ঢাকা ০৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লাকসামে ২,৫০০ ভোটারের সুবিধা উপেক্ষা করে কেন্দ্র পরিবর্তনের অভিযোগ: জুলকারনাইন মাদ্রাসায় ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবি ‎পিরোজপুরে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশে চীনের সঙ্গে আরও বিস্তৃত সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ : মইন খান দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের ভূমিকা রয়েছে: বাকৃবি উপাচার্য কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া এআইয়ের যুগে টিকে থাকা কঠিন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি রংপুর রেঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে গঠন হচ্ছে পুলিশের ‘কুইক রেসপন্স টিম’ আধুনিক রোবোটিক্স নিয়ে সেরা গবেষণার স্বীকৃতি পেল রুয়েট চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বিমানবন্দরে বিরল ব্যক্তিগত অভ্যর্থনা জানালেন ট্রাম্প এক পা হারানো নার্গিসের পাশে দাঁড়ালেন ডিসি ফরিদা ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন : নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি গঠন ইসির

এক পা হারানো নার্গিসের পাশে দাঁড়ালেন ডিসি ফরিদা

একসময় রান্নার আয় দিয়েই চলতেন নার্গিস আক্তার লিজ। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে রাঁধুনির কাজ করে যা আয় করতেন, তা দিয়েই চলত জীবন। কিন্তু প্রায় ৯ মাস আগে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কেড়ে নেয় তার একটি পা। এরপর একে একে বন্ধ হয়ে যায় কাজ, আয় ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের পথ। স্বামী নেই, সন্তানও নেই। রাজধানীর উত্তর বাড্ডার একটি ঘরে একাকি দিন কাটছিল তার।

এমন বাস্তবতায় নার্গিসের জীবনে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।

আজ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নার্গিস আক্তার লিজের হাতে একটি হুইলচেয়ার ও আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়। তার অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে এই মানবিক উদ্যোগ নেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।

নার্গিসের জীবনটা এমন ছিল না। কর্মক্ষম থাকাকালে নিজের শ্রমেই জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। কিন্তু ডায়াবেটিসের জটিলতায় প্রায় ৯ মাস আগে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়। অস্ত্রোপচারের পর বদলে যায় সবকিছু। হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ে। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে হারাতে হয় কাজটিও।

এরপর শুরু হয় আরেক লড়াই। চিকিৎসা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর মতো নিয়মিত আয় নেই। পাশে থাকার মতো পরিবারের সদস্যও নেই। উত্তর বাড্ডার একটি ঘরে অনেকটা নিঃসঙ্গভাবেই দিন কাটছিল তার।

নার্গিসের পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম দ্রুত সহায়তার উদ্যোগ নেন। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের মানবিক দায়িত্ব। নার্গিসকে শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, তাকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। তার নিজের আয় ও সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ তৈরি করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

এর অংশ হিসেবে আজ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নার্গিসকে একটি হুইলচেয়ার ও আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। এতে দৈনন্দিন চলাফেরা ও জরুরি প্রয়োজন মেটাতে কিছুটা স্বস্তি পাবেন তিনি।

তবে এখানেই শেষ নয়। নার্গিস যেন সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে না থেকে নিজের আয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন, সে লক্ষ্যে তার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মুদি দোকান প্রতিষ্ঠা করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

একটি মুদি দোকান নার্গিসের মতো মানুষের জন্য হতে পারে জীবনের নিয়ন্ত্রণ আবার নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ। হতে পারে নিয়মিত আয়ের পথ, হতে পারে কারো কাছে হাত না পেতে বেঁচে থাকার অবলম্বন।

জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছেন নার্গিস। একসময় যে নারী নিজের শ্রমে জীবিকা নির্বাহ করেছেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে থমকে যাওয়া সেই জীবন আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লাকসামে ২,৫০০ ভোটারের সুবিধা উপেক্ষা করে কেন্দ্র পরিবর্তনের অভিযোগ: জুলকারনাইন মাদ্রাসায় ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবি

এক পা হারানো নার্গিসের পাশে দাঁড়ালেন ডিসি ফরিদা

আপডেট টাইম : ০৬:৫৬:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একসময় রান্নার আয় দিয়েই চলতেন নার্গিস আক্তার লিজ। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে রাঁধুনির কাজ করে যা আয় করতেন, তা দিয়েই চলত জীবন। কিন্তু প্রায় ৯ মাস আগে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কেড়ে নেয় তার একটি পা। এরপর একে একে বন্ধ হয়ে যায় কাজ, আয় ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের পথ। স্বামী নেই, সন্তানও নেই। রাজধানীর উত্তর বাড্ডার একটি ঘরে একাকি দিন কাটছিল তার।

এমন বাস্তবতায় নার্গিসের জীবনে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।

আজ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নার্গিস আক্তার লিজের হাতে একটি হুইলচেয়ার ও আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়। তার অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে এই মানবিক উদ্যোগ নেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।

নার্গিসের জীবনটা এমন ছিল না। কর্মক্ষম থাকাকালে নিজের শ্রমেই জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। কিন্তু ডায়াবেটিসের জটিলতায় প্রায় ৯ মাস আগে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়। অস্ত্রোপচারের পর বদলে যায় সবকিছু। হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ে। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে হারাতে হয় কাজটিও।

এরপর শুরু হয় আরেক লড়াই। চিকিৎসা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর মতো নিয়মিত আয় নেই। পাশে থাকার মতো পরিবারের সদস্যও নেই। উত্তর বাড্ডার একটি ঘরে অনেকটা নিঃসঙ্গভাবেই দিন কাটছিল তার।

নার্গিসের পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম দ্রুত সহায়তার উদ্যোগ নেন। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের মানবিক দায়িত্ব। নার্গিসকে শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, তাকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। তার নিজের আয় ও সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ তৈরি করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

এর অংশ হিসেবে আজ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নার্গিসকে একটি হুইলচেয়ার ও আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। এতে দৈনন্দিন চলাফেরা ও জরুরি প্রয়োজন মেটাতে কিছুটা স্বস্তি পাবেন তিনি।

তবে এখানেই শেষ নয়। নার্গিস যেন সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে না থেকে নিজের আয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন, সে লক্ষ্যে তার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মুদি দোকান প্রতিষ্ঠা করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

একটি মুদি দোকান নার্গিসের মতো মানুষের জন্য হতে পারে জীবনের নিয়ন্ত্রণ আবার নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ। হতে পারে নিয়মিত আয়ের পথ, হতে পারে কারো কাছে হাত না পেতে বেঁচে থাকার অবলম্বন।

জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছেন নার্গিস। একসময় যে নারী নিজের শ্রমে জীবিকা নির্বাহ করেছেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে থমকে যাওয়া সেই জীবন আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে।


প্রিন্ট