এশিয়ার শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে বাংলাদেশের হকিতে বছরজুড়ে অনুশীলন ও উন্নত অবকাঠামো প্রয়োজন বলে মনে করেন জাতীয় হকি দলের ম্যানেজার রাহুল কান্তি রায়। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে আসন্ন এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিকেও দেখছেন তিনি।
আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতের জলন্ধরে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে বাংলাদেশ দল বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছে।
২০১১ সালে শুরু হওয়া এশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের এই টুর্নামেন্টে দ্বিতীয়বারের মতো অংশ নেবে বাংলাদেশ। এর আগে ২০২১ সালে স্বাগতিক হিসেবে প্রতিযোগিতাটিতে খেলেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সম্প্রতি শেষ হওয়া এশিয়ান গেমসে সপ্তম স্থান অর্জন করে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার সুযোগ এসেছিল বাংলাদেশের সামনে। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান নাম প্রত্যাহার করায় বাংলাদেশ টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার পায়। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেই সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে চায় দল, জানান ম্যানেজার।
ভারতের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে বাসসের সঙ্গে আলাপকালে রাহুল বলেন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও চীনের মতো মহাদেশীয় শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলার মাধ্যমে বাংলাদেশ মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে।
রাহুল কান্তি বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত। তবে আমরা নিজেদের সেরাটা দিতে চাই, মূল্যবান ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতার ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে চাই।”
তবে বাংলাদেশের হকির উন্নয়নে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলনের ঘাটতিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
হকিতে এগিয়ে থাকা দেশগুলো অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-২১ ও সিনিয়র খেলোয়াড়দের জন্য বছরজুড়ে প্রশিক্ষণ শিবির এবং পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনা করে। বিপরীতে বাংলাদেশে সাধারণত বড় টুর্নামেন্টের অল্প কিছুদিন আগে জোরালো প্রস্তুতি শুরু হয়।
রাহুল বলেন, “আমরা যদি অনূর্ধ্ব-২১, অনূর্ধ্ব-১৯ ও ‘এ’ দলসহ জাতীয় দলকে বিদেশি কোচদের অধীনে সারা বছর নিয়মিত অনুশীলনের মধ্যে রাখতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের হকিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।”
ঢাকার বাইরে এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) পাশাপাশি রাজশাহী ও ফরিদপুরের মতো ঐতিহ্যবাহী হকি কেন্দ্রগুলোতেও কৃত্রিম টার্ফের সুবিধা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান দলের ম্যানেজার। তাঁর মতে, তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভা খুঁজে বের করা ও তাদের বিকাশে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ জাতীয় দল গড়ে তুলতে অবকাঠামো, পৃষ্ঠপোষকতা ও কোচিংয়ে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।
বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকলেও দেশের হকির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ফেডারেশন। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় নারী হকির উন্নয়ন কর্মসূচি সম্প্রসারণকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছে তারা। এ ক্ষেত্রে ব্র্যাক ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের সহায়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সামনে বাংলাদেশের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি রয়েছে। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পাশাপাশি নেশন্স কাপ ও অলিম্পিক বাছাইপর্বেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের।
জাতীয় হকি দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার পুষ্কর খিসা মিমোও মনে করেন, আসন্ন এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশগ্রহণ খেলোয়াড়দের মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন এবং ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে।
মিমো বলেন, “এত বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেললে আমাদের অভিজ্ঞতা বাড়বে। এর আগে আমরা চীনকে হারিয়েছি। তাই তাদের বিপক্ষেও ভালো হকি খেলার চেষ্টা করব। বিশেষ কওে প্রতিটি ম্যাচে জয়ের লক্ষ্যে মাঠ নামবো।”
দলে সিনিয়র ও জুনিয়র খেলোয়াড়দের সমন্বয় থাকায় এই সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে চায় বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, “সিনিয়র ও জুনিয়র খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া দল নিয়ে আমরা যদি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সেরা খেলাটা খেলতে পারি, তাহলে সামনের টুর্নামেন্টগুলো নিয়ে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।”
টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুতির সময় তুলনামূলক কম ছিল বলেও জানান মিমো। জাপান থেকে ফেরার পাঁচ দিন পর খেলোয়াড়েরা আবার অনুশীলন শিবিরে যোগ দেন।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 
























