ঢাকা ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হোয়াটসঅ্যাপে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, বন্ধ অনেক অ্যাকাউন্ট বর্ষাকালে ত্বক ভালো রাখতে যে ৫ কাজ করবেন ঘুমের মধ্যে বারবার গলা শুকিয়ে যায়, এটি কি ভয়াবহ রোগের ইঙ্গিত খুবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর গণভোজের আয়োজন রাজধানীতে মাদ্রাসার শৌচাগারে ছাত্রের লাশ: হত্যা মামলায় দুই শিক্ষক কারাগারে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের চেয়ারম্যান হলেন ড. এম. তামিম উলিপুরে এনামুল হক ক্বারী নামে ধ/র্ষকের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও বিএনপির সক্রিয় অংশগ্রহণেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কালীগঞ্জে মা/দকসেবীকে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড শহীদের আত্মত্যাগে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

জুলাই যোদ্ধাদের গায়ে হাত দেবেন না, এটা হবে চরম নিমকহারামি: ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দমন-পীড়ন না চালানোর জন্য সরকারের প্রতি কঠোর আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যাদের আত্মত্যাগ, সাহস ও সংগ্রামের মাধ্যমে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হলে তা জাতির সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আজাদী সংগ্রামের পটভূমিতে জুলাই বিপ্লব ২০২৪’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ব্যাংককের হাসপাতালে যাদেরকে দেখে আসলাম, এখনো কারো কারো সারা বডি অবশ হয়ে পড়ে আছে। সেখানকার ডাক্তাররা অলরেডি সার্টিফাই করে দিয়েছে, জীবনে তিনি উঠে আর বসতে পারবেন না। সেই লোকগুলোর কথা কেউ ভাববে না। ক্ষমতা আমাদেরকে এরকম অন্ধ বানায় ফেলবে, দুনিয়ার স্বার্থ সবকিছু ভুলিয়ে দেবে, সব সত্য অবলীলায় শেষ হয়ে যাবে, এটা চরম বিশ্বাসঘাতকতা হবে।

তিনি আরও বলেন, সাহসী কাজ যারা হাতে নিয়েছিলেন, তার প্রথম পর্ব যারা আজকে উন্মোচন করার ব্যবস্থা আমাদেরকে করে দিয়েছেন, এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ জানাই। আমি আবার অনুরোধ করব, আপনার আমার পছন্দ হোক না হোক, যার যেখানে যে অবদান এটা যেন আড়াল না হয়। এটা যেন আপনাদের কলমে ইতিহাসের পাতায় উঠে আসে। একটি ক্রেডিবল ইতিহাস তৈরি হোক।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৭১ সালে একজন ইনোসেন্ট মানুষ যদি মারা যায়, সেটার জন্য গোটা জাতি আমরা কষ্ট পাই, দুঃখ বোধ করি। কিন্তু আফসোস, ৫৫টা বছর চলে গেল, না মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সঠিক তালিকা তৈরি হলো, না শহীদদের একটি তালিকা তৈরি হলো। মুক্তিযোদ্ধাদের যেটা আছে সঠিক হোক, বেঠিক কিছুটা আছে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো তালিকা নাই। ৬৫৬ জন নাকি ভাতা পায়, আমি শুনেছি। আশ্চর্য ব্যাপার, আমরা বলে বলছি এত লাখ, এত লাখ, তাহলে এত লাখটা রেকর্ড হচ্ছে না কেন? এটা তো সরকারের দায়িত্ব। এতগুলো সরকার আসলো গেল, সবাই দাবি করেন যে আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্টেকহোল্ডার। আপনারা মুক্তিযুদ্ধের স্টেকহোল্ডার, আপনাদেরকে সম্মান করি। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটা করছেন না কেন? এটা করেন। ইতিহাসটা উঠে আসুক, ওই ফ্যামিলিগুলা গ্লোরিফাই হোক, শহীদের আত্মা শান্তি পাক। ৭১-এর মতো ২৪ যেন হারিয়ে না যায়, এজন্য এই উদ্যোগ আবারও মোবারক। আমি সরকারকে অনুরোধ করব, এটি তো সরকারি উদ্যোগ নয়, সরকারের দায়িত্ব আছে। আপনারা উদ্যোগ নেন, সঠিক ইতিহাস রচনা করেন।

তিনি বলেন, ২৪-এর পরিবর্তনের আগে আমাদের কণ্ঠে, রাজনীতিবিদদের কণ্ঠে যে সুর ছিল, ৫ তারিখের পর থেকে আস্তে আস্তে বদলে যাচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারির পরে ব্যাপকভাবে বদলে গেছে। আগে যে সমস্ত কথা বলেছেন, অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, অনেকে এটা এখন বেমালুম ভুলে গেছে। তার ঠিক বিপরীতে গিয়ে এখন তারা ন্যারেটিভ দাঁড় করাচ্ছেন, বয়ান তৈরি করছেন।

তিনি বলেন, জনগণের অভিপ্রায় একটি ডেমোক্রেটিক সোসাইটিতে সর্বোচ্চ মর্যাদা পায়। সেই অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে গণভোট হলো, গণরায় হলো, ৭০ ভাগ মানুষ ভোট দিল। এখন সরকারি দল মানবে না। হ্যা, মানবেন, অবশ্যই মানবেন। ইনশাআল্লাহ মানবেন। ইনশাআল্লাহ মানতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এতগুলো খুন হলো, গুম হলো, পঙ্গু হলো, নির্যাতন হলো, মিথ্যা মামলা হলো, তার বিচার এখন স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। আগের সরকারের সময় যেটুকু গতি ছিল, এটাও এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর তুলে দেওয়ার জন্য সংসদে আমরা দাবি উত্থাপন করলাম। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বললেন যে, ৫ আগস্ট এই বছরে এটা ওপেন করা হবে। আজকে তো ৪ আগস্ট, এখন পর্যন্ত তো কোনো আলামত দেখছি না। ৫ আগস্ট ওপেন হলে তো কিছু আলামত ইতোমধ্যে হতো, কিছু দাওয়াত, কিছু আহ্বান পেতাম। আমরা স্বাভাবিকভাবে আশা করি, এটা কি হচ্ছে? এগুলো তাহলে কি জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়ার একটি নিরন্তর উল্টো সংগ্রাম শুরু হয়েছে? যদি সেরকম কোনো সংগ্রাম হয়ে থাকে, আমরা মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে বলছি, দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এই সমস্ত কিছু ইনশাআল্লাহ তছনছ করে দেওয়া হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জীবন তো একটাই। সেই জীবন স্বার্থপর কাপুরুষের জীবন না হয়, এই জীবন হোক জাতির জন্য উৎসর্গ। এখানে কোনো বৃদ্ধ আর যৌবনের কোনো ব্যাপার নাই। এই ইস্যুতে একাকার ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, এই ইস্যু ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য আমাদেরকে অনেক লোভ, লোভের প্রস্তাব, বিভিন্ন কিছু দেওয়া হচ্ছে। আমাদের সোজা সাপ্টা কথা, জনগণ যে রায় দিয়েছে, এটাই মানতে হবে। আমাদের আলাদা কোনো রায় নাই। এর বাইরে আমরা যাবো না, যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই। আমরা জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চাই না। কেউ করে করুক, আমরা করবো না।

তিনি বলেন, আমরা জাতিকে কথা দিচ্ছি, আপনাদের প্রয়োজনে আমাদের যেটুকু সামর্থ্য আছে সবটুকু উজাড় করে আমরা করে দেব। আমরা এখানে কোনো ক্ষান্ত দেব না, কোনো কম্প্রোমাইজ করব না। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে যে–কোনো সময়, দেশের স্বার্থে যে–কোনো বিষয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে রাজি আছি। কিন্তু জনগণের একটি সিঙ্গেল অধিকারকে বিসর্জন দিয়ে এটা হবে না। কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করবো না। মাথা সমুন্নত থাকবে। সেটা দরকার হয় ফাঁসির তক্তায় যাব, আয়নাঘরে যাব, আল্লাহ যেটা নির্ধারণ করেছেন সেখানে যাব।

তিনি বলেন, আমাদের এক ছোট ভাই বলেছে, ওরে জিজ্ঞেস করা হয়েছে যে যদি আঘাত আসে কী করবেন? বলে, জেলে যাবো, না হয় কবরে যাবো। আমি বললাম, তৃতীয় আরেকটা বলো নাই কেন? বলা উচিত ছিল, জেলে যাবো অথবা আয়নাঘরে যাবো অথবা কবরে যাবো।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

হোয়াটসঅ্যাপে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, বন্ধ অনেক অ্যাকাউন্ট

জুলাই যোদ্ধাদের গায়ে হাত দেবেন না, এটা হবে চরম নিমকহারামি: ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট টাইম : ০৪:১৩:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দমন-পীড়ন না চালানোর জন্য সরকারের প্রতি কঠোর আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যাদের আত্মত্যাগ, সাহস ও সংগ্রামের মাধ্যমে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হলে তা জাতির সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আজাদী সংগ্রামের পটভূমিতে জুলাই বিপ্লব ২০২৪’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ব্যাংককের হাসপাতালে যাদেরকে দেখে আসলাম, এখনো কারো কারো সারা বডি অবশ হয়ে পড়ে আছে। সেখানকার ডাক্তাররা অলরেডি সার্টিফাই করে দিয়েছে, জীবনে তিনি উঠে আর বসতে পারবেন না। সেই লোকগুলোর কথা কেউ ভাববে না। ক্ষমতা আমাদেরকে এরকম অন্ধ বানায় ফেলবে, দুনিয়ার স্বার্থ সবকিছু ভুলিয়ে দেবে, সব সত্য অবলীলায় শেষ হয়ে যাবে, এটা চরম বিশ্বাসঘাতকতা হবে।

তিনি আরও বলেন, সাহসী কাজ যারা হাতে নিয়েছিলেন, তার প্রথম পর্ব যারা আজকে উন্মোচন করার ব্যবস্থা আমাদেরকে করে দিয়েছেন, এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ জানাই। আমি আবার অনুরোধ করব, আপনার আমার পছন্দ হোক না হোক, যার যেখানে যে অবদান এটা যেন আড়াল না হয়। এটা যেন আপনাদের কলমে ইতিহাসের পাতায় উঠে আসে। একটি ক্রেডিবল ইতিহাস তৈরি হোক।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৭১ সালে একজন ইনোসেন্ট মানুষ যদি মারা যায়, সেটার জন্য গোটা জাতি আমরা কষ্ট পাই, দুঃখ বোধ করি। কিন্তু আফসোস, ৫৫টা বছর চলে গেল, না মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সঠিক তালিকা তৈরি হলো, না শহীদদের একটি তালিকা তৈরি হলো। মুক্তিযোদ্ধাদের যেটা আছে সঠিক হোক, বেঠিক কিছুটা আছে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো তালিকা নাই। ৬৫৬ জন নাকি ভাতা পায়, আমি শুনেছি। আশ্চর্য ব্যাপার, আমরা বলে বলছি এত লাখ, এত লাখ, তাহলে এত লাখটা রেকর্ড হচ্ছে না কেন? এটা তো সরকারের দায়িত্ব। এতগুলো সরকার আসলো গেল, সবাই দাবি করেন যে আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্টেকহোল্ডার। আপনারা মুক্তিযুদ্ধের স্টেকহোল্ডার, আপনাদেরকে সম্মান করি। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটা করছেন না কেন? এটা করেন। ইতিহাসটা উঠে আসুক, ওই ফ্যামিলিগুলা গ্লোরিফাই হোক, শহীদের আত্মা শান্তি পাক। ৭১-এর মতো ২৪ যেন হারিয়ে না যায়, এজন্য এই উদ্যোগ আবারও মোবারক। আমি সরকারকে অনুরোধ করব, এটি তো সরকারি উদ্যোগ নয়, সরকারের দায়িত্ব আছে। আপনারা উদ্যোগ নেন, সঠিক ইতিহাস রচনা করেন।

তিনি বলেন, ২৪-এর পরিবর্তনের আগে আমাদের কণ্ঠে, রাজনীতিবিদদের কণ্ঠে যে সুর ছিল, ৫ তারিখের পর থেকে আস্তে আস্তে বদলে যাচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারির পরে ব্যাপকভাবে বদলে গেছে। আগে যে সমস্ত কথা বলেছেন, অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, অনেকে এটা এখন বেমালুম ভুলে গেছে। তার ঠিক বিপরীতে গিয়ে এখন তারা ন্যারেটিভ দাঁড় করাচ্ছেন, বয়ান তৈরি করছেন।

তিনি বলেন, জনগণের অভিপ্রায় একটি ডেমোক্রেটিক সোসাইটিতে সর্বোচ্চ মর্যাদা পায়। সেই অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে গণভোট হলো, গণরায় হলো, ৭০ ভাগ মানুষ ভোট দিল। এখন সরকারি দল মানবে না। হ্যা, মানবেন, অবশ্যই মানবেন। ইনশাআল্লাহ মানবেন। ইনশাআল্লাহ মানতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এতগুলো খুন হলো, গুম হলো, পঙ্গু হলো, নির্যাতন হলো, মিথ্যা মামলা হলো, তার বিচার এখন স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। আগের সরকারের সময় যেটুকু গতি ছিল, এটাও এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর তুলে দেওয়ার জন্য সংসদে আমরা দাবি উত্থাপন করলাম। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বললেন যে, ৫ আগস্ট এই বছরে এটা ওপেন করা হবে। আজকে তো ৪ আগস্ট, এখন পর্যন্ত তো কোনো আলামত দেখছি না। ৫ আগস্ট ওপেন হলে তো কিছু আলামত ইতোমধ্যে হতো, কিছু দাওয়াত, কিছু আহ্বান পেতাম। আমরা স্বাভাবিকভাবে আশা করি, এটা কি হচ্ছে? এগুলো তাহলে কি জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়ার একটি নিরন্তর উল্টো সংগ্রাম শুরু হয়েছে? যদি সেরকম কোনো সংগ্রাম হয়ে থাকে, আমরা মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে বলছি, দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এই সমস্ত কিছু ইনশাআল্লাহ তছনছ করে দেওয়া হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জীবন তো একটাই। সেই জীবন স্বার্থপর কাপুরুষের জীবন না হয়, এই জীবন হোক জাতির জন্য উৎসর্গ। এখানে কোনো বৃদ্ধ আর যৌবনের কোনো ব্যাপার নাই। এই ইস্যুতে একাকার ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, এই ইস্যু ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য আমাদেরকে অনেক লোভ, লোভের প্রস্তাব, বিভিন্ন কিছু দেওয়া হচ্ছে। আমাদের সোজা সাপ্টা কথা, জনগণ যে রায় দিয়েছে, এটাই মানতে হবে। আমাদের আলাদা কোনো রায় নাই। এর বাইরে আমরা যাবো না, যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই। আমরা জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চাই না। কেউ করে করুক, আমরা করবো না।

তিনি বলেন, আমরা জাতিকে কথা দিচ্ছি, আপনাদের প্রয়োজনে আমাদের যেটুকু সামর্থ্য আছে সবটুকু উজাড় করে আমরা করে দেব। আমরা এখানে কোনো ক্ষান্ত দেব না, কোনো কম্প্রোমাইজ করব না। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে যে–কোনো সময়, দেশের স্বার্থে যে–কোনো বিষয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে রাজি আছি। কিন্তু জনগণের একটি সিঙ্গেল অধিকারকে বিসর্জন দিয়ে এটা হবে না। কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করবো না। মাথা সমুন্নত থাকবে। সেটা দরকার হয় ফাঁসির তক্তায় যাব, আয়নাঘরে যাব, আল্লাহ যেটা নির্ধারণ করেছেন সেখানে যাব।

তিনি বলেন, আমাদের এক ছোট ভাই বলেছে, ওরে জিজ্ঞেস করা হয়েছে যে যদি আঘাত আসে কী করবেন? বলে, জেলে যাবো, না হয় কবরে যাবো। আমি বললাম, তৃতীয় আরেকটা বলো নাই কেন? বলা উচিত ছিল, জেলে যাবো অথবা আয়নাঘরে যাবো অথবা কবরে যাবো।


প্রিন্ট