সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৯ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে জাইমা রহমানের চেলসির বয়স ভিত্তিক দলে সুযোগ পাওয়ার খবর নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সুন্দরবনে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ সুমন বাহিনীর সক্রিয় সদস্য আটক পটুয়াখালীতে ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ঈদের ছুটিতে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন ইকোপার্কে দর্শনার্থীদের ঢল তেহরানে বিস্ফোরণ, ইসরাইলের নতুন হামলার ঘোষণা ঈদের ছুটিতে চাঁদপুর তিন নদীর মোহনায় উপচে পড়া ভিড় কেনিয়ায় মার্চে প্রবল বর্ষণে ৮১ জনের প্রাণহানি : কর্তৃপক্ষ কিম জং উন উ. কোরিয়ার রাষ্ট্র বিষয়ক সভাপতি নির্বাচিত বগুড়ায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু

কেনিয়ায় মার্চে প্রবল বর্ষণে ৮১ জনের প্রাণহানি : কর্তৃপক্ষ

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬
  • ১ বার পঠিত

কেনিয়ায় টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় চলতি মাসে অন্তত ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

নাইরোবি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

এএফপি প্রতিনিধিরা জানান, পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বাসিন্দাদের মাথায় মালপত্র তুলে হাঁটতে দেখা গেছে। অনেককে গাদাগাদি করে নৌকায় করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কিসুমু কাউন্টিতে আকস্মিক বন্যার পানিতে পুরো গ্রাম ডুবে গেছে। প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর  কৃষি জমি নষ্ট হয়ে গেছে। ভেসে গেছে ফসল।

ন্যাকাচ এলাকায় ৩ সহস্রাধিক পরিবার ঘরছাড়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, কেউ কেউ আটটি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে। উপচে পড়া মিরুই নদীর পানি এখনও ওই জনপদের জন্য হুমকি হয়ে আছে।

ন্যাকাচের প্রধান সেথ ওলুওচ আগওয়ান্দা (৫৭) বলেন, ‘প্রচণ্ড ভাঙনে আমাদের অনেক কৃষিজমি হারিয়ে গেছে। আমরা যে ফসল লাগিয়েছিলাম, সেগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে।’

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে রাজধানী নাইরোবিতে। সেখানে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জাতীয় পুলিশের মুখপাত্র মুচিরি নিয়াগা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮১ জনে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি আরও জানান, আকস্মিক বন্যায় বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ২ হাজার ৬৯০টি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অবকাঠামো ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

শুক্রবার রাতে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, নাইরোবি বাঁধের নিচের দিকের কয়েকটি বস্তি এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে বলা হয়। পানির উচ্চতা বাড়ায় বাঁধ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

তবে এখন পর্যন্ত বাঁধটি টিকে আছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। কর্তৃপক্ষ সবাইকে চরম সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, রাজধানীর কাছে কিয়াম্বু শহরে রাতে দুই জন বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছেন।

বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যম সিটিজেন টিভি জানায়, পশ্চিমাঞ্চলের কাসাকা গ্রামে ভূমিধসে দুই জনের প্রাণহানি হয়েছে ও বহু ঘরবাড়ি এতে চাপা পড়েছে।

মার্চের বৃষ্টিতে বারবার নাইরোবির সড়কগুলো স্রোতস্বিনী নদীতে পরিণত হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে হাজারো বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

সমালোচকরা নাইরোবির গভর্নর জনসন সাকাজার পদত্যাগ দাবি করেছেন। ২০২২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি রাজধানীর ড্রেনেজ ও সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

পশ্চিমের ন্যাকাচ এলাকায় শিশুদের হাঁটু সমান পানির মধ্যে দিয়ে চলতে দেখা গেছে। বাসিন্দারা ঘরে ঢুকে পড়া পানি হাত দিয়ে তুলে ফেলছেন। কোথাও কোথাও পানি ছাদের সমান স্তরে উঠে গেছে।

৫০ বছর বয়সী কেনেডি ওগুটা বলেন, ‘আমরা এলাকা ছেড়ে যাচ্ছি। যেখানে থাকতাম, সেখানে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। গবাদিপশু নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব, জানি না। এমন কোনো ঘর নেই, যা পানিতে ডুবেনি।’

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়া আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হচ্ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, গত দুই দশকে পূর্ব আফ্রিকায় অতিবৃষ্টি ও খরার প্রকোপ বেড়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com