ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন সিলেটে প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে জনতার ঢল,ফ্যাসিবাদ চাই না বিরোধী দলীয় নেতা  জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি নির্দেশনা প্রকাশ ফেসবুকে আসছে বিনামূল্যের ভেরিফায়েড ব্যাজ বর্ষাকালে পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে যা খাবেন নারীরা যে ৫ কথা ভুলেও সঙ্গীকে বলবেন না আন্দোলনে সমর্থন জানানো শাবানা আজমি আইসোলেশনে ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি ছাড়ল খেলাফত মজলিস সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রিফাতের চাঁদাবাজি ও সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ রংপুর বিভাগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

নারীরা যে ৫ কথা ভুলেও সঙ্গীকে বলবেন না

সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: সম্পর্ক গড়ে তোলার চেয়ে তা টিকিয়ে রাখা বেশি কষ্টের। দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো রাখতে বেশ কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি। বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে সম্পর্ক যেমন দ্রুত তৈরি হয় ঠিক তেমনই তা ভেঙে যেতে সময় লাগে আরও কম।

যদিও সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া কারও কাম্য নয়। তবে এমন কিছু বিষয় আছে যা সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়। সম্পর্ক যাওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে।

সুস্থ সম্পর্ক শুধু সত্য বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর অর্থ এটাও যে, কখন কিছু নির্দিষ্ট চিন্তা, মতামত বা কথা ক্ষতি করা ছাড়া অন্য কোনো কাজে আসে না, তা জানা। প্রাইভেসি বজায় রাখার অর্থ গোপনীয়তা রক্ষা করা নয়। এর অর্থ হলো খোলামেলা থাকা এবং অপ্রয়োজনে আঘাত করার মধ্যে পার্থক্য বোঝা। এখানে এমন পাঁচটি বিষয় রয়েছে যেগুলোকে সঙ্গীর সঙ্গে ভাগ করে না নেওয়াই ভালো-

তার সম্পর্কে আপনার প্রতিটি নেতিবাচক চিন্তা

কেউই প্রতিদিন সুখী, ধৈর্যশীল বা স্নেহশীল থাকে না। এমন মুহূর্ত আসবে যখন আপনার সঙ্গী আপনাকে বিরক্ত করবে, হতাশ করবে বা কেবল আপনার মেজাজ খারাপ করে দেবে। কিন্তু প্রতিটি ক্ষণস্থায়ী হতাশার জন্য গুরুতর আলোচনার প্রয়োজন নেই। যদি আপনার সঙ্গী একবার সিঙ্কে থালাবাসন ফেলে রাখে বা ব্যস্ত থাকার কারণে টেক্সটের উত্তর দিতে ভুলে যায়, তবে সেজন্য তাকে কঠিন কোনো কথা শুনিয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এর পরিবর্তে, নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন যে সমস্যাটি সাময়িক নাকি এমন কিছু যার প্রতি সত্যিই মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। বারবার ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে পারেন।

অতীতের সম্পর্কগুলোর প্রতিটি খুঁটিনাটি

আপনার অতীত আপনার জীবনেরই একটি অংশ। যখন স্বাভাবিকভাবেই প্রসঙ্গ আসে তখন পূর্ববর্তী সম্পর্কগুলো নিয়ে কথা বলা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তবে প্রতিটি অন্তরঙ্গ বিবরণ, প্রতিটি তুলনা বা প্রতিটি আবেগঘন স্মৃতি ভাগ করে নেওয়ার মধ্যে খুব কমই কোনো উপকারিতা আছে। এগুলো অপ্রয়োজনীয় তুলনা তৈরি করে যা আপনার সঙ্গীর মনে দীর্ঘস্থায়ী হয়। এমন অভিজ্ঞতাগুলো ভাগ করে নিন যা আপনার সঙ্গীকে আপনাকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে। এমন বিবরণগুলো এড়িয়ে চলুন যা নিরাপত্তাহীনতাকে আমন্ত্রণ জানানো ছাড়া আর কোনো কাজে আসে না।

অন্য কারও ব্যক্তিগত আলাপ

সেটি আপনার ভাই বা বোনের দাম্পত্য সমস্যাই হোক, আপনার প্রিয় বন্ধুর আর্থিক সংকটই হোক, বা আপনার সহকর্মীর ব্যক্তিগত সমস্যাই হোক, সব কথাই আপনার সম্পর্কের মধ্যে বলার মতো নয়। বিশ্বাস দুইতরফাভাবেই কাজ করে। যদি মানুষ জানে যে তারা আপনাকে যা কিছু বলছে, তা শেষ পর্যন্ত আপনার সঙ্গীর সঙ্গে রাতের খাবারের টেবিলে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে তারা হয়তো আপনার কাছে মনের কথা বলা পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। সম্পর্কে থাকার অর্থ এই নয় যে অন্য কারো গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে।

তার সম্পর্কে আপনার পরিবার বা বন্ধুদের প্রতিটি মতামত

পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা কখনও কখনও রাগের মাথায় অনেক কথা বলে ফেলে। ঝগড়ার পর কোনো ভাই বা বোন অভিযোগ করতে পারে। কোনো বন্ধু হয়তো এমন কোনো সাধারণ মন্তব্য করতে পারে যা সে গুরুত্ব সহকারে করতে চায়নি। আপনার সঙ্গীর কাছে প্রতিটি সমালোচনা বারবার বলতে থাকলে এমন এক মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে যা মূল মন্তব্যের চেয়ে অনেক বেশি দিন স্থায়ী হয়। অন্যদের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিটি নেতিবাচক মতামত সঙ্গীর কাছে পৌঁছে দিলে এমন সমস্যা তৈরি হয় যা আসলে ছিলই না।

পাসওয়ার্ড, আর্থিক বিষয় এবং ব্যক্তিগত সীমারেখা

অনেকেই ভালোবাসা প্রমাণ করার জন্য ফোনের পাসওয়ার্ড, ব্যাঙ্কের বিবরণ, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, বা এমনকী তার লাইভ লোকেশনও সারাক্ষণ শেয়ার করার জন্য চাপ অনুভব করেন। বাস্তবে আপনি কতটা গোপনীয়তা বিসর্জন দিচ্ছেন, তা দিয়ে বিশ্বাসের পরিমাপ করা যায় না। একটি সুস্থ সম্পর্কে ব্যক্তিগত পরিসরের জন্য জায়গা থাকে। আপনার নিজস্ব সীমারেখা, আর্থিক স্বাধীনতা, বন্ধুদের সাথে ব্যক্তিগত আলাপ এবং একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্ত রাখার অধিকার আছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন

নারীরা যে ৫ কথা ভুলেও সঙ্গীকে বলবেন না

আপডেট টাইম : ০৮:৫৯:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: সম্পর্ক গড়ে তোলার চেয়ে তা টিকিয়ে রাখা বেশি কষ্টের। দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো রাখতে বেশ কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি। বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে সম্পর্ক যেমন দ্রুত তৈরি হয় ঠিক তেমনই তা ভেঙে যেতে সময় লাগে আরও কম।

যদিও সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া কারও কাম্য নয়। তবে এমন কিছু বিষয় আছে যা সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়। সম্পর্ক যাওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে।

সুস্থ সম্পর্ক শুধু সত্য বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর অর্থ এটাও যে, কখন কিছু নির্দিষ্ট চিন্তা, মতামত বা কথা ক্ষতি করা ছাড়া অন্য কোনো কাজে আসে না, তা জানা। প্রাইভেসি বজায় রাখার অর্থ গোপনীয়তা রক্ষা করা নয়। এর অর্থ হলো খোলামেলা থাকা এবং অপ্রয়োজনে আঘাত করার মধ্যে পার্থক্য বোঝা। এখানে এমন পাঁচটি বিষয় রয়েছে যেগুলোকে সঙ্গীর সঙ্গে ভাগ করে না নেওয়াই ভালো-

তার সম্পর্কে আপনার প্রতিটি নেতিবাচক চিন্তা

কেউই প্রতিদিন সুখী, ধৈর্যশীল বা স্নেহশীল থাকে না। এমন মুহূর্ত আসবে যখন আপনার সঙ্গী আপনাকে বিরক্ত করবে, হতাশ করবে বা কেবল আপনার মেজাজ খারাপ করে দেবে। কিন্তু প্রতিটি ক্ষণস্থায়ী হতাশার জন্য গুরুতর আলোচনার প্রয়োজন নেই। যদি আপনার সঙ্গী একবার সিঙ্কে থালাবাসন ফেলে রাখে বা ব্যস্ত থাকার কারণে টেক্সটের উত্তর দিতে ভুলে যায়, তবে সেজন্য তাকে কঠিন কোনো কথা শুনিয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এর পরিবর্তে, নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন যে সমস্যাটি সাময়িক নাকি এমন কিছু যার প্রতি সত্যিই মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। বারবার ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে পারেন।

অতীতের সম্পর্কগুলোর প্রতিটি খুঁটিনাটি

আপনার অতীত আপনার জীবনেরই একটি অংশ। যখন স্বাভাবিকভাবেই প্রসঙ্গ আসে তখন পূর্ববর্তী সম্পর্কগুলো নিয়ে কথা বলা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তবে প্রতিটি অন্তরঙ্গ বিবরণ, প্রতিটি তুলনা বা প্রতিটি আবেগঘন স্মৃতি ভাগ করে নেওয়ার মধ্যে খুব কমই কোনো উপকারিতা আছে। এগুলো অপ্রয়োজনীয় তুলনা তৈরি করে যা আপনার সঙ্গীর মনে দীর্ঘস্থায়ী হয়। এমন অভিজ্ঞতাগুলো ভাগ করে নিন যা আপনার সঙ্গীকে আপনাকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে। এমন বিবরণগুলো এড়িয়ে চলুন যা নিরাপত্তাহীনতাকে আমন্ত্রণ জানানো ছাড়া আর কোনো কাজে আসে না।

অন্য কারও ব্যক্তিগত আলাপ

সেটি আপনার ভাই বা বোনের দাম্পত্য সমস্যাই হোক, আপনার প্রিয় বন্ধুর আর্থিক সংকটই হোক, বা আপনার সহকর্মীর ব্যক্তিগত সমস্যাই হোক, সব কথাই আপনার সম্পর্কের মধ্যে বলার মতো নয়। বিশ্বাস দুইতরফাভাবেই কাজ করে। যদি মানুষ জানে যে তারা আপনাকে যা কিছু বলছে, তা শেষ পর্যন্ত আপনার সঙ্গীর সঙ্গে রাতের খাবারের টেবিলে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে তারা হয়তো আপনার কাছে মনের কথা বলা পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। সম্পর্কে থাকার অর্থ এই নয় যে অন্য কারো গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে।

তার সম্পর্কে আপনার পরিবার বা বন্ধুদের প্রতিটি মতামত

পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা কখনও কখনও রাগের মাথায় অনেক কথা বলে ফেলে। ঝগড়ার পর কোনো ভাই বা বোন অভিযোগ করতে পারে। কোনো বন্ধু হয়তো এমন কোনো সাধারণ মন্তব্য করতে পারে যা সে গুরুত্ব সহকারে করতে চায়নি। আপনার সঙ্গীর কাছে প্রতিটি সমালোচনা বারবার বলতে থাকলে এমন এক মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে যা মূল মন্তব্যের চেয়ে অনেক বেশি দিন স্থায়ী হয়। অন্যদের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিটি নেতিবাচক মতামত সঙ্গীর কাছে পৌঁছে দিলে এমন সমস্যা তৈরি হয় যা আসলে ছিলই না।

পাসওয়ার্ড, আর্থিক বিষয় এবং ব্যক্তিগত সীমারেখা

অনেকেই ভালোবাসা প্রমাণ করার জন্য ফোনের পাসওয়ার্ড, ব্যাঙ্কের বিবরণ, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, বা এমনকী তার লাইভ লোকেশনও সারাক্ষণ শেয়ার করার জন্য চাপ অনুভব করেন। বাস্তবে আপনি কতটা গোপনীয়তা বিসর্জন দিচ্ছেন, তা দিয়ে বিশ্বাসের পরিমাপ করা যায় না। একটি সুস্থ সম্পর্কে ব্যক্তিগত পরিসরের জন্য জায়গা থাকে। আপনার নিজস্ব সীমারেখা, আর্থিক স্বাধীনতা, বন্ধুদের সাথে ব্যক্তিগত আলাপ এবং একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্ত রাখার অধিকার আছে।


প্রিন্ট