ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হোয়াটসঅ্যাপে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, বন্ধ অনেক অ্যাকাউন্ট বর্ষাকালে ত্বক ভালো রাখতে যে ৫ কাজ করবেন ঘুমের মধ্যে বারবার গলা শুকিয়ে যায়, এটি কি ভয়াবহ রোগের ইঙ্গিত খুবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর গণভোজের আয়োজন রাজধানীতে মাদ্রাসার শৌচাগারে ছাত্রের লাশ: হত্যা মামলায় দুই শিক্ষক কারাগারে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের চেয়ারম্যান হলেন ড. এম. তামিম উলিপুরে এনামুল হক ক্বারী নামে ধ/র্ষকের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও বিএনপির সক্রিয় অংশগ্রহণেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কালীগঞ্জে মা/দকসেবীকে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড শহীদের আত্মত্যাগে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

২০৩০ বিশ্বকাপেও যুক্তরাষ্ট্রের কোচ থাকবেন পচেত্তিনো

স্পোর্টস ডেস্ক: সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জাতীয় দলকে শেষ ১৬ বা শেষ ৩২-এর পর্বে নিয়ে যাওয়ার সাফল্যের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুরুষ ফুটবল দলের হেড কোচ হিসেবে নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন মরিসিও পচেত্তিনো।

এবারের বিশ্বকাপে পচেত্তিনোর অধীনে শেষ ১৬-তে উঠেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটাই ছিল দলটির প্রথম জয়। তবে শেষ ১৬-তে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র ৪-১ গোলে বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিদায় নেয়।

এক বিবৃতিতে পচেত্তিনো বলেন, “গত দুই বছর ইউএস সকারের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার পর আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়েছে যে জাতীয় দলের কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।”

“বিশ্বকাপজুড়ে সমর্থকদের কাছ থেকে আমরা যে আবেগ ও সমর্থন পেয়েছি, তাতে এখানে কী সম্ভব, সে বিষয়ে আমাদের বিশ্বাস আরও শক্ত হয়েছে। ইউএস সকারের আরও অনেক ক্ষেত্রে আমাদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়ে আমরা উচ্ছ্বসিত। একই সঙ্গে ফেডারেশনের অধীনে খেলোয়াড়, কোচ ও দলগুলোর বিকাশের পথ আরও শক্তিশালী করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব তৈরি করতে চাই, যে দেশটি আমাদের এত উষ্ণভাবে স্বাগত জানিয়েছে, সেই দেশের খেলাধুলায় আমাদের অবদান যেন শুধু মাঠের ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন চুক্তির আওতায় পচেত্তিনো ও তার কোচিং স্টাফ জাতীয় দলের খেলোয়াড় তৈরির সামগ্রিক প্রক্রিয়া, যুব ফুটবল, কোচিং শিক্ষা, পেশাদার লিগগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয়গুলোর উন্নয়নেও পরামর্শ দেবেন।

পচেত্তিনো খেলোয়াড় ও স্টাফদের মধ্যে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। দলের মানসিকতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার কৃতিত্বও কেউ কেউ এই কোচকে দেন। তবে যেসব খেলোয়াড়ের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি বা দায়বদ্ধতা নিয়ে তার সন্দেহ ছিল, তাদের কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধও হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিলেন মিলানের মিডফিল্ডার ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ। এমনকি পুলিসিচকে নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন পচেত্তিনো।

তার মেয়াদে গণমাধ্যমের সঙ্গে পচেত্তিনোর সম্পর্কও প্রশ্নের মুখে পড়ে। দলের নিয়মিত সংবাদকর্মী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কয়েক দফা বাকবিতন্ডা ও মতবিরোধের জেরেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকাকালে পচেত্তিনোর রেকর্ড মোটামুটি সম্মানজনক- ১৮টি জয়, ১২টি হার ও একটি ড্র। তবে শুরুর দিকে তাকে কিছুটা কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। ২০২৫ নেশন্স লিগে চতুর্থ স্থান অর্জন এবং গোল্ড কাপের ফাইনালে মেক্সিকোর কাছে হার ছিল তার সেই সময়ের ব্যর্থতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। অবশ্য গোল্ড কাপের পুরো টুর্নামেন্টেই তিনি ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত দল নিয়ে খেলিয়েছিলেন।

তবে পচেত্তিনোর কিছু উজ্জ্বল মুহূর্তও ছিল। এবারের গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্দান্ত সূচনা এবং প্রীতি ম্যাচে উরুগুয়েকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়া ছিল তার সাফল্যের অন্যতম দৃষ্টান্ত। উরুগুয়ের বিপক্ষে ওই জয়কে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম চমকপ্রদ ফল হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

তারপরও পচেত্তিনোকে মূলত একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণের দায়িত্ব দিয়েই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ ১৬-এর বাধা পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়ে যাওয়া। তিনি সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেননি। তবে ২০৩০ সালে সেই লক্ষ্য অর্জনের আরেকটি সুযোগ এখন তাকে দিয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

হোয়াটসঅ্যাপে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, বন্ধ অনেক অ্যাকাউন্ট

২০৩০ বিশ্বকাপেও যুক্তরাষ্ট্রের কোচ থাকবেন পচেত্তিনো

আপডেট টাইম : ০৪:১০:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক: সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জাতীয় দলকে শেষ ১৬ বা শেষ ৩২-এর পর্বে নিয়ে যাওয়ার সাফল্যের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুরুষ ফুটবল দলের হেড কোচ হিসেবে নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন মরিসিও পচেত্তিনো।

এবারের বিশ্বকাপে পচেত্তিনোর অধীনে শেষ ১৬-তে উঠেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটাই ছিল দলটির প্রথম জয়। তবে শেষ ১৬-তে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র ৪-১ গোলে বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিদায় নেয়।

এক বিবৃতিতে পচেত্তিনো বলেন, “গত দুই বছর ইউএস সকারের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার পর আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়েছে যে জাতীয় দলের কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।”

“বিশ্বকাপজুড়ে সমর্থকদের কাছ থেকে আমরা যে আবেগ ও সমর্থন পেয়েছি, তাতে এখানে কী সম্ভব, সে বিষয়ে আমাদের বিশ্বাস আরও শক্ত হয়েছে। ইউএস সকারের আরও অনেক ক্ষেত্রে আমাদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়ে আমরা উচ্ছ্বসিত। একই সঙ্গে ফেডারেশনের অধীনে খেলোয়াড়, কোচ ও দলগুলোর বিকাশের পথ আরও শক্তিশালী করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব তৈরি করতে চাই, যে দেশটি আমাদের এত উষ্ণভাবে স্বাগত জানিয়েছে, সেই দেশের খেলাধুলায় আমাদের অবদান যেন শুধু মাঠের ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন চুক্তির আওতায় পচেত্তিনো ও তার কোচিং স্টাফ জাতীয় দলের খেলোয়াড় তৈরির সামগ্রিক প্রক্রিয়া, যুব ফুটবল, কোচিং শিক্ষা, পেশাদার লিগগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয়গুলোর উন্নয়নেও পরামর্শ দেবেন।

পচেত্তিনো খেলোয়াড় ও স্টাফদের মধ্যে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। দলের মানসিকতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার কৃতিত্বও কেউ কেউ এই কোচকে দেন। তবে যেসব খেলোয়াড়ের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি বা দায়বদ্ধতা নিয়ে তার সন্দেহ ছিল, তাদের কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধও হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিলেন মিলানের মিডফিল্ডার ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ। এমনকি পুলিসিচকে নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন পচেত্তিনো।

তার মেয়াদে গণমাধ্যমের সঙ্গে পচেত্তিনোর সম্পর্কও প্রশ্নের মুখে পড়ে। দলের নিয়মিত সংবাদকর্মী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কয়েক দফা বাকবিতন্ডা ও মতবিরোধের জেরেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকাকালে পচেত্তিনোর রেকর্ড মোটামুটি সম্মানজনক- ১৮টি জয়, ১২টি হার ও একটি ড্র। তবে শুরুর দিকে তাকে কিছুটা কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। ২০২৫ নেশন্স লিগে চতুর্থ স্থান অর্জন এবং গোল্ড কাপের ফাইনালে মেক্সিকোর কাছে হার ছিল তার সেই সময়ের ব্যর্থতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। অবশ্য গোল্ড কাপের পুরো টুর্নামেন্টেই তিনি ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত দল নিয়ে খেলিয়েছিলেন।

তবে পচেত্তিনোর কিছু উজ্জ্বল মুহূর্তও ছিল। এবারের গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্দান্ত সূচনা এবং প্রীতি ম্যাচে উরুগুয়েকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়া ছিল তার সাফল্যের অন্যতম দৃষ্টান্ত। উরুগুয়ের বিপক্ষে ওই জয়কে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম চমকপ্রদ ফল হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

তারপরও পচেত্তিনোকে মূলত একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণের দায়িত্ব দিয়েই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ ১৬-এর বাধা পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়ে যাওয়া। তিনি সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেননি। তবে ২০৩০ সালে সেই লক্ষ্য অর্জনের আরেকটি সুযোগ এখন তাকে দিয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।


প্রিন্ট