মালদ্বীপের সম্প্রসারিত পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারকদের নতুন বাজার এবং বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম।
আজ মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মালদ্বীপ এক্সিবিশন অ্যান্ড কনফারেন্স সার্ভিসেস (এমইসিএস)-এর আয়োজনে হুলহুমালের সিনথেটিক ট্র্যাকে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীয় ‘হোটেল এশিয়া ও ইন্টারন্যাশনাল কুলিনারি চ্যালেঞ্জ পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক এ আয়োজনে বিশ্বের ২৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর কুলিনারি চ্যালেঞ্জ দিয়ে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এ বৈশ্বিক প্রদর্শনী আজ শেষ হচ্ছে।
হাইকমিশনার প্রদর্শনীটির বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী, হোটেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার জানান, বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনে মালদ্বীপে অবস্থানরত প্রায় ৪৬ হাজার প্রবাসীকে সরাসরি বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কল্যাণমূলক সেবা প্রদান করা হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ৫৫০টিরও বেশি কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ-মালদ্বীপ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসীদের অবদানে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে প্রায় ১১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১,৩৭৯.৫ কোটি টাকা) এবং ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১৪১.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১,৭৩৭.৯ কোটি টাকা) রেমিট্যান্স এসেছে। এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়াতে বর্তমান সরকারের দূরদর্শি কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুই দেশের বাণিজ্য কূটনীতির অংশ হিসেবে গত এক বছরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় দেড় থেকে দুই মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি বেড়েছে। এ বাণিজ্য বৃদ্ধিতে গতি আনতে ইতোমধ্যে ২০টি বাণিজ্য-সহায়ক বৈঠক এবং ৩০টি বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বমূলক বৈঠক হয়েছে।
হাইকমিশনার বলেন, ‘মালদ্বীপের পর্যটন শিল্পের বিকাশ কেবল বাংলাদেশি প্রবাসীদের কর্মসংস্থানই তৈরি করছে না; বরং আমাদের দেশের আমদানি-রপ্তানিকারক, উৎপাদক ও সরবরাহকারীদের জন্য এক বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বাংলাদেশের তৈরি পণ্য ও সেবার সঙ্গে মালদ্বীপের পর্যটন চাহিদার সমন্বয় ঘটানো গেলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নতুন মাত্রা পাবে।’
তিনি বিশেষ করে খাদ্য ও পানীয়, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, আতিথেয়তা সরঞ্জাম, রান্নাঘরের যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল, হস্তশিল্প এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক সেবা খাতে সম্ভাবনা অনুসন্ধানের জন্য প্রবাসী ও দেশীয় ব্যবসায়ীদের অনুরোধ জানান।
পেশাগত কাজের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব ও উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে হাইকমিশনার আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংযোগ তৈরিতে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
উল্লেখ্য, ২০০০ সালে ৪০টি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে যাত্রা শুরু করা ‘হোটেল এশিয়া’ বর্তমানে মালদ্বীপের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 






















