বীর কুমারের হিমালয়ের দুর্গম পথের অভিযান।

স্থল পথে ভারত হয়ে নেপালে প্রবেশ, কাঠমান্ডু থেকে দীর্ঘ কাঠখড় পুড়িয়ে পারমিট সংগ্রহ এবং পরবর্তী সময়ে হিমালয়ের আঁকা-বাঁকা বন্ধুর পথ, তীব্র ঠান্ডা, বৃষ্টি, তুষারপাত এবং অক্সিজেনের মারাত্মক ঘাটতিকে বুড়ো আঙুল
দেখিয়ে বীর কুমারের গন্তব্যে পৌঁছানো যেন এক রূপ কথার গল্প।

চ্যলেঞ্জিং এই যাত্রার পর গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার তিনি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ৩৬৪ মিটার বা ১৭ হাজার ৫৯৮ ফুট উচ্চতায় এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে উড়িয়েছেন দেশের লাল-সবুজ পতাকা। এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছানোর আগে কয়েক দিনের ব্যবধানে হিমালয়ের তিনটি দুর্গম চূড়া ও গিরিপথ অতিক্রম করেন বীর কুমার। ১৮ সেপ্টেম্বর ৫হাজার ৮৩মিটার উচ্চতার নাংকার্তশাং পিক সামিট করেন তিনি। ওই দিন বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে চূড়ায় পৌঁছান।

বীর কুমারের দাবি, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে স্থল পথে সাইকেলে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছানো প্রথম বাংলাদেশী এবং পাহাড়ের তিনিই প্রথম ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠীর সাইক্লিস্ট।

বীর কুমারের দেয়া তথ্য মতে, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ৩৭২ কিলোমিটারের বেশি পথ সাইকেল চালিয়ে তিনি পৌঁছান নেপালের নামচে বাজারে। এটি এভারেস্ট ট্রেকিংয়ের প্রবেশদ্বার বা গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত। ১১ হাজার ২৮৬ ফুট উচ্চতার এই শহরে অভিযাত্রীরা সাধারণত হিমালয়ের আরও উচ্চতায় পৌঁছানোর জন্য শরীর উপযোগী করে তোলার জন্য বিরতি নেন। সেখান থেকে শুরু হয় আসল লড়াই। খুম্বু উপত্যকার দুর্গম পাহাড়ি পথ, যেখানে সাধারণত মানুষ হেঁটে চলতে গিয়ে হাঁপিয়ে ওঠে, সেখানে সাইকেল নিয়ে এগিয়ে চলা ছিল এক অসম্ভব চ্যালেঞ্জ। সেখান থেকে তিনি যাত্রা করেন চুখুংরি অভিমুখে। সোলুখুম্বু বা এভারেস্ট অঞ্চলে অবস্থিত ১৮ হাজার ২০৯ ফুটের পাথুরে পর্বতচূড়া চুখুংরি-তে দাঁড়িয়ে বীর কুমার বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা হাতে নিয়ে গেয়ে ওঠেন ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।’

অভিযানের শুরু থেকেই প্রতিদিনের যাত্রার নানা অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন বীর কুমার। দীর্ঘ এই পথে তাঁকে পাড়ি দিতে হয়েছে দুর্গম পাহাড়ি পথ, প্রতিকূল আবহাওয়া ও নানা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। কখনো ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে, কখনো দুর্গম ও উঁচু পাহাড়ি পথে সাইকেল চালিয়ে এগিয়ে গেছেন তিনি। প্রতিকূলতার মধ্যেও নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি বীর কুমার। ৩৮ দিনের এই দীর্ঘ অভিযাত্রার লক্ষ্য ছিল শুধু হিমালয়ের দুর্গম পথ জয় করা নয়। রক্তদান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু ন্যায্যতা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরাও ছিল অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের সম্ভাবনাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি। বীর কুমার বলেন, ‘স্বপ্ন বড় হলে পথ যত কঠিনই হোক, থেমে যাওয়া যায় না।’

তিনি বাসস’কে জানান, এই অভিযানের প্রতিটি ধাপে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। দীর্ঘ পথ, আবহাওয়ার পরিবর্তন, দুর্গম পাহাড়ি ট্রেইল এবং শারীরিক ও মানসিক চাপ সামলে তাকে সামনে এগুতে হয়েছে। তবে দেশের মানুষের শুভকামনা, ভালোবাসা ও সহযোগিতা তাকে সাহস জুগিয়েছে। এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর বীর কুমার বলেন, এই অর্জন তার একার নয়। দীর্ঘ অভিযাত্রায় যাঁরা সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। সামনে থাকা লক্ষ্যগুলো পূরণ করে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে নিরাপদে দেশে ফিরতে চান তিনি।

বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা সাইকেল অভিযানের অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। এরআগে তিনি সাইকেলে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণ করেছেন। দেশের দীর্ঘতম ক্রস-কান্ট্রি রুট টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সাইকেলে পাড়ি দিয়েছেন।

এছাড়া ভারতের ১০টি রাজ্য ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শুরু করে প্রায় ৭১ দিনে ৫ হাজার ৭শ’ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ২০২৪ সালের মার্চে দেশে ফিরেন তিনি। কাপ্তাই উপজেলার ওয়া¹া ইউনিয়নের বাসিন্দা বীর কুমার কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংক ও ওয়া¹া ভলান্টিয়ারের প্রতিষ্ঠাতা। দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছায় রক্তদান, মানবসেবা এবং পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত তিনি।

এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের এই উচ্চতায় পৌঁছানো যেকোনো পেশাদার অভিযাত্রীর জন্যই সম্মানের বিষয়। সেখানে সাইকেল নিয়ে বীর কুমারের যাওয়ার কৃতিত্ব দেশের সাইক্লিং ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। তবে বীর কুমারের এই অভিযাত্রার লক্ষ্য এখানেই থামছে না। তিনি জানান, ৫ হাজার ৪১৬ মিটার উচ্চতার থরং লা পাস, ৪ হাজার ১৩০ মিটার উচ্চতার অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্প এবং ৫ হাজার ১০৪ মিটার উচ্চতার লার্ক্যা লা পাসও তিনি সাইকেলে চড়ে সামিট করতে চান।

বীর বলেন, ‘একে একে বাকি তিনটি লক্ষ্যও সফলভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টায় এগিয়ে চলেছি। পাহাড়ের বীর কুমার বীরদর্পে আরো এগিয়ে যাবে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরবে বাংলাদেশের লাল সবুজের পকাতা, গেয়ে উঠবে আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি, এমনটাই প্রত্যাশা দেশের সকল মানুষের। ‘জীবন একটি রোমাঞ্চকর অভিযান ছাড়া কিছু নয়’-হেলেন কেলারের এই কথার সার্থক রুপান্তর ঘটিয়েছেন পাহাড়ের রত্ন তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর তরুণ বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা।


প্রিন্ট