সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: হলুদকে অনেকসময় ‘মিরাকল হার্ব’ বা অলৌকিক ভেষজ বলা হয়ে থাকে। হলুদ আমাদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত একটা মশলা, রোজকার রান্নায় হলুদ না দিলে রান্নাটাই যেন কেমন অসম্পূর্ণ মনে হয়।
বাঙালীর হেঁশেলে তো বটেই, শুধু বাঙালীই বা কেন, গোটা ভারত, বা বলা ভালো প্রায় গোটা এশিয়ার রান্নাতেই হলুদ একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরী উপাদান।
অনেকেই সকালে খালি পেটে এক টুকরো কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক সকালে এক টুকরো কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা-
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক: কাঁচা হলুদে থাকা কারকিউমিন নামক উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে মৌসুমি সর্দি-কাশি ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
হজমশক্তি উন্নত করে: সকালে কাঁচা হলুদ খেলে হজম প্রক্রিয়া সচল রাখতে সাহায্য করে। এটি পেট ফাঁপা, গ্যাস ও বদহজমের মতো সমস্যাও কিছুটা কমাতে পারে।
প্রদাহ কমাতে কার্যকর: শরীরের বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ কমাতে হলুদ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান জয়েন্টের ব্যথা ও ফোলাভাব কমাতে সহায়ক হতে পারে।
ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে: কাঁচা হলুদ শরীরের ভেতর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করতে সহায়তা করতে পারে। ফলে ত্বক সতেজ ও উজ্জ্বল দেখাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
লিভারের জন্য উপকারী: লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে হলুদ সহায়ক বলে মনে করা হয়। এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া সচল রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা:কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, হলুদের উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত হলুদ গ্রহণ করা উচিত নয়।
তবে যাদের পিত্তথলির সমস্যা, কিডনিতে পাথর বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবনের ইতিহাস রয়েছে, তাদের কাঁচা হলুদ নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে পেটের অস্বস্তি বা অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
সূত্র : আনন্দবাজার