ঢাকা ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন সিলেটে প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে জনতার ঢল,ফ্যাসিবাদ চাই না বিরোধী দলীয় নেতা  জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি নির্দেশনা প্রকাশ ফেসবুকে আসছে বিনামূল্যের ভেরিফায়েড ব্যাজ বর্ষাকালে পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে যা খাবেন নারীরা যে ৫ কথা ভুলেও সঙ্গীকে বলবেন না আন্দোলনে সমর্থন জানানো শাবানা আজমি আইসোলেশনে ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি ছাড়ল খেলাফত মজলিস সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রিফাতের চাঁদাবাজি ও সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ রংপুর বিভাগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের মহাসচিব পদে ছয় প্রার্থী মুখোমুখি হচ্ছেন টেলিভিশন বিতর্কে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের দৌড়ে থাকা ছয় প্রার্থী বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক সাধারণ পরিষদ হলে টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নেবেন। বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর এক সপ্তাহ আগে এই বিতর্ক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এবারের প্রচারণায় এখনো কোনো স্পষ্ট শীর্ষ প্রার্থী সামনে আসেননি। নির্বাচন ঘিরে উল্লেখযোগ্য উৎসাহও দেখা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় প্রার্থীরা কূটনীতিক, জাতিসংঘের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন।

৯০ মিনিটের এই বিতর্কটি ব্লুমবার্গ সম্প্রচার করবে।

জাতিসংঘ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি হতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চিলির মিশেল ব্যাচেলেট, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা, আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্পান, গায়ানার ক্যারোলিন রড্রিগেজ-বিরকেট ও সেনেগালের ম্যাকি সাল।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক বলেন, ‘জাতিসংঘের এই টাউন হল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পদের প্রার্থীদের ভাবনা, অগ্রাধিকার ও নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি জানার বিরল সুযোগ করে দেবে।’

তিনি বলেন, ‘ক্রমেই বিভক্ত হয়ে পড়া বিশ্বে জাতিসংঘের এমন একজন অসাধারণ প্রধান প্রশাসক দরকার, যিনি সংস্থাটিকে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী করে তুলবেন। একই সঙ্গে এমন একজন নেতাও প্রয়োজন, যিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জাতিসংঘ সনদ ও এর তিনটি মূল ভিত্তি রক্ষায় কাজ করবেন।’

বর্তমানে জাতিসংঘ তীব্র আর্থিক ও আস্থার সংকটের মুখে রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিযোগ, সংস্থাটি বেপরোয়াভাবে অর্থ ব্যয় করছে, অতিরিক্ত বিস্তৃত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে ও প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র সংস্থাটিকে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্যে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশ মানবাধিকার ও উন্নয়ন— এই বাকি দুই ভিত্তির সমান গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছে।

এরই মধ্যে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিটি প্রার্থী তিন ঘণ্টা করে সময় দিয়েছেন।

বেশির ভাগ প্রার্থী সংস্থাকে আরও কার্যকর করতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে মহাসচিবের আরও সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

৩০ জুলাই নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য প্রার্থীদের বিষয়ে নিজেদের পছন্দ যাচাই করতে প্রথম দফার গোপন ও নামবিহীন ভোট দেবেন।

এরপর একই ধরনের আরও কয়েক দফা ভোট হবে। কোনো প্রার্থীকে নির্বাচিত হতে হলে অন্তত নয়টি ভোট পেতে হবে। একই সঙ্গে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কোনো দেশের ভেটোর মুখে পড়া যাবে না।

নির্বাচিত প্রার্থীর নাম পরে আনুষ্ঠানিক নিয়োগের জন্য সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে।

তিনি ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

জাতিসংঘের বিভিন্ন দপ্তর ও গণমাধ্যমে এখনো কয়েকটি নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নামও রয়েছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাকে জাতিসংঘের নেতৃত্বে দেখতে চান।

সব সময় অনুসরণ না হলেও ভৌগোলিক পালাক্রমের প্রচলিত রীতির ভিত্তিতে এবার ল্যাটিন আমেরিকা এ পদটির দাবি জানাচ্ছে।

এ ছাড়া অনেক দেশ প্রথমবারের মতো একজন নারীকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চায়।

 


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন

জাতিসংঘের মহাসচিব পদে ছয় প্রার্থী মুখোমুখি হচ্ছেন টেলিভিশন বিতর্কে

আপডেট টাইম : ০৫:৫৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের দৌড়ে থাকা ছয় প্রার্থী বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক সাধারণ পরিষদ হলে টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নেবেন। বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর এক সপ্তাহ আগে এই বিতর্ক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এবারের প্রচারণায় এখনো কোনো স্পষ্ট শীর্ষ প্রার্থী সামনে আসেননি। নির্বাচন ঘিরে উল্লেখযোগ্য উৎসাহও দেখা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় প্রার্থীরা কূটনীতিক, জাতিসংঘের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন।

৯০ মিনিটের এই বিতর্কটি ব্লুমবার্গ সম্প্রচার করবে।

জাতিসংঘ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি হতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চিলির মিশেল ব্যাচেলেট, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা, আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্পান, গায়ানার ক্যারোলিন রড্রিগেজ-বিরকেট ও সেনেগালের ম্যাকি সাল।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক বলেন, ‘জাতিসংঘের এই টাউন হল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পদের প্রার্থীদের ভাবনা, অগ্রাধিকার ও নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি জানার বিরল সুযোগ করে দেবে।’

তিনি বলেন, ‘ক্রমেই বিভক্ত হয়ে পড়া বিশ্বে জাতিসংঘের এমন একজন অসাধারণ প্রধান প্রশাসক দরকার, যিনি সংস্থাটিকে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী করে তুলবেন। একই সঙ্গে এমন একজন নেতাও প্রয়োজন, যিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জাতিসংঘ সনদ ও এর তিনটি মূল ভিত্তি রক্ষায় কাজ করবেন।’

বর্তমানে জাতিসংঘ তীব্র আর্থিক ও আস্থার সংকটের মুখে রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিযোগ, সংস্থাটি বেপরোয়াভাবে অর্থ ব্যয় করছে, অতিরিক্ত বিস্তৃত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে ও প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র সংস্থাটিকে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্যে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশ মানবাধিকার ও উন্নয়ন— এই বাকি দুই ভিত্তির সমান গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছে।

এরই মধ্যে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিটি প্রার্থী তিন ঘণ্টা করে সময় দিয়েছেন।

বেশির ভাগ প্রার্থী সংস্থাকে আরও কার্যকর করতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে মহাসচিবের আরও সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

৩০ জুলাই নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য প্রার্থীদের বিষয়ে নিজেদের পছন্দ যাচাই করতে প্রথম দফার গোপন ও নামবিহীন ভোট দেবেন।

এরপর একই ধরনের আরও কয়েক দফা ভোট হবে। কোনো প্রার্থীকে নির্বাচিত হতে হলে অন্তত নয়টি ভোট পেতে হবে। একই সঙ্গে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কোনো দেশের ভেটোর মুখে পড়া যাবে না।

নির্বাচিত প্রার্থীর নাম পরে আনুষ্ঠানিক নিয়োগের জন্য সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে।

তিনি ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

জাতিসংঘের বিভিন্ন দপ্তর ও গণমাধ্যমে এখনো কয়েকটি নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নামও রয়েছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাকে জাতিসংঘের নেতৃত্বে দেখতে চান।

সব সময় অনুসরণ না হলেও ভৌগোলিক পালাক্রমের প্রচলিত রীতির ভিত্তিতে এবার ল্যাটিন আমেরিকা এ পদটির দাবি জানাচ্ছে।

এ ছাড়া অনেক দেশ প্রথমবারের মতো একজন নারীকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চায়।

 


প্রিন্ট