ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে নৌযান শ্রমিক ও ব্যবসায়িদের ন্যায্য দাবী আদায়ে নির্বাহী অফিসারের সাথে সমস্যা সমাধানে মতবিনিময় সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত, সরবরাহ বন্ধ অক্টোবরে ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি করবে বিমান : মিল্লাত নিয়মিত রেড মিট খান!জেনে নিন কী হতে পারে? ফ্রান্সের জয়রথ চলছেই, তুরস্ককে হারিয়ে ইতালির স্বস্তি প্রাক্তনকে ভুলতে কত বছর লাগে? গবেষণার উত্তর চমকে দেবে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যেই মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন শুরু করলো মালয়েশিয়া রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণা-উদ্ভাবনে গুরুত্বারোপ রাষ্ট্রপতির

আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যেই মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন শুরু করলো মালয়েশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘ আর একাধিক মানবাধিকার সংস্থার অনুরোধ উপেক্ষা করে মিয়ানমারে নাগরিকদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করেছে মালয়েশিয়া। প্রথম দফায় ফেরত পাঠানো হচ্ছে অন্তত পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে।

আন্তর্জাতিক মহলের আপত্তির প্রতি সম্মান না দেখিয়ে মিয়ানমার সরকারে সাথে ব্যাপক আকারে সমঝোতার করে মালয়েশিয়া। মূলত এই সমঝোতায় ভর করে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু হলো। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ আমলে না নেওয়ায় শুরু থেকে একে বিতর্কিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও, মালয়েশিয়ার দাবি, স্বেচ্ছায় দেশে ফেরত যাচ্ছেন মিয়ানমারের নাগরিকরা।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে’ তাদের ফেরত যাওয়ার সুযোগ নেই। মঙ্গলবার প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমারের নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো শুরু করেছে মালয়েশিয়া। এটি দেশটির প্রত্যাবাসন কর্মসূচির প্রথম ধাপ।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্র থেকে ‘স্বেচ্ছায়’ দেশে ফিরতে সম্মত ৫ হাজার মিয়ানমারের নাগরিকের মধ্যে প্রথম দফায় এই ১ হাজার ৫০০ জনকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মুখপাত্র ম্যাথিউ সল্টমার্শ জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা উদ্বিগ্ন।’

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারজুড়ে চলমান সশস্ত্র সংঘাত, ব্যাপক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে ইউএনএইচসিআর মনে করে, দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি তাদেরকে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে ফেরার সুযোগ দেয় না।’

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জুলাই মাসে ঘোষণা করেন, মিয়ানমার নির্যাতিত রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ৫ হাজার সদস্যকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে।

বিরল এই প্রত্যাবাসন উদ্যোগ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে।

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার পর চলতি মাসের শুরুতে মিয়ানমার বিদেশে বাস্তুচ্যুত নিজ দেশের নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’ প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দেয়।

মঙ্গলবার মিয়ানমারের পথে থাকা প্রথম দফার নাগরিকদের মধ্যে কতজন রোহিঙ্গা রয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় থাকা মিয়ানমারের ১ লাখ ৯০ হাজার শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর দুই-তৃতীয়াংশই এই মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সদস্য।

সল্টমার্শ জোর দিয়ে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় কাউকেই এমন কোনো দেশে পাঠানো উচিত নয়, যেখানে তিনি নিপীড়ন, নির্যাতন, গুরুতর ক্ষতি বা জীবন, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য অন্য কোনো হুমকির মুখে পড়তে পারেন।’


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যেই মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন শুরু করলো মালয়েশিয়া

আপডেট টাইম : ০৫:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘ আর একাধিক মানবাধিকার সংস্থার অনুরোধ উপেক্ষা করে মিয়ানমারে নাগরিকদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করেছে মালয়েশিয়া। প্রথম দফায় ফেরত পাঠানো হচ্ছে অন্তত পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে।

আন্তর্জাতিক মহলের আপত্তির প্রতি সম্মান না দেখিয়ে মিয়ানমার সরকারে সাথে ব্যাপক আকারে সমঝোতার করে মালয়েশিয়া। মূলত এই সমঝোতায় ভর করে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু হলো। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ আমলে না নেওয়ায় শুরু থেকে একে বিতর্কিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও, মালয়েশিয়ার দাবি, স্বেচ্ছায় দেশে ফেরত যাচ্ছেন মিয়ানমারের নাগরিকরা।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে’ তাদের ফেরত যাওয়ার সুযোগ নেই। মঙ্গলবার প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমারের নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো শুরু করেছে মালয়েশিয়া। এটি দেশটির প্রত্যাবাসন কর্মসূচির প্রথম ধাপ।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্র থেকে ‘স্বেচ্ছায়’ দেশে ফিরতে সম্মত ৫ হাজার মিয়ানমারের নাগরিকের মধ্যে প্রথম দফায় এই ১ হাজার ৫০০ জনকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মুখপাত্র ম্যাথিউ সল্টমার্শ জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা উদ্বিগ্ন।’

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারজুড়ে চলমান সশস্ত্র সংঘাত, ব্যাপক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে ইউএনএইচসিআর মনে করে, দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি তাদেরকে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে ফেরার সুযোগ দেয় না।’

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জুলাই মাসে ঘোষণা করেন, মিয়ানমার নির্যাতিত রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ৫ হাজার সদস্যকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে।

বিরল এই প্রত্যাবাসন উদ্যোগ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে।

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার পর চলতি মাসের শুরুতে মিয়ানমার বিদেশে বাস্তুচ্যুত নিজ দেশের নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’ প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দেয়।

মঙ্গলবার মিয়ানমারের পথে থাকা প্রথম দফার নাগরিকদের মধ্যে কতজন রোহিঙ্গা রয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় থাকা মিয়ানমারের ১ লাখ ৯০ হাজার শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর দুই-তৃতীয়াংশই এই মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সদস্য।

সল্টমার্শ জোর দিয়ে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় কাউকেই এমন কোনো দেশে পাঠানো উচিত নয়, যেখানে তিনি নিপীড়ন, নির্যাতন, গুরুতর ক্ষতি বা জীবন, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য অন্য কোনো হুমকির মুখে পড়তে পারেন।’


প্রিন্ট