সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৩ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রথম ধাপে ঢাকায় নিউজিল্যান্ডের তিন ক্রিকেটার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিতর্কের সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে : তথ্যমন্ত্রী খুলনার মৃৎশিল্পকে বাঁচাতে প্রশাসনের সহায়তা চান কারিগররা নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রেকর্ড প্রাইজমানি টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পরিদর্শন করলেন ফকির মাহবুব আনাম ১২ এপ্রিল পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধি বাংলাদেশ স্পিনারদের সামলানো চ্যালেঞ্জিং হবে : ল্যাথাম হাইকোর্টের বিচারপতি রেজাউল হাসানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে: মীর শাহে আলম প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে সবুজায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছেন : পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

খুলনার মৃৎশিল্পকে বাঁচাতে প্রশাসনের সহায়তা চান কারিগররা

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১ বার পঠিত

পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে জমে উঠেছে খুলনার দিঘলিয়া, ডুমুরিয়া ও পাইকগাছা উপজেলার পালপাড়া। মাটির শিল্পকর্ম তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার কারিগররা।

মাটির ফলের ব্যাংক, পুতুল আর নানান খেলনা। সবই তৈরি হচ্ছে দক্ষ হাতে। এরপর রঙের ছোঁয়ায় প্রাণ পাচ্ছে এসব শিল্পকর্ম। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও সমানভাবে যুক্ত এ কাজে। সকাল থেকে সন্ধ্যা তাদের নিরলস পরিশ্রমেই এগিয়ে চলছে বৈশাখের প্রস্তুতি। তবে সময়ের সাথে বদলে গেছে চিত্র। আগের মতো আর নেই বিক্রি। কমে গেছে চাহিদাও। সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।

মৃৎশিল্পদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধার অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই মৃৎশিল্প। বিশেষ করে প্লাস্টিকের খেলনা সামগ্রীর ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে শিল্পটি। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেই হাতে গোনা কয়েকজন পূর্বপুরুষের এই পেশা এখনও ধরে রেখেছেন।

এক সময় খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি পালপাড়ার প্রায় প্রতিটি পরিবারই জড়িত ছিল এই পেশায়। এখন সেই সংখ্যা কমে এসেছে। জীবিকার তাগিদে অনেকেই ছেড়েছেন বাপ-দাদার পেশা। কেউ দিনমজুর, কেউ বা অন্য কাজে যুক্ত হয়েছেন। তবুও নাড়ির টানে, ঐতিহ্যের টানে, হাতেগোনা কয়েকটি পরিবার এখনও ধরে রেখেছেন এই শিল্প।

পাইকগাছায় মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, থালা-বাসন, ফুলের টব, মাটির ব্যাংক, আগরদানি, মোমদানি, প্রদীপ দানি, বাচ্চাদের খেলনাসহ বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্রের চাহিদা দিন দিন কমে যাচ্ছে। সে কারণে বংশানুক্রমে পাওয়া এ পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের অসংগতি আর জীবন-মান উন্নয়নের জন্য ক্রমশ অন্য পেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছেন তারা। এমনকি মাটির তৈরি তৈজসপত্রের পর্যাপ্ত চাহিদা না থাকায় নতুন করে এ পেশায় কেউ প্রবেশ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, এ পেশার সঙ্গে জড়িতদের অধিকাংশই হিন্দু সম্প্রদায়ের। আবার কেউ কেউ জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের জন্য এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন। বোয়ালিয়া পাল পাড়ায় কয়েকটি পরিবার মৃৎশিল্পের কাজ করেন। বাড়ির উঠান জুড়ে মাটির জিনিসপত্র। ভোর থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে তাদের এ ব্যস্ততা। হাড়ি-পাতিল, মশার কয়েল দানি, সানকি, কলসি, ফুলের টব থেকে শুরু করে শিশুদের খেলনা পুতুল, হাতি, ঘোড়া, ময়ূর, পাখি, নৌকা, পাতিল, জগ, কলসি, চুলা বিভিন্ন খেলনা রং করতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা।

মৃৎশিল্পী সাধনা রানি পাল বাসসকে বলেন, প্লাস্টিকের জন্য মাটির খেলনা আগের মতো বিক্রি হয় না। তবে গদাইপুর মাঠে চৈত্র সংক্রান্তির মেলা ও পহেলা বৈশাখের গ্রামীণ মেলাতে মাটির বিভিন্ন তৈজসপত্র ও ছোটোদের খেলনার চাহিদা থাকে। মেলায় বেচাকেনাও ভালো হয়।

বোয়ালিয়ার পাল পাড়ার মৃৎশিল্পী রবীণ পাল বলেন, আমার বাপ-দাদার জাত ব্যবসা ধরে রাখার জন্য আমি ৩০ বছর যাবৎ এ পেশায় কাজ করছি। আমার পরিবারের আর কেউ এই পেশায় আসতে চায় না। দিনে দিনে মাটির তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদাও কমছে। তাই বর্তমানে স্যানিটারি ল্যাট্রিনের চাক বা রিং বা কুয়ার রিং তৈরি করছি।
মৃৎশিল্পী হরিপদ পাল বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ পেশার শিল্পীদের বাঁচিয়ে রাখতে এখনই সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। দেশের বিভিন্ন স্থানে মেলার ও প্রদর্শনীর আয়োজন করে মাটির জিনিসপত্রের প্রয়োজনীয়তা জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা দরকার। তা না হলে মৃৎশিল্পীদের স্থান হবে শুধুই ইতিহাসের পাতায়।

জানা যায়, উপযুক্ত মাটির অভাব ও আসবাবপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলা নববর্ষের মেলাকে ঘিরে ডুমুরিয়ার মৃৎশিল্পীদের মধ্যে নেই কোনো ব্যস্ততা। মাটির পণ্যের দোকানে শিশু থেকে শুরু করে সব ধরনের মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

উপজেলা সদর ও রানাই পালপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ডুমুরিয়ার ৫ থেকে ৬টি স্থানে তৈরি হয় মাটির তৈজসপত্র। কিন্তু উপযুক্ত মাটির অভাবে এসব কারখানাগুলোতে দৃষ্টিনন্দন কোনো পণ্য তৈরি করতে পারছেন না মৃৎশিল্পীরা। শুধু গতানুগতিক মাটির হাঁড়ি-কলসিসহ কিছু তৈজস পণ্য তৈরি করছে। তবে ক্রমান্বয়ে মাটির তৈরি পণ্যের চাহিদা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন কারু শিল্পীরা।

রানাই গ্রামের সঞ্জয় পাল জানান, একটা সময় পালেরা মাটির পণ্য তৈরি করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এখন বাপ দাদাদের পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুঁকে পড়েছে। তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা-পার্বণ উপলক্ষে পালদের তৈরি পণ্যের চাহিদা এখনো আছে।

মৃৎশিল্পী রুপক পাল জানান, এখন আগের চেয়ে মাটির পণ্য বেশি ক্রয় হচ্ছে। তবে ব্যাবসা খুব ভালো যাচ্ছে না। প্লাস্টিক পণ্যের কারণে বাজারে মাটির তৈরি পণ্যের চাহিদা অনেক কমে গেছে। তবে কিছু মানুষ এ ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে। আবার কেউ পেশা ছেড়ে দিয়েছে।

ডুমুরিয়া বারোআনি বাজারের অরুণ পাল বলেন, মাটির পণ্যের চাহিদা এখন বাড়তে শুরু করেছে। তবে নববর্ষকে ঘিরে দৃষ্টিনন্দন মাটির পণ্য কুষ্টিয়া, পটুয়াখালী, বাউফল, ঝালকাঠি, বরিশাল ও পিরোজপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কিনে এনে ডুমুরিয়ায় বিক্রি করছি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এলাকার মৃৎশিল্পকে ধরে রাখতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে সরকারিভাবে তাদের প্রশিক্ষণ ও ঋণদান কর্মসূচিসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

খুলনার জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত বাসসকে বলেন, এ ব্যাপারে অবশ্যই সরকারের উদ্যোগ রয়েছে। এছাড়াও মাটির তৈরি পণ্যের বাজারজাতসহ এ বিষয়ে তাদের জন্য আরও ভালো কী করা যায়- সেটি খতিয়ে দেখা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com