শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
লেবানন ও ইসরাইলের ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু; লঙ্ঘনের অভিযোগ সেনাবাহিনীর বাণিজ্য সচিবের মৃত্যুতে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের শোক আলোকিত লালমনিরহাটে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি ইরান: ট্রাম্প মুন্সীগঞ্জে বিনামূল্যে আউশ ধান বীজ ও সার বিতরণ লেবাননে যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে সৌদি আরব নিঝুম দ্বীপে সাবেক বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন রাজধানীতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আটক ২: র‌্যাব নকল বন্ধে এসএসসি পরীক্ষার রুটিন না দেওয়ার খবর গুজব: শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর

কৃষকদের কথা ভেবে পেঁয়াজ আমদানি করতে দেইনি: কৃষি উপদেষ্টা

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২১ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, কৃষকদের কথা ভেবে আমরা পেঁয়াজ আমদানি করতে দেইনি। ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ আমদানি করতে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে বিভিন্ন আদালতেও গেছে, যেন আমরা বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করি।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, দেশে পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই। মাঝখানে পেঁয়াজের দাম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন সেটা কমে ৯৫ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে চলে এসেছে। যেহেতু কৃষকদের হাইফ্লো মেশিন আমরা দিয়েছি, সেহেতু তারা পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রাখতে পেরেছেন। পাশাপাশি, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে নতুন একটি পেঁয়াজও উদ্ভাবন করা হয়েছে। সেই পেঁয়াজটা বাজারে আসা শুরু করেছে। আবার মুড়িকাটা পেঁয়াজটাও আসা শুরু করেছে। এজন্য পেঁয়াজের দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

তিনি বলেন, কিছু কিছু কুচক্রী থাকেন, যারা পেঁয়াজ আমদানি করতে পাগল হয়ে যান। এই আমদানি করলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কৃষকরা একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা আর পেঁয়াজ চাষের দিকে যাবেন না। এ জন্য আমাদের কৃষকের দিকে তাকাতে হবে সবসময়। কৃষকদের প্রতিবাদ করার ক্ষমতা নেই। তাদের প্রতিবাদের প্রধান মাধ্যম হচ্ছেন আপনারা (সাংবাদিকরা)।

আলু চাষ করে কৃষকরা এবার লাভবান হতে পারেননি বলে দাবি করে কৃষি উপদেষ্টা বলেন, আলু চাষিরা তেমন দাম পাননি। তবে কিছুটা দাম বেড়েছে। আমি বলব, আলুর দাম আরও বাড়া দরকার। আমরা ভেবেছিলাম, কিছু আলু নষ্ট হয়ে যায় কিনা। এ জন্য আমরা বলেছিলাম, কোল্ড স্টোরেজগুলোকে আমরা বলেছি, নভেম্বরে খালি না করে ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের আলু রাখতে দিতে হবে।

বৃষ্টির কারণে আগাম আলু আসতে দেরি হচ্ছে দাবি করেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, তবে আলু চাষি বাদে অন্য যারা এটির সঙ্গে জড়িত, তারা সবাই লাভবান হয়েছেন। কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা।

উপদেষ্টা বলেন, আপনারা জানেন এবার কিন্তু আমনের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। প্রায় ৫০ শতাংশ আমন ধান কিন্তু কাটা শেষ হয়ে গেছে। যদি কোনো বড়ো ধরনের সমস্যা না হয়, এবার আল্লাহ দিলে আমাদের আমনও বাম্পার হবে। আপনারা জানেন যে, এর আগে আমাদের যে বোরো ধান হয়েছিল প্রায় ১৫ লাখ টন। আমাদের এস্টিমেটের থেকে বেশি হয়েছিল। আমনও এরকম আমাদের এস্টিমেট করা আছে, আশা করছি তার চেয়ে বেশি হবে।

তিনি বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত আছে। তারপরও কিছু কিছু দুর্নীতিবাজ বিভিন্ন জায়গায় সারের দাম বাড়ায়। এজন্য আমি অলরেডি ইনস্ট্রাকশন দিয়েছি আমাদের অফিসার এটার ক্ষেত্রে পুরো নজরদারি করবে। যে অফিসার নজরদারি করতে ফেল করবে তার বিরুদ্ধে আমরা অ্যাকশন নেব। কৃষক যেন ন্যায্যমূল্যে সার পায় সেই ব্যবস্থা করব আমরা। কোনো অবস্থায় আমাদের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে এক পয়সাও যেন বেশি নিতে না পারে।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আপনারা অনেকে জানেন যে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। গ্যাসের দামের সঙ্গে সারের দামের কোনো সম্পর্ক নেই। সারের দাম আগে যা ছিল এখনও তা আছে এবং ভবিষ্যতেও তা থাকবে। আমরা অন্তত যতদিন আছি। সারের দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

তিনি বলেন, সবজির দাম এখন নিচের দিকে। আগে বলতেন যে ৭০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু সবজির দামটা একটু নিচের দিকে। তবে আমরা আবার যতটুকু চাই ওটা অতটুক পাইনি। যেহেতু আমাদের বেতন যতটুকু বাড়ে ওই পরিমাণ তো কৃষকের থেকে তো কিছু বাড়তে হবে। আশা করছি সাইক্লোন কোনো সমস্যা না হলে সবজির ফলনও ভালো হবে। সবজির দামও একটা সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে আনতে বয়স যাচাইয়ের একটি নতুন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি শেষ করেছে সংস্থাটি। শিগগিরই এটি ব্যবহারযোগ্য করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারে নতুন নিয়ম আসতে যাচ্ছে। এই অ্যাপ মূলত একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্রের মতো কাজ করবে। ব্যবহারকারীরা এতে পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র আপলোড করে নিজেদের বয়স যাচাই করতে পারবেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহারকারীর জন্মতারিখ বা ব্যক্তিগত তথ্য সরাসরি দেখতে পারবে না। শুধু নির্দিষ্ট বয়সসীমার ওপরে বা নিচে আছেন কি না এই তথ্যই জানানো হবে। ইউরোপীয় কমিশন বলছে, এই ব্যবস্থা চালু হলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো আর বয়স যাচাই নিয়ে অজুহাত দেখাতে পারবে না। কারণ একটি কেন্দ্রীয় সমাধানই তাদের সামনে থাকবে। এতে প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর আলাদা করে তথ্য সংগ্রহের চাপও কমবে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিভিন্ন দেশে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে, যাতে তারা কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য আরও কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করে। এরই মধ্যে কিছু দেশ কড়া পদক্ষেপও নিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও বয়স যাচাই ও অভিভাবকের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার আইন পাস হয়েছে। তবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বয়স যাচাই ব্যবস্থার বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের মতে, ব্যবহারকারীর সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করলে গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে অ্যাপ স্টোর বা প্ল্যাটফর্মগুলোকে কেন্দ্রীয়ভাবে এই তথ্য সংরক্ষণ করতে হলে তা আরও জটিল হয়ে উঠবে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপের নতুন অ্যাপটি একটি বিকল্প সমাধান হিসেবে সামনে আসছে। এতে ব্যবহারকারীর তথ্য সরাসরি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়বে না। বরং একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই সম্পন্ন হবে। ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, অ্যাপটি প্রযুক্তিগতভাবে প্রস্তুত এবং খুব শিগগিরই ইউরোপীয় নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। সদস্য দেশগুলো নিজেদের আইন অনুযায়ী অ্যাপটি কাস্টমাইজ করতে পারবে। ইউরোপের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট অনুযায়ী, বড় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুন অ্যাপটি ব্যবহার বাধ্যতামূলক না হলেও বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করলে সেটি সমান কার্যকর প্রমাণ করতে হবে। তা না হলে শাস্তির মুখে পড়তে পারে প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে অনলাইন নিরাপত্তায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে গোপনীয়তা রক্ষা করে বয়স যাচাইয়ের একটি নতুন মানদণ্ডও তৈরি হতে পারে।

© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com