আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘বাস্তব কূটনীতির’ জন্য তেহরান প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন নতুন করে হামলা চালালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের জন্যও ইরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, ইরান নতুন করে কোনো আগ্রাসনের মুখে দৃঢ় অবস্থান নেবে। একই সময়ে কূটনীতির পথও খোলা রাখছে তেহরান। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর নির্ভর করছে বলেও জানান তিনি।
এক্সবার্তায় আরাগচি বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এবং আমি নিউইয়র্কে যুদ্ধের বার্তা প্রচার করতে আসিনি; আমরা এসেছি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে।
“তবে তা সত্ত্বেও যে কোনো আগ্রাসনের মুখে ইরান অবিচল আছে, থাকবে— এমনকি পরিস্থিতি যদি ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে মোড় নেয়, তবুও; এবং একই সঙ্গে, আমরা প্রকৃত কূটনীতির জন্যও প্রস্তুত।”
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১ তম সম্মেলন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বাধীন ইরানি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। সৈয়দ আব্বাস আরাগচিও সেই দলের সদস্য। নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নতুন একটি শান্তি-প্রস্তাব পাঠায় ইরানি প্রতিনিধি দল। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাব বাতিল করে দিয়েছেন ট্রাম্প।
এদিকে গত কাল মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি জানান, নতুন এই প্রস্তাবটি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র এখনও দাপ্তরিকভাবে কিছু জানায়নি এবং তেহরান ওয়াশিংটনের দাপ্তরিক জবাবের অপেক্ষায় আছে।
এনবিসিকে সৈয়দ আরাগচি বলেছেন, নতুন চুক্তিতে কিছু শর্ত উল্লেখ করেছে তেহরান, যেমন— আগ্রাসী যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের ফ্রিজ করা সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া, দেশটির তেল বিক্রির ওপর আরোপ করা যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা প্রভৃতি। আরাগচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন যদি এসব শর্তে রাজি হয়, তাহলে যত শিগগির সম্ভব হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নিতে প্রস্তুত আছে ইরান।
“আমাদের প্রস্তাব খুব স্পষ্ট এবং পরিষ্কার। যুক্তরাষ্ট্র যদি কিছু আবশ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে আমরাও হরমুজ প্রণালি ফের খুলে দিতে প্রস্তুত আছি। যেসব শর্ত আমরা দিয়েছি, সেসব আমাদরে অধিকার এবং আমরা চাই, যুক্তরাষ্ট্র যেন আমাদের অধিকারকে সম্মান করে।”
তেহরান সবসময়েই কূটনৈতিক পন্থায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিজেদের সমস্যার সমাধান চেয়েছে উল্লেখ করে এনবিসিকে আরাগচি বলেন, “২০২৫ সালে ওয়াশিংটন আলোচনার প্রস্তাব দিলো, আমরা গ্রহণ করলাম, আলোচনা শুরু হলো এবং তারপর আলোচনার একদম মাঝামাঝি পর্যায়ে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করল মার্কিন এবং ইসরায়েলি বাহিনী।”
“তার আট মাস পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ফের ওয়াশিংটন আমাদের আলোচনার প্রস্তাব দিলো, ফের আমরা রাজি হলাম এবং আবারও আলোচানার মাঝামাঝি পর্যায়ে আমাদের লক্ষ্য করে অভিযান শুরু হলো।”
আরাগচি বলেন, ইরান আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল এবং তিন মাস ধরে আলোচনাও চালিয়েছিল; কিন্তু মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই ওয়াশিংটন সেই চুক্তি লঙ্ঘন করে।
ইরান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে আগ্রহী, কারণ শান্তির কোনো সুযোগ তেহরান হাতছাড়া করতে চায় না উল্লেখ করে এনবিসিকে সৈয়দ আরাগচি বলেন, “কূটনীতি কখনোই ব্যর্থ হতে পারে না; কূটনীতির ক্ষেত্রে সবসময়ই আশা থাকে। যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমরা যেমন প্রস্তুত, তেমনি আলোচনার জন্যও আমরা প্রস্তুত।”
সূত্র : এএফপি, দ্য ন্যাশনাল
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 

























