রিপোর্টার শাফায়েত হোসেনঃ
দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে আদাবর এলাকার নবোদয় বাজারে ক্ষুদ্র ব্যবসা করে আসছেন মজিবুর। কাঁচা বাজারের বিভিন্ন পণ্য—কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, বিভিন্ন শাকসবজি, ফলমূল ও মুরগিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করেই চলত তাঁর সংসার।কিন্তু বাজারের অস্থিরতা, পণ্যের দাম ওঠানামা এবং সময়মতো পণ্য বিক্রি করতে না পারায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাঁর দাবি, প্রায় ২ লাখ টাকার কাঁচামাল এনে সময়মতো বিক্রি করতে না পারায় পণ্য নষ্ট হয়ে যায়, এতে তাঁর ব্যবসার মূলধন প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
মজিবুর বলেন, গত এক সপ্তাহ আগেও কাঁচা মরিচের দাম ছিল প্রায় ৪০০ টাকা কেজি। এলাকার মানুষের কাঁচা মরিচের সংকট দেখে আমি পণ্য এনে অনেক সময় লোকসান দিয়েও বিক্রি করেছি। আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।তিনি আরও বলেন, আদাবর-মোহাম্মদপুর এলাকায় যখন মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল, তখন আমি অনেক মানুষের কাছে কাঁচা বাজারের পণ্য দিয়েছি। অনেক সময় সেই টাকা পাইনি। কিন্তু অসহায় মানুষের কষ্ট দেখে আমার খারাপ লাগেনি।ঋণের বোঝায় দিশেহারা মজিবুর জানান, প্রায় তিন মাস আগে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবারের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। বর্তমানে ব্যবসার পুঁজি হারিয়ে সেই ঋণ পরিশোধ করা নিয়েও তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
মজিবুরের ভাষায়, আমি পালিয়ে যেতে চাই না। আমি আপনাদের সামনে থাকতে চাই। প্রায় ৩০ বছর ধরে এই বাজারে ব্যবসা করছি। আমি আবার ব্যবসা করে ঘুরে দাঁড়াতে চাই এবং আমার ঋণ পরিশোধ করতে চাই।সিন্ডিকেটের প্রভাব নিয়ে অভিযোগ বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেটের প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বাজারে গিয়ে অনেক সময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়। পরে সেই পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়তে হয়।
তিনি বলেন, দেশে কিছু কোম্পানি ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে বাজার পরিচালনা করে—এমন পরিস্থিতিতে আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।”
আবার ঘুরে দাঁড়াতে চান মজিবুর নিজের দীর্ঘ ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে চান মজিবুর। এ জন্য সরকার, সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।মজিবুর বলেন,“সাংবাদিক ভাইদের কাছে আমার অনুরোধ, আপনারা আমার ঘটনাটি তুলে ধরেন। বর্তমানে আমার হাতে কোনো পুঁজি নেই। আমি কীভাবে আবার মাল কিনব, সেটাই আমার বড় সমস্যা। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, আমার মতো একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দিকে একটু নজর দিন।তিনি আরও বলেন, আমার ৩০ বছরের ব্যবসার অভিজ্ঞতা রয়েছে। যেখানে হারিয়েছি, সেখান থেকেই আবার ঘুরে দাঁড়াতে চাই। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি যদি আমার পাশে দাঁড়ান, আমি আবার ব্যবসা শুরু করতে চাই।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 



















