ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি-
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় গ্রাম্য সালিশ বৈঠকে প্রকাশ্যে মাথার চুল কেটে অপমান করার ঘটনায় আত্মহত্যার চেষ্টা করা কিশোর এনামুল খান (১৯) দীর্ঘ চিকিৎসার পর মৃত্যুবরণ করেছে। এ ঘটনায় জড়িত এক ইউপি সদস্যকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের লোহারটেক গ্রামের আইয়ুব খানের ছেলে এনামুল খানের মোটরসাইকেলের নিচে পড়ে প্রতিবেশী টুকু খানের একটি বকনা বাছুর আহত হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ১২ নভেম্বর রাতে একটি গ্রাম্য সালিশ বৈঠক বসে।
সালিশ বৈঠকে উপস্থিত ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সরোয়ার আজম মৃধার নেতৃত্বে এনামুলকে মারধর করা হয় এবং তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে সবার সামনে তার মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয়, যা তাকে চরম অপমানের মুখে ফেলে।
দুইদিন পরে ১৪ নভেম্বর অপমান সইতে না পেরে এনামুল নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রায় তিন মাস আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
পরবর্তীতে ১৪ মার্চ ২০২৫ (শুক্রবার) রাতে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এনামুলের মৃত্যু হয়।
দীঘ প্রায় ৫ মাস পর বিজ্ঞ আদালত পুলিশ প্রতিবেদনে উপর উভয় পক্ষের আইনজীবীর মাধ্যমে শুনানি শেষে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সরোয়ার মৃধাকে জেল হাজতে প্রেরন করেন।
অএ মামলার বাদি পক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবী কাজী তুষার মাহমুদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায় যে অএ মামলার আসামী পক্ষের বিরুদ্ধে ৩০৬ ধারায় সুনির্দিষ্ট ভাবে অভিযোগ থাকায় সাক্ষ্যজেরা শেষে আসামীর ১০ বছরের জেল হতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের বিচারবহির্ভূত সালিশ বৈঠকের নামে অপমান ও নির্যাতনের ঘটনা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
পুলিশ জানায়, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আইনগত ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।