ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‎বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটি ঐতিহ্যবাহী উপহার দেন খুলনা আর্ট একাডেমির সংগ্রহশালায় নীল শাড়িতে রাজকীয় সাজে নজর কাড়লেন কৌশানি যোগ্য স্থানে যোগ্য ব্যক্তি—উন্নয়নের মূল শর্ত ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাবির ১০৮ নবীন শিক্ষককে নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা নরসিংদীর শিবপুরে ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বি আইডব্লিউটিএ ও ব্যবসায়ীদের দ্বন্ধ অবসানে প্রশাসনের সভা নারী অধিকারকর্মী, সংস্থা ও এআই গবেষকের অল্টারনেটিভ নোবেল জয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব করল বিএফআইইউ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে ব্যবসার সুযোগ দিতে হবে: জামায়াত আমির

চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে তুরস্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর আহ্বান বিমান পরিবহন মন্ত্রীর

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান ভ্রমণ চাহিদা পূরণ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়াতে চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে তুরস্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়টি বিবেচনার জন্য দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

আজ বুধবার মন্ত্রণালয়ে তার নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেনের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তুরস্কের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।

বৈঠকে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে অধিকাংশের বাড়ি চট্টগ্রাম ও সিলেটে। তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের প্রয়োজন অনেক বেশি।

এই দুই বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ আরও সহজ হবে এবং বাংলাদেশ ও তুরস্কের জনগণের মধ্যকার যোগাযোগ আরও জোরদার হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তুর্কী প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন তুরস্ক দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর বিলাল বেলইউর্ট এবং বাংলাদেশে টার্কিশ এয়ারলাইনসের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইসলাম গুরে।

বৈঠকে দুই দেশের বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। ঢাকা-ইস্তাম্বুল রুটে টার্কিশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়াতে তুরস্কের আগ্রহকেও মন্ত্রী স্বাগত জানান।

বর্তমানে টার্কিশ এয়ারলাইনস ঢাকা-ইস্তাম্বুল রুটে সপ্তাহে সাতটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তুরস্কের পক্ষ থেকে এ রুটে আরও তিনটি সাপ্তাহিক ফ্লাইট চালুর আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে।

বিমান পরিবহন মন্ত্রী বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী বিমান যোগাযোগ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে সহায়তা করবে।

প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ককে ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বিমান চলাচল, পর্যটন, সংস্কৃতি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

এম রশিদুজ্জামান বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় সরকার দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোর ব্যবস্থাপনা এবং আতিথেয়তা সেবার মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে তুরস্কের বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, পর্যটন উন্নয়ন ও আতিথেয়তা খাতে তুরস্কের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

বৈঠকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।

ব্যবসায়িক ভ্রমণ, পর্যটন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বাড়াতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে মানুষের চলাচল বাড়লে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দুই দেশের মধ্যে মানুষের যোগাযোগ বাড়াতে উভয় দেশের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

বৈঠকে উভয় পক্ষ বিমান চলাচল, পর্যটন, বিনিয়োগ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করে।

তুরস্কের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও জোরদারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়লে দুই দেশের জনগণই সুফল পাবে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

‎বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটি ঐতিহ্যবাহী উপহার দেন খুলনা আর্ট একাডেমির সংগ্রহশালায়

চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে তুরস্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর আহ্বান বিমান পরিবহন মন্ত্রীর

আপডেট টাইম : ০৭:২৩:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান ভ্রমণ চাহিদা পূরণ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়াতে চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে তুরস্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়টি বিবেচনার জন্য দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

আজ বুধবার মন্ত্রণালয়ে তার নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেনের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তুরস্কের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।

বৈঠকে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে অধিকাংশের বাড়ি চট্টগ্রাম ও সিলেটে। তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের প্রয়োজন অনেক বেশি।

এই দুই বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ আরও সহজ হবে এবং বাংলাদেশ ও তুরস্কের জনগণের মধ্যকার যোগাযোগ আরও জোরদার হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তুর্কী প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন তুরস্ক দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর বিলাল বেলইউর্ট এবং বাংলাদেশে টার্কিশ এয়ারলাইনসের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইসলাম গুরে।

বৈঠকে দুই দেশের বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। ঢাকা-ইস্তাম্বুল রুটে টার্কিশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়াতে তুরস্কের আগ্রহকেও মন্ত্রী স্বাগত জানান।

বর্তমানে টার্কিশ এয়ারলাইনস ঢাকা-ইস্তাম্বুল রুটে সপ্তাহে সাতটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তুরস্কের পক্ষ থেকে এ রুটে আরও তিনটি সাপ্তাহিক ফ্লাইট চালুর আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে।

বিমান পরিবহন মন্ত্রী বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী বিমান যোগাযোগ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে সহায়তা করবে।

প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ককে ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বিমান চলাচল, পর্যটন, সংস্কৃতি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

এম রশিদুজ্জামান বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় সরকার দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোর ব্যবস্থাপনা এবং আতিথেয়তা সেবার মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে তুরস্কের বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, পর্যটন উন্নয়ন ও আতিথেয়তা খাতে তুরস্কের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

বৈঠকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।

ব্যবসায়িক ভ্রমণ, পর্যটন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বাড়াতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে মানুষের চলাচল বাড়লে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দুই দেশের মধ্যে মানুষের যোগাযোগ বাড়াতে উভয় দেশের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

বৈঠকে উভয় পক্ষ বিমান চলাচল, পর্যটন, বিনিয়োগ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করে।

তুরস্কের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও জোরদারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়লে দুই দেশের জনগণই সুফল পাবে।


প্রিন্ট