স্টাফ রিপোর্টার: মোঃ আব্দুল আজিজ মিয়াঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের কর্পুরা সদরপাড়া গ্রামে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙনের কবলে পড়ে হুমকির মুখে পড়েছে কবরস্থান, বসতবাড়ি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে কয়েকটি স্থানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হলেও নদীর স্রোতের কারণে তীর রক্ষা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান। দ্রুত ও টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে নিজের দাদির কবরের পাশে দাঁড়িয়ে নদীভাঙন রোধে উন্নতমানের ও টেকসই কাজের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম। নদীর ভাঙন কবরস্থানের কাছাকাছি চলে আসায় প্রিয়জনের কবর রক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি।
কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম বলেন, “দাদির কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আছি। নদীভাঙন রোধের কাজ যদি উন্নতমানের ও টেকসইভাবে করা হয়, তাহলে আমার দাদির কবরটি বেঁচে যাবে। শুধু আমার দাদির কবর নয়, এ এলাকার অনেক মানুষের বসতবাড়ি ও কবরস্থানও রক্ষা পাবে।”
স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে কবরস্থান ও বসতবাড়ির পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। বিশেষ করে কর্পুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, নদীভাঙন ঠেকাতে শুধু সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলা নয়, এর পাশাপাশি স্থায়ী ও টেকসই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভাঙনকবলিত অংশে দ্রুত কাজ শুরু করা না হলে বসতবাড়ি, কবরস্থান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর নদীভাঙনে নতুন নতুন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ভাঙনের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। ফলে জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর সংরক্ষণ ও ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ অবস্থায় ভাঙনকবলিত এলাকা দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, উন্নতমানের ও টেকসই নদীতীর সংরক্ষণকাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কবরস্থান, বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নদীতীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা করা হবে।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 



















