রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
নড়াইলে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃ/ত্যু শিল্পী সমিতির নির্বাচনে মুক্তিকে সমর্থন ওমর সানীর সনদনির্ভর ডিগ্রির অবসান ঘটিয়ে কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে: ববি হাজ্জাজ বিশ্বকাপে শেষ ৩২-এ কে কার মুখোমুখি, দেখে নিন পূর্ণ সূচি হঠাৎ ইরাক সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি দেশের চাহিদা মিটিয়ে প্রাণিসম্পদ পণ্য রপ্তানিই সরকারের লক্ষ্য : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বাজেট নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা আমলে নিচ্ছি না: সড়কমন্ত্রী সিসিটিভি ও বডি ক্যামে এইচএসসি পরীক্ষায় কঠোর নজরদারির ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর ‎মঠবাড়িয়া ফিশ মার্কেট উদ্বোধন ঘিরে পুরাতন ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

বাজেট নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা আমলে নিচ্ছি না: সড়কমন্ত্রী

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ০ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনাকে খুব একটা আমলে নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, বাজেট নিয়ে সংসদে তেমন নেতিবাচক সমালোচনা হয়নি, বরং কিছু শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারের পদক্ষেপের কারণে রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কাও বাস্তবে হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রী বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে প্রায় ৩০ শতাংশের মতো বরাদ্দ রেখেছেন। ভৌত অবকাঠামোর ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশের উপরে বরাদ্দ রেখেছেন। সাধারণ সেবার ক্ষেত্রে ২৬ শতাংশের মতো বরাদ্দ রেখেছেন। অর্থাৎ অর্থের বরাদ্দের অনুপাতটা তিনি চমৎকারভাবে সাজিয়েছেন। মানবসম্পদ উন্নয়নের জায়গাটা হলো আমাদের একমাত্র সম্ভাবনাময় খাত। ১৮ কোটি মানুষকে দক্ষ, যোগ্য হিসেবে তৈরি করা। সেক্ষেত্রে তিনি যে বরাদ্দ রেখেছেন যথেষ্ট বরাদ্দ রেখেছেন, সময়োপযোগী বরাদ্দ রেখেছেন, ৩০ শতাংশের মতো বরাদ্দ। এই দক্ষ মানবসম্পদ যখন রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করবে। অনগ্রসর জাতিকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য, সাধারণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার জন্য ২৬ শতাংশের কাছাকাছি বরাদ্দ রেখেছেন, যা আমাদের অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

রবিউল আলম বলেন, আহরিত অর্থের দুই ধরনের ব্যয় রাষ্ট্র করে। একটি হচ্ছে অনুন্নয়ন ব্যয়, আরেকটি হচ্ছে উন্নয়ন ব্যয়। অনুন্নয়ন ব্যয় মানে হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যয়। রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অর্থমন্ত্রী যেটা গত অর্থবছরে ছিল ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ বরাদ্দ করা অর্থের, সেখান থেকে কমিয়ে তিনি নিয়ে এসেছেন ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশে। তার মানে অপচয় রোধ করেছেন। অপ্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করছেন না। তিনি উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়েছেন। যে উন্নয়ন ব্যয় গত অর্থবছরে ছিল অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে, সেটি ছিল ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ। সেটাকে তিনি বাড়িয়ে ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ করেছেন। অর্থাৎ উন্নয়ন প্রয়োজন, দীর্ঘদিনের বিধ্বস্ত বাংলাদেশ, অবকাঠামো উন্নয়ন, এডিপির বরাদ্দ তিন লাখ কোটি টাকার উপরে, এডিপি ছাড়াও আরো ১৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন ব্যয় রেখেছেন। সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এই বাজেটে।

তিনি বলেন, বাজেট নিয়ে আমি খুব সমালোচনা শুনিনি সংসদে। কিছু শঙ্কা শুনেছি। এই বাজেট নিয়ে কেউ নেতিবাচক কিছু বলেননি। কিছু আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কোথায় করেছেন? সেটি হচ্ছে রাজস্ব আয়ে ঘাটতি হতে পারে। রাজস্ব আয়ের ঘাটতি হবে না। কারণ ই-চালানের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ করা হবে। কর অব্যাহতি হ্রাস করা হবে। রাজস্ব ফাঁকির ক্ষেত্রে চিহ্নিতকরণ করা হবে এবং ভ্যাট কাঠামোতে নতুন বিন্যাস করা হবে। অতএব রাজস্ব ঘাটতি আমি দেখছি না। আর আমাদের রাজস্ব আরোহণ কর অনুপাতে যদি বলেন, সেটা যদি হয় নয় শতাংশের কাছাকাছি, নেপাল-ভুটানও ১৩-১৪ শতাংশ করে। আমাদের ওখানে যেতে হবে। সেজন্য অর্থমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। আমার বিশ্বাস রাজস্ব আয়ে ঘাটতি হবে না।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের কথা বলা হয়েছে, ব্যাংক ঋণও কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। এবার করা হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। আমার মনে হচ্ছে, যেভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আমাদের মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাবে, তাতে জনগণের সঞ্চয় বাড়বে। অতএব ব্যাংকের অর্থের ঘাটতি কিন্তু হবে না। ঘাটতি বাজেটের কথা বলা হয়েছে। কর যদি আহরিত হয়, রাজস্ব ঠিকমত যদি আহরিত হয়, ব্যাংক থেকে যদি লোনটা যেটা নির্ধারণ করা হয়েছে পাওয়া যাবে, ঘাটতি বাজেট হওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না।

ঘাটতি বাজেট প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ বাজেটে পাঁচ দশমিক ৫ জিডিপির ঘাটতি বাজেট। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ। আপনি চীনে যান, সেখানেও চার শতাংশ জিডিপির ঘাটতি বাজেট। অতএব এই ঘাটতি বাজেট আমাদের এই দুরবস্থার মধ্যে আমরা সক্ষম হবো এটা মিটআপ এবং অ্যাচিভ করতে। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ছয় দশমিক ৫ শতাংশ। যারা শঙ্কা প্রকাশ করছেন তাদের জন্য বলতে চাই, প্রথম বিরোধী দল হয়েছেন, অনেক জায়গায় সমালোচনা করতে ভুল করেছেন। সরকারি দল এখনো হন নাই। আমার বিশ্বাস, আর দুই-চারবার-পাঁচবার বিরোধী দল থাকলে আস্তে আস্তে তারা সমালোচনাটাও বুঝে যাবেন। আমি ওই সমালোচনাকে খুব একটা আমলে নিচ্ছি না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com