ইসরাইলের সেনারা গতকাল শুক্রবার লেবাননের বৈরুতের দক্ষিণ প্রান্তের হিজবুল্লাহর অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পুনরায় হামলা চালিয়েছে।
একই সময় হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তাদের যোদ্ধাদের সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোতে ইসরাইলি বাহিনীর সরাসরি সংঘর্ষ হয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ প্রায় এক মাস পূর্ণ হওয়ার মধ্যেই জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা সতর্ক করে বলেছে যে, লেবাননের মানবিক সংকট ক্রমশ গভীর হচ্ছে এবং এটি এক বড় বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ উদ্যোগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে তেহরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ২ মার্চ ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করলে লেবানন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
ইসরাইল এর জবাবে লেবাননের ওপর বড় আকারের বিমান হামলা চালিয়েছে এবং দক্ষিণে স্থল অভিযান চালাচ্ছে।
লেবাননের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, দক্ষিণ বৈরুতের তাহুয়িতে আল-ঘাদির এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে। ওই এলাকার আরও একটি হামলায় গতকাল শুক্রবার দুই জন নিহত হয়।
এএফপিটিভির ফুটেজে এলাকাটি থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। এটি হিজবুল্লাহর একটি শক্ত ঘাঁটি, যা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর পূর্ববর্তী উচ্ছেদ সতর্কতা এবং ভারী হামলার পর প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
সন্ধ্যায় দক্ষিণ বৈরুতের আরও এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলের সেনারা জানিয়েছে, তারা বৈরুতের হিজবুল্লাহ তৎপরতা লক্ষ্য করে একাধিক আক্রমণ শুরু করেছে এবং দক্ষিণ প্রান্তের কয়েকটি এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার সতর্কবার্তা জারি করেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের কাফর টিবনিতে হিজবুল্লাহ সংযুক্ত ইসলামিক হেলথ কমিটির অ্যাম্বুলেন্সে ইসরাইলি হামলায় এক প্যারামেডিক নিহত হয়েছে। এছাড়াও সাকসাকিয়ে শহরে একটি হামলায় ছয় জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে এবং বেক্কা অঞ্চলে হামলায় এক গর্ভবতী নারী নিহত হয়েছে।
-‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’-
হিজবুল্লাহ একাধিক হামলার ঘোষণা দিয়েছে, ‘যার মধ্যে তারা দাবি করেছে যে, তাদের যোদ্ধারা বেইরুতের ওপর একটি ইসরাইলি যুদ্ধবিমানের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে।’
দক্ষিণ লেবাননে, হিজবুল্লাহ দাবি করেছে যে, তাদের যোদ্ধারা ‘বায়াদা ও শামা গ্রামে ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি লড়াই করেছেন।’
হিজবুল্লাহকে পিছু হটাতে এবং উত্তরাঞ্চলের ইসরাইলি জনবসতিগুলোকে রক্ষা করার লক্ষ্যে, ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহরে প্রবেশ করছে, যার উদ্দেশ্য হলো সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে লিতানি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র এফি ডেফ্রিন বলেন যে, ‘এই বছরের শুরুতে লেবানন সরকারের ঘোষণার বিপরীতে, হিজবুল্লাহ এখনও দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের কার্যক্রম ও হামলা চালাচ্ছে।’
লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মাসে ১,১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
লেবাননে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রতিনিধি ক্যারোলিনা লিন্ডহোম বিলিং সতর্ক করে বলেছেন যে, ‘পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাস্তব।’
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির আঞ্চলিক পরিচালক নিকোলাস ভন আর্ক্স সতর্ক করে বলেছেন যে, লেবাননে ‘মানবিক পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং বরাবরের মতোই বেসামরিক নাগরিকরাই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিচ্ছেন।’
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে বৈঠকের পরে তিনি বলেন, ‘নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তারা বাড়িতে থাকুক বা জোর করে পালাতে বাধ্য হোক।’