মোহাম্মদ সুমন হোসাইনঃ
স্টাফ রিপোর্টারঃ
স্মার্টফোনের পর্দায় ডুবে যাচ্ছে কৈশোর। সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে কিশোরদের মোবাইল ফোনে আসক্তি। আর এই আসক্তির সুযোগ নিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইন জুয়ার ভয়াল নেশা। অল্প সময়ে বড়লোক হওয়ার মিথ্যা স্বপ্নে পড়ে নিজেদের মধুময় কৈশোর হারিয়ে ফেলছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।
অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ বিস্তার
ফ্রি ফায়ার, পাবজির মতো গেমের আড়ালে, আবার কখনও সরাসরি বেটিং অ্যাপের মাধ্যমে কিশোররা জড়িয়ে পড়ছে অনলাইন জুয়ায়। হাতে থাকা মোবাইল ফোনটিই হয়ে উঠছে জুয়ার বোর্ড। টিফিনের টাকা, বাবা-মায়ের পকেট থেকে চুরি করা টাকা, এমনকি মোবাইল বিক্রি করেও এই নেশার টাকা জোগাড় করছে তারা।
প্রথমে ১০০ টাকা জিতে ১ হাজার টাকার লোভ, এরপর সর্বস্ব হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে কিশোররা।
অভিভাবকরা বলেন, সারাদিন মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে। রাতে ঘুমায় না জিজ্ঞেস করলে রেগে যায়।
সচেতন মহলের ব্যক্তিরা দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, অনলাইন জুয়া কিশোরদের মস্তিষ্কে ক্ষীণ করে দেয়। এটা মাদকের মতোই ভয়ংকর আসক্তি তৈরি করে। এতে পড়াশোনা খেলাধুলা সামাজিকতা সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তারা। দীর্ঘমেয়াদে হতাশা, আত্মহত্যার প্রবণতাও তৈরি হতে পারে।
এখনই লাগাম টানা জরুরি
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দেশে হাজার হাজার অবৈধ বেটিং সাইট ও অ্যাপ সক্রিয়। বিকাশ-নগদের মাধ্যমে সহজে লেনদেন হওয়ায় কিশোররা সহজেই ফাঁদে পড়ছে।
এই অবস্থা চলতে থাকলে একটি মেধাহীন, নৈতিকতাহীন প্রজন্ম তৈরি হবে। এখনই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধ্বংসের পথে চলে যাবে।