ঢাকা ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শারদীয় দুর্গোৎসবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করছে : রাশেদ খাঁন দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রুহুল কবির রিজভী জুলাই জাদুঘরের নথি চব্বিশের সংঘাতময় ঘটনাগুলোর সাক্ষ্য বহন করে : সুসান ভাইজ আশুগঞ্জ ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংশোধিত ট্যারিফ অনুমোদন আইনি বিপাকে হানি সিং তরুণরাই বাংলাদেশে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি গড়ার মূল শক্তি : ববি হাজ্জাজ হানিফসহ ৪ আ.লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের সীমা ও মেয়াদ বাড়ানোর দাবি ডিবিএর আসন্ন দূর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত দেশকে অস্থির করতে নানাভাবে কাজ করছে পতিত দোসররা : রিজভী

দক্ষিণ মেরুর বরফে ‘অধরা’ কণা শনাক্ত করে নোবেল জয়

সুদূর মহাবিশ্ব থেকে ছুটে আসা অত্যন্ত দুর্লভ ও রহস্যময় ‘অধরা’ কণা ‘নিউট্রিনো’ সফলভাবে শনাক্ত করার যুগান্তকারী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন বেলজিয়ান-আমেরিকান বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন।

অ্যান্টার্কটিকার দক্ষিণ মেরুর গভীর বরফস্তরকে এক বিশাল টেলিস্কোপে রূপান্তর করে মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচনের জন্য তাঁকে এই সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হলো।

রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের বরাত দিয়ে আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, নিউট্রিনো কণাগুলো বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে, কিন্তু এরা নিজেদের কখনো জানান দেয় না। কোটি কোটি নিউট্রিনো প্রতিনিয়ত কোনো বাধা ছাড়াই মানবদেহ এবং পুরো পৃথিবী ভেদ করে চলে যাচ্ছে, যা কোনো প্রযুক্তিতে সহজে ধরা পড়ে না। অত্যন্ত বিরলভাবে কখনো কখনো একটি নিউট্রিনো কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সাথে ধাক্কা খায়। আর সঠিক যন্ত্রপাতি থাকলে কেবল তখনই একে শনাক্ত করা সম্ভব।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই জানতেন যে, মহাবিশ্বে এমন কিছু প্রাকৃতিক ‘কণা ত্বরক’ বা অ্যাক্সিলারেটর রয়েছে, যা থেকে পৃথিবীর ল্যাবরেটরির চেয়েও প্রায় ১০ লক্ষ গুণ বেশি শক্তিশালী কণা নির্গত হয়। কিন্তু এই শক্তিশালী কণাগুলোর উৎস কী এবং এদের ভেতরে ঠিক কী প্রক্রিয়া ঘটে তা বিজ্ঞানীদের কাছে এতদিন রহস্যময় ছিল।

উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনোগুলো মহাবিশ্বের চরম শক্তিশালী পরিবেশ থেকে তৈরি হলেও অন্যান্য কণার মতো এরা পথিমধ্যে দিক পরিবর্তন করে না বা শক্তি হারায় না। ফলে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে এরা সরাসরি পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়, যা মহাবিশ্বের এমন সব গোপন তথ্য বিজ্ঞানীদের সরবরাহ করে, যা অন্য কোনো উপায়ে পাওয়া অসম্ভব।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯৮৮ সালে বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন প্রথম প্রস্তাব করেন যে, দক্ষিণ মেরুর আদিম ও স্বচ্ছ হিমবাহের বরফ ব্যবহার করে এই নিউট্রিনো ধরা সম্ভব। যখন একটি নিউট্রিনো বরফের পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তখন বরফের গভীরে একটি মৃদু আলোর ঝলকানি তৈরি হয়।

দক্ষিণ মেরুর বরফ স্তর অত্যন্ত স্থিতিশীল, ভূকম্পনমুক্ত এবং বাহ্যিক কোলাহলমুক্ত হওয়ায় বিজ্ঞানী হালজেনের নির্দেশনায় ২০১১ সালে সেখানে বরফের নিচে প্রায় ১ ঘনকিলোমিটার এলাকা জুড়ে তৈরি সম্পন্ন হয় ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’। আলোক-সেন্সর সমৃদ্ধ এই বিশাল অবজারভেটরি চালুর পর গবেষকরা সৌরজগতের বাইরের সুদূর মহাকাশ থেকে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো সফলভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

নোবেল কমিটির পদার্থবিজ্ঞান শাখার চেয়ারম্যান মার্ক পিয়ার্স বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেনের প্রশংসা করে বলেন, ‘ফ্রান্সিস হালজেন গবেষক ও প্রকৌশলীদের একটি আন্তর্জাতিক দলকে নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের হাতে এক অসাধারণ যন্ত্র তুলে দিয়েছেন। তাঁর অধ্যবসায় এবং বৈজ্ঞানিক দূরদর্শিতা জ্যোতির্বিজ্ঞানের সম্পূর্ণ নতুন এক যুগের পথ প্রশস্ত করেছে।’

আইসকিউব অবজারভেটরিতে প্রতিনিয়ত জমা হওয়া এই নিউট্রিনোগুলোর তথ্য থেকে বিজ্ঞানীরা এখন মহাবিশ্বের সেইসব চরম পরিবেশ সম্পর্কে জানতে পারবেন যেখানে এই কণাগুলো তৈরি হয়, যা অদূর ভবিষ্যতে মহাবিশ্বের সম্পূর্ণ অজানা কোনো মহাজাগতিক ঘটনা মানুষের সামনে উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

শারদীয় দুর্গোৎসবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করছে : রাশেদ খাঁন

দক্ষিণ মেরুর বরফে ‘অধরা’ কণা শনাক্ত করে নোবেল জয়

আপডেট টাইম : ০৫:২৩:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

সুদূর মহাবিশ্ব থেকে ছুটে আসা অত্যন্ত দুর্লভ ও রহস্যময় ‘অধরা’ কণা ‘নিউট্রিনো’ সফলভাবে শনাক্ত করার যুগান্তকারী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন বেলজিয়ান-আমেরিকান বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন।

অ্যান্টার্কটিকার দক্ষিণ মেরুর গভীর বরফস্তরকে এক বিশাল টেলিস্কোপে রূপান্তর করে মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচনের জন্য তাঁকে এই সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হলো।

রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের বরাত দিয়ে আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, নিউট্রিনো কণাগুলো বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে, কিন্তু এরা নিজেদের কখনো জানান দেয় না। কোটি কোটি নিউট্রিনো প্রতিনিয়ত কোনো বাধা ছাড়াই মানবদেহ এবং পুরো পৃথিবী ভেদ করে চলে যাচ্ছে, যা কোনো প্রযুক্তিতে সহজে ধরা পড়ে না। অত্যন্ত বিরলভাবে কখনো কখনো একটি নিউট্রিনো কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সাথে ধাক্কা খায়। আর সঠিক যন্ত্রপাতি থাকলে কেবল তখনই একে শনাক্ত করা সম্ভব।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই জানতেন যে, মহাবিশ্বে এমন কিছু প্রাকৃতিক ‘কণা ত্বরক’ বা অ্যাক্সিলারেটর রয়েছে, যা থেকে পৃথিবীর ল্যাবরেটরির চেয়েও প্রায় ১০ লক্ষ গুণ বেশি শক্তিশালী কণা নির্গত হয়। কিন্তু এই শক্তিশালী কণাগুলোর উৎস কী এবং এদের ভেতরে ঠিক কী প্রক্রিয়া ঘটে তা বিজ্ঞানীদের কাছে এতদিন রহস্যময় ছিল।

উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনোগুলো মহাবিশ্বের চরম শক্তিশালী পরিবেশ থেকে তৈরি হলেও অন্যান্য কণার মতো এরা পথিমধ্যে দিক পরিবর্তন করে না বা শক্তি হারায় না। ফলে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে এরা সরাসরি পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়, যা মহাবিশ্বের এমন সব গোপন তথ্য বিজ্ঞানীদের সরবরাহ করে, যা অন্য কোনো উপায়ে পাওয়া অসম্ভব।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯৮৮ সালে বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন প্রথম প্রস্তাব করেন যে, দক্ষিণ মেরুর আদিম ও স্বচ্ছ হিমবাহের বরফ ব্যবহার করে এই নিউট্রিনো ধরা সম্ভব। যখন একটি নিউট্রিনো বরফের পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তখন বরফের গভীরে একটি মৃদু আলোর ঝলকানি তৈরি হয়।

দক্ষিণ মেরুর বরফ স্তর অত্যন্ত স্থিতিশীল, ভূকম্পনমুক্ত এবং বাহ্যিক কোলাহলমুক্ত হওয়ায় বিজ্ঞানী হালজেনের নির্দেশনায় ২০১১ সালে সেখানে বরফের নিচে প্রায় ১ ঘনকিলোমিটার এলাকা জুড়ে তৈরি সম্পন্ন হয় ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’। আলোক-সেন্সর সমৃদ্ধ এই বিশাল অবজারভেটরি চালুর পর গবেষকরা সৌরজগতের বাইরের সুদূর মহাকাশ থেকে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো সফলভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

নোবেল কমিটির পদার্থবিজ্ঞান শাখার চেয়ারম্যান মার্ক পিয়ার্স বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেনের প্রশংসা করে বলেন, ‘ফ্রান্সিস হালজেন গবেষক ও প্রকৌশলীদের একটি আন্তর্জাতিক দলকে নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের হাতে এক অসাধারণ যন্ত্র তুলে দিয়েছেন। তাঁর অধ্যবসায় এবং বৈজ্ঞানিক দূরদর্শিতা জ্যোতির্বিজ্ঞানের সম্পূর্ণ নতুন এক যুগের পথ প্রশস্ত করেছে।’

আইসকিউব অবজারভেটরিতে প্রতিনিয়ত জমা হওয়া এই নিউট্রিনোগুলোর তথ্য থেকে বিজ্ঞানীরা এখন মহাবিশ্বের সেইসব চরম পরিবেশ সম্পর্কে জানতে পারবেন যেখানে এই কণাগুলো তৈরি হয়, যা অদূর ভবিষ্যতে মহাবিশ্বের সম্পূর্ণ অজানা কোনো মহাজাগতিক ঘটনা মানুষের সামনে উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


প্রিন্ট