শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩২ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান

ভর্তি পরীক্ষায় লটারি সিস্টেম বাতিলের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৫ বার পঠিত

হাফসা আক্তার  :

ভর্তি পরীক্ষায় লটারি সিস্টেম বাতিলের দাবিতে আজ সকালে আন্দোলনে নেমেছেন রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকালে রাজধানীর উত্তরা ৬ নং সেক্টরে অবস্থিত শিক্ষার্থীরা রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের মেইন গেইটে  শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এসময় তারা বলেন,” শিক্ষা না জুয়া- শিক্ষা শিক্ষা, লটারী না পরীক্ষা -পরীক্ষা পরীক্ষা ”
লটারী সিস্টেম বাতিল, করতে হবে করতে হবে স্লোগান দিতে থাকে। আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সাথে যুক্ত হয় অভিবাবকরাও।
এ সময় তারা বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় লটারি সিস্টেম থাকার কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী এই কলেজে ভর্তি হতে পারে না।
অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে অবস্থিত এই কলেজ দীর্ঘদিন থেকে ভালো ফলাফল করে আসছে। অনেকে মনে করছেন,লটারি সিস্টেমে লেখা পড়ায় অমনোযোগী ছাত্র-ছাত্রীরা ভর্তির সুযোগ পাওয়ার কারণে এখানকার শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অভিভাবক মহল জানান রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ স্বনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠান, এই প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঠিক মেধার কর্ম বিকাশের স্বার্থে হলেও ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই বাছাই করে ভর্তি নেওয়া উচিত।
তারা বলেন, সরকারকে সিলেক্ট করতে হবে — কোথায় মেধা ভিত্তিক ভর্তি হবে এবং কোথায় লটারি হবে। মেধাবীদের সঙ্গে লটারি সিস্টেম চলে না। তাই সরকারকে স্পষ্টভাবে আলাদা আলাদা ভর্তি নীতিমালা নির্ধারণ করতে হবে।

আমরা অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বলছি — লটারি সিস্টেম বাতিল করতে হবে। কোনও ধরনের লটারি চালু থাকবে না এ ধরনের শ্রেষ্ঠ কলেজে। এখানে শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতে, ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে।
অভিবাবকরা আরো বলেন,
রাজউক কলেজের মতো একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে লটারি সিস্টেম মানায় না। লটারি সিস্টেম চালু থাকা মানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের অপমান করা হয়। তাই আমরা অভিভাবকরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই — রাজউক কলেজ থেকে লটারি সিস্টেম বাতিল করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন,লটারীর নাম দিয়ে বলা হচ্ছে যে ৩৭টি সিট রাখা হয়েছে। এখন এখান থেকে ২৪টি সিট বাণিজ্য হচ্ছে। একটা বাচ্চা তো আর ৩৭টি সিট নেবে না! আমাদের ব্যাচে যারা ভর্তি হয়েছিল, সবাই মেধার মাধ্যমে ভর্তি হয়েছিল — নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে। প্রত্যেক ব্যাচে ১৭১ জন করে ভর্তি হতো, মোট প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী মেধার জোরে ঢুকত।

কিন্তু এখন কী হচ্ছে? লটারি সিস্টেম চালু করা হয়েছে। সেই লটারির সিস্টেমকে কাজে লাগিয়ে আস্তে আস্তে টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থী ঢোকানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমাদের সমস্যা আসলে দুই-দিকেই, কিন্তু সবচেয়ে খারাপ লাগে যে আমরা লটারির মাধ্যমে ভর্তি হচ্ছি — এটা আমাদের কলেজের সুনাম নষ্ট করছে। আগে যেভাবে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নেয়া হতো, এখন সেটা নেই। ফলে আমরা বুঝতেই পারছি না কে ভালো রেজাল্ট করছে, কে খারাপ করছে।

আমরা যেসব শিশুরা আচরণগতভাবে সমস্যার দিকে যাচ্ছে, তাদেরও বোঝানোর চেষ্টা করছি। কিছু সমস্যা আছে যেগুলো কলেজ কর্তৃপক্ষও সামলাতে পারছে না। আমাদের একটাই দাবি — ভর্তি পরীক্ষার অনুমতি দেয়া হোক। আমরা চাই এই বছরই ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হোক। আমরা কত বছর অপেক্ষা করব? আগামী বছর কে আসবে, কে থাকবে, মন্ত্রণালয়ে কারা থাকবেন — কিছুই জানি না। তাই আমরা চাই এই মুহূর্তের সমাধান। আমাদের একটাই দাবি, একটাই চাওয়া লটারি সিস্টেম বাতিল করতে হবে।
এ সময় তারা
স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন কজেল গেইট এলাকা। তারা বলেন
“কণ্ঠে আমার লাগাও জোর, লটারি সিস্টেম নো মোর!
ওয়ান, টু, থ্রি, ফোর — লটারি সিস্টেম নো মোর!”

সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছেন — ভর্তি পরীক্ষা চালু হলে কোচিং বিজনেস বাড়বে কিনা? তখন তারা বলেন, আমরা একটা ঘটনা বলি — ক্লাস ফোরের একটা বাচ্চা লটারি সিস্টেমের কারণে ক্লাস সিক্সে ভর্তি হয়েছে। এখন তার কতটুকু যোগ্যতা আছে? সে চাপ সামলাতে পারছে না। যখন সিক্সে সে ভর্তি হয়, তখন সেই পড়ার চাপ নিতে না পেরে টিচারের কাছে বেশি বেশি যেতে হয় — তখনই কোচিং বাড়ে।

তাই ভর্তি পরীক্ষা চালু করলে কোচিং বাড়বে — এই যুক্তি সঠিক না। বরং লটারি সিস্টেমেই কোচিং বেড়ে গেছে। এখনো বাচ্চাদের বেশি কোচিং করতে হয়, কারণ যোগ্যতা যাচাই হয় না।

আগে ৮০% নম্বর পেলে সাইন্স দেওয়া হতো। এখন ৬০% পেলেও সাইন্স দেয়া হচ্ছে। ফলে দেখা যাচ্ছে পাঁচ-ছয়টা বিষয়েই স্টুডেন্টরা ফেল করছে। তখন টিচাররা বলে: “তুমি তো খারাপ স্টুডেন্ট, তুমি তো ফেল করো” — এতে বাচ্চারা মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়ে।

যখন একজন শিশুকে বলা হয় যে সে রাজউক স্কুলে পড়ার যোগ্য নয় — তখন সে মানসিকভাবে আরও আঘাত পায়। তাই আমরা চাই মেধা-ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা ফেরত আসুক।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com