ঢাকা ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মানব চাহিদা পত্রিকার ইউকের ব্যুরো চীফ হলেন দিরাইয়ের সন্তান সাংবাদিক হারুন মিয়া রাজধানীতে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ দোয়ারাবাজারে জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ, ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে সরকারি সেবা নিশ্চিতে ফ্রেন্ডশিপ এর সভা দিনাজপুর জেলা শ্রমিক নেতা মজিবুর রহমান মজিব গ্রেপ্তার: দিনাজপুরে সড়ক অবরোধ ও পরিবহন ধর্মঘট এসএসসি পরীক্ষায় ভোলার ২ বিদ্যালয়ে শতভাগ পাশ পঞ্চগড়ে লাইসেন্স বিহীন প্যাথলজিতে লিভার পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে প্রতারনা এবার ‘ক্রাইম পেট্রোল’ কাঁপাবেন অজয় দেবগন আড়াইহাজারে জমি কিনছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ রাজবাড়ীতে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে: সিভিল সার্জন

পঞ্চগড়ে লাইসেন্স বিহীন প্যাথলজিতে লিভার পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে প্রতারনা

পঞ্চগড়ঃ

পঞ্চগড়ে স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্স না নিয়ে লিভার পরীক্ষার ভূয়া রিপোর্ট দিয়ে প্রতারনার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে লিভার পরীক্ষা করতে আসা রোগী প্রতারনার শিকার হয়ে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে ক্ষোভে ফুসছেন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে আসা রোগীরা সেই সাথে স্থানীয়রা প্যাথলজি বন্ধের দাবী জানিয়েছে| এ দিকে স্বাস্থ্য বিভাগ অভিযোগ পেয়ে প্যাথলজিটির বিরূদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ঘটনাটি পঞ্চগড় জেলা শহরের পঞ্চগড়- তেঁতুলিয়া মহাসড়কের আনোয়ার প্লাজার মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে সাইদুজ্জামান রেজা নামে রোগীর লিভার পরীক্ষার ভূয়া রিপোর্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গত ০৯ আগস্ট রোববার লিভার রোগে আক্রান্ত রোগী সাইদুজ্জামান রেজা লিভার পরীক্ষা করেন পঞ্চগড় মকবুলার রহমান ডায়াবেটিক হাসপাতালে সেখানে তার লিভার এসজিপিটি পরীক্ষায় ১২৭ ইউএল সনাক্ত হয়। লিভারের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় চিকৎসকের পরামর্শে আবারও এসজিপিটি পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। ওই দিনই সাইদুজ্জামান রেজা (৪৪) মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে এসজিপিটি পরীক্ষার জন্য রক্ত দিয়ে আবারও পরীক্ষা করান সেখানে এসজিপিটি রিপোর্টে মাত্র ২৬.৭ ইউএল পাওয়া যায়। এতে সাইদুজ্জামান রেজা ডায়াবেটিক হাসপাতালে এসজিপিটি রিপোর্টের সাথে মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের রিপোর্টে ব্যবধান অনেক বেশি হওয়ায় মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট নিয়ে সন্দেহ হয়। পরে তার লিভারের সঠিক অবস্থা জানতে আবারও চিকিৎসকের পরামর্শ নেন এ সময় চিকিৎসক আবারও এসজিপিটি পরীক্ষার পরামর্শে পরদিন গতকাল ১০ আগস্ট সোমবার সঠিক পরীক্ষার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে তৃতীয়বারের মত এসজিপিটি পরীক্ষা করান আধুনিক সদর হাসপাতালের এসজিপিটি পরীক্ষার রিপোর্টে ১২১ ইউএল পাওয়া যায়। এ নিয়ে তার সাথে প্রতারনা হয়েছে মর্মে সাইদুজ্জামান রেজা মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে পঞ্চগড় সিভিল সার্জন বরাবর মেডিকেয়ার সেন্টারের বিরূদ্ধে প্রতারনার অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ দেন।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে মেডিকেয়ার সেন্টারের পরিচালক সৈয়দা নাসরিন মিনুর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রথমে সাংবাদিকের কন্ঠ শুনে উত্তেজিত হয়ে যায়। এ সময় বিচারপতি মনসুর এবং স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের আত্নীয় বলে পরিচয় দেন। সেই সাথে সাংবাদিকদের বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন পরে তিনি জানান আমার ডায়াগনেস্টিকের দেওয়া রিপোর্টে কোন ভূল নেই বলে দাবী করেন।

এদিকে সাংবাদিকরা অনুসন্ধান করে দেখা গেছে লিভার প্রদাহ সনাক্তের জন্য ফুল অটোমেটিক এবং সেমি অটো মেশিন ব্যবহার করা হয় এক্ষেত্রে মেডিকেয়ার সেন্টারে এখনো পুরোনো সেমি অটো মেশিনে দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেই সাথে লিভার রোগী সাইদুজ্জামানের ডায়াবেটিক সমিতি এবং মেডিকেয়ার সেন্টারে কর্মরত টেকনোলজিস্ট একই ব্যাক্তি আবুল বাশার। তিনি একজন ডিপ্লোমাধারী টেকনোলজিস্ট। এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে একই টেকনোলজিস্ট কেন একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করে দুই ধরনের রিপোর্ট দিবেন? জানা গেছে আবুল বাশারের টেকনোলজিস্ট রিপোর্ট নিয়ে চলতি বছরেই নানা গড়মিলের অভিযোগ উঠেছিল এ নিয়ে পঞ্চগড় মকবুলার ডায়াবেটিক সমিতি থেকে সাময়িক বহিস্কার হয়। বর্তমানে পঞ্চগড়ের ক্লিনিক ডায়াগনেস্টিক জগতে একক আধিপত্য বিস্তার করছে আবুল বাশার|

পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান জানান মেডিকেয়ার সেন্টারের বিরূদ্ধে প্রতারনার অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। অভিযোগকারী লিভারের রোগীর পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল সহ তিন প্রতিষ্ঠানে এসজিপিটি পরীক্ষায় মেডিকেয়ার সেন্টারের এসজিপিটি পরীক্ষা রিপোর্টটি অসামঞ্জস্য মনে করছি।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মানব চাহিদা পত্রিকার ইউকের ব্যুরো চীফ হলেন দিরাইয়ের সন্তান সাংবাদিক হারুন মিয়া

পঞ্চগড়ে লাইসেন্স বিহীন প্যাথলজিতে লিভার পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে প্রতারনা

আপডেট টাইম : ০৫:২৭:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

পঞ্চগড়ঃ

পঞ্চগড়ে স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্স না নিয়ে লিভার পরীক্ষার ভূয়া রিপোর্ট দিয়ে প্রতারনার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে লিভার পরীক্ষা করতে আসা রোগী প্রতারনার শিকার হয়ে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে ক্ষোভে ফুসছেন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে আসা রোগীরা সেই সাথে স্থানীয়রা প্যাথলজি বন্ধের দাবী জানিয়েছে| এ দিকে স্বাস্থ্য বিভাগ অভিযোগ পেয়ে প্যাথলজিটির বিরূদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ঘটনাটি পঞ্চগড় জেলা শহরের পঞ্চগড়- তেঁতুলিয়া মহাসড়কের আনোয়ার প্লাজার মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে সাইদুজ্জামান রেজা নামে রোগীর লিভার পরীক্ষার ভূয়া রিপোর্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গত ০৯ আগস্ট রোববার লিভার রোগে আক্রান্ত রোগী সাইদুজ্জামান রেজা লিভার পরীক্ষা করেন পঞ্চগড় মকবুলার রহমান ডায়াবেটিক হাসপাতালে সেখানে তার লিভার এসজিপিটি পরীক্ষায় ১২৭ ইউএল সনাক্ত হয়। লিভারের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় চিকৎসকের পরামর্শে আবারও এসজিপিটি পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। ওই দিনই সাইদুজ্জামান রেজা (৪৪) মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে এসজিপিটি পরীক্ষার জন্য রক্ত দিয়ে আবারও পরীক্ষা করান সেখানে এসজিপিটি রিপোর্টে মাত্র ২৬.৭ ইউএল পাওয়া যায়। এতে সাইদুজ্জামান রেজা ডায়াবেটিক হাসপাতালে এসজিপিটি রিপোর্টের সাথে মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের রিপোর্টে ব্যবধান অনেক বেশি হওয়ায় মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট নিয়ে সন্দেহ হয়। পরে তার লিভারের সঠিক অবস্থা জানতে আবারও চিকিৎসকের পরামর্শ নেন এ সময় চিকিৎসক আবারও এসজিপিটি পরীক্ষার পরামর্শে পরদিন গতকাল ১০ আগস্ট সোমবার সঠিক পরীক্ষার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে তৃতীয়বারের মত এসজিপিটি পরীক্ষা করান আধুনিক সদর হাসপাতালের এসজিপিটি পরীক্ষার রিপোর্টে ১২১ ইউএল পাওয়া যায়। এ নিয়ে তার সাথে প্রতারনা হয়েছে মর্মে সাইদুজ্জামান রেজা মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে পঞ্চগড় সিভিল সার্জন বরাবর মেডিকেয়ার সেন্টারের বিরূদ্ধে প্রতারনার অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ দেন।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে মেডিকেয়ার সেন্টারের পরিচালক সৈয়দা নাসরিন মিনুর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রথমে সাংবাদিকের কন্ঠ শুনে উত্তেজিত হয়ে যায়। এ সময় বিচারপতি মনসুর এবং স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের আত্নীয় বলে পরিচয় দেন। সেই সাথে সাংবাদিকদের বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন পরে তিনি জানান আমার ডায়াগনেস্টিকের দেওয়া রিপোর্টে কোন ভূল নেই বলে দাবী করেন।

এদিকে সাংবাদিকরা অনুসন্ধান করে দেখা গেছে লিভার প্রদাহ সনাক্তের জন্য ফুল অটোমেটিক এবং সেমি অটো মেশিন ব্যবহার করা হয় এক্ষেত্রে মেডিকেয়ার সেন্টারে এখনো পুরোনো সেমি অটো মেশিনে দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেই সাথে লিভার রোগী সাইদুজ্জামানের ডায়াবেটিক সমিতি এবং মেডিকেয়ার সেন্টারে কর্মরত টেকনোলজিস্ট একই ব্যাক্তি আবুল বাশার। তিনি একজন ডিপ্লোমাধারী টেকনোলজিস্ট। এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে একই টেকনোলজিস্ট কেন একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করে দুই ধরনের রিপোর্ট দিবেন? জানা গেছে আবুল বাশারের টেকনোলজিস্ট রিপোর্ট নিয়ে চলতি বছরেই নানা গড়মিলের অভিযোগ উঠেছিল এ নিয়ে পঞ্চগড় মকবুলার ডায়াবেটিক সমিতি থেকে সাময়িক বহিস্কার হয়। বর্তমানে পঞ্চগড়ের ক্লিনিক ডায়াগনেস্টিক জগতে একক আধিপত্য বিস্তার করছে আবুল বাশার|

পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান জানান মেডিকেয়ার সেন্টারের বিরূদ্ধে প্রতারনার অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। অভিযোগকারী লিভারের রোগীর পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল সহ তিন প্রতিষ্ঠানে এসজিপিটি পরীক্ষায় মেডিকেয়ার সেন্টারের এসজিপিটি পরীক্ষা রিপোর্টটি অসামঞ্জস্য মনে করছি।


প্রিন্ট