ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক আব্দুল রহিমের বাড়ি কাঁঠালিয়ায় চলছে শোকের মাতম তুমুলিয়া প্রিমিয়াম লীগ ফুটবল টিপিিি এস,( সিজন ৩) টুনামেন্টপর উদ্ভোদন অনুষ্ঠিত দিনাজপুরের বিরামপুরে অসহায়,দুস্থ ও প্রতিবন্ধীর মাঝে বিশেষ অনুদান,সেলাই মেশিন ও চেক বিতরণ ইটিপি চালু রাখার দাবি রূপগঞ্জে ডায়িং কারখানার বিরুদ্ধে পরিবেশ বিপন্নের অভিযোগ \ পানি দূষণে মাছের মৃত্যু ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্থ পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসককে ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলা সমিতির ফুলেল শুভেচ্ছা কালিয়াকৈরে তুরাগ নদে পিকনিকের নামে নৌকায় তরুণ তরুণীর অসামাজিক কার্যকলাপে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী জুলাইয়ের অর্জন কারও একার নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের: শফিকুর রহমান প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে রাতের ঢাকা ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলার ছেলের বিরুদ্ধে তদন্তের অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট তাজির হোসেনের সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মানবিক সহায়তা দিল প্রবাসী ঐক্য পরিষদ বিশ্বম্ভরপুর

জুলাইয়ের অর্জন কারও একার নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের: শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই গণ-আন্দোলনের অর্জন কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একার নয়; এটি দেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্মিলিত অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট তৎকালীন সরকার অন্যায়ভাবে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তবে সেই সিদ্ধান্তের কয়েক দিনের মধ্যেই সরকার ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। জনগণের আন্দোলন ও আল্লাহর ইচ্ছার কারণেই তা সম্ভব হয়েছিল।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছে শ্রমিক সমাজ। জাতিসংঘের তথ্য মোতাবেক, প্রায় ১ হাজার ৪০০ শহীদের মধ্যে পেশাভিত্তিক হিসেবে শ্রমিকের সংখ্যাই বেশি। এরপর ছাত্র এবং সাধারণ জনগণ সবচেয়ে বেশি আত্মত্যাগ করেছেন।

সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, দেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি কমেনি, বরং বেড়েছে। পরিবহন শ্রমিকরা এখনও চাঁদাবাজদের হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর, গাড়ি ভাঙচুরসহ নানা হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ নেতাও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন। যখন ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নিলেন, তখন কি এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিকতা থাকে? নৈতিক দিক থেকে সরকার দেশ পরিচালনার অধিকার হারিয়েছে।

পরিবহন শ্রমিকদের ১২ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় এসব দাবি উত্থাপন করতে হচ্ছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী পাশে থাকবে।

জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে কেউ যেন একক দাবি না করে, সে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই আন্দোলন কোনো দলের ছিল না; এটি পুরো জাতির আন্দোলন। আহত ও পঙ্গু হয়ে যাওয়া জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।

গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জনগণ যে রায় দিয়েছে, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হলে সেই রায় মেনে নিতে হবে। জনগণের রায় অস্বীকার করা মানে জনগণকে অপমান করা। জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার বিরোধিতা করা হবে।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কবির আহমদ প্রমুখ।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক আব্দুল রহিমের বাড়ি কাঁঠালিয়ায় চলছে শোকের মাতম

জুলাইয়ের অর্জন কারও একার নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের: শফিকুর রহমান

আপডেট টাইম : ০৩:২১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই গণ-আন্দোলনের অর্জন কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একার নয়; এটি দেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্মিলিত অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট তৎকালীন সরকার অন্যায়ভাবে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তবে সেই সিদ্ধান্তের কয়েক দিনের মধ্যেই সরকার ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। জনগণের আন্দোলন ও আল্লাহর ইচ্ছার কারণেই তা সম্ভব হয়েছিল।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছে শ্রমিক সমাজ। জাতিসংঘের তথ্য মোতাবেক, প্রায় ১ হাজার ৪০০ শহীদের মধ্যে পেশাভিত্তিক হিসেবে শ্রমিকের সংখ্যাই বেশি। এরপর ছাত্র এবং সাধারণ জনগণ সবচেয়ে বেশি আত্মত্যাগ করেছেন।

সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, দেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি কমেনি, বরং বেড়েছে। পরিবহন শ্রমিকরা এখনও চাঁদাবাজদের হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর, গাড়ি ভাঙচুরসহ নানা হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ নেতাও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন। যখন ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নিলেন, তখন কি এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিকতা থাকে? নৈতিক দিক থেকে সরকার দেশ পরিচালনার অধিকার হারিয়েছে।

পরিবহন শ্রমিকদের ১২ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় এসব দাবি উত্থাপন করতে হচ্ছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী পাশে থাকবে।

জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে কেউ যেন একক দাবি না করে, সে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই আন্দোলন কোনো দলের ছিল না; এটি পুরো জাতির আন্দোলন। আহত ও পঙ্গু হয়ে যাওয়া জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।

গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জনগণ যে রায় দিয়েছে, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হলে সেই রায় মেনে নিতে হবে। জনগণের রায় অস্বীকার করা মানে জনগণকে অপমান করা। জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার বিরোধিতা করা হবে।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কবির আহমদ প্রমুখ।


প্রিন্ট