ঢাকা ০৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুনামগঞ্জের চাদঁনীঘাটে নিজস্ব অর্থায়নে অস্থায়ী যাত্রীছাউনী নির্মাণ করেন জেলা যুবদলের যোগাযোগ সম্পাদক সুজন মাহমুদ কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বিভাগে নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসানের যোগদান প্রাথমিক বৃত্তিতে সাফল্য, উল্লাপাড়ায় ৫০ শিক্ষার্থী সংবর্ধিত অপপ্রচারের অভিযোগে,কুড়িগ্রাম থানায় প্রথম টিভির চেয়ারম্যানের লিখিত অভিযোগ ফেনীর ৬০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাবে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারল বাংলাদেশ নারী ইমার্জিং দল জুলাইয়ে চীনে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, পূর্বাভাসের নিচে বিমানবন্দরের বাইরে গাড়ি থেকে ১,৮১২ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার কাস্টমস্ গোয়েন্দার সড়ক দুর্ঘটনার পর মুখ খুললেন মেঘলা মুক্তা, জানালেন বর্তমান অবস্থা অলি আহমদের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করল ১১ দলীয় ঐক্য

এআইয়ের ফাঁদে সর্বস্ব হারানোর শঙ্কা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে সরকারি কর্মকর্তারাও হয়রানির শিকার

রোকন বিশ্বাস-পাবনা প্রতিনিধিঃ

 

পাবনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে এর অপব্যবহার নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার মানুষের জীবনকে সহজ করে তুললেও, একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণা, হয়রানি, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, ভুয়া ছবি-ভিডিও তৈরি এবং ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার মতো ঘটনা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এ ধরনের অপব্যবহারের কারণে বিপাকে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এআইনির্ভর বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের ছবি, কণ্ঠস্বর কিংবা ভিডিও পরিবর্তন করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব ঘটনার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসংগতিপূর্ণ ছবি বা ভিডিও তৈরি করে তা সত্য ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এতে বিভ্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের চাপ।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, প্রযুক্তি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় অনেক মানুষ আসল ও কৃত্রিমভাবে তৈরি কনটেন্টের মধ্যে পার্থক্য করতে পারছেন না। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ছবি, ভিডিও কিংবা অডিওকে সত্য ধরে নিয়ে অনেকে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এর সুযোগ নিয়ে একটি মহল প্রতারণা বা হয়রানির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এআইয়ের অপব্যবহারের প্রভাব থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনও বাদ যাচ্ছে না। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ছবি বা বক্তব্য বিকৃত করে প্রচার, ভুয়া ভিডিও তৈরি কিংবা কৃত্রিমভাবে তৈরি অডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর সময়ে এ ধরনের কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজনৈতিক মহলের অনেকেই বলছেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়; বরং জনসচেতনতা এবং আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভুয়া কনটেন্ট শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি।

শুধু সাধারণ মানুষ কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই নন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়েও এআই ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোনো কর্মকর্তার নামে ভুয়া বক্তব্য, পরিবর্তিত ছবি কিংবা কৃত্রিম ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়া হলে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছাতে পারে। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

তথ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, এআই প্রযুক্তি নিজে ক্ষতিকর নয়। বরং এর ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্য ও ব্যবহারের ধরনই এর সুফল বা অপব্যবহার নির্ধারণ করে। তাই প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে এর নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতারণার নতুন কৌশল নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে সাধারণ জনগনের মধ্যে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কণ্ঠস্বর নকল বা পরিচিত ব্যক্তির মতো কথা বলিয়ে প্রতারণার চেষ্টা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। পরিচিত কারও কণ্ঠস্বরের মতো অডিও তৈরি করে অর্থ দাবি, জরুরি সহায়তার নামে যোগাযোগ কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের মতো প্রতারণার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে অপরিচিত কোনো ফোনকল, অডিও, ভিডিও বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা পাওয়ার পর যাচাই না করে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে তারা অনেক সময় বুঝতেই পারছেন না কোন কনটেন্ট বাস্তব, আর কোনটি কৃত্রিমভাবে তৈরি। ফলে হয়রানি কিংবা প্রতারণার শিকার হলে কোথায় এবং কীভাবে অভিযোগ করবেন, সে বিষয়েও অনেকে পরিষ্কার ধারণা রাখেন না।

সরকারের সহযোগিতা চান সাধারণ মানুষ এই কৃত্রিম প্রযুক্তিকে বৈধভাবে ব্যবহার এবং অবৈধভাবে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান। এআইয়ের অপব্যবহার থেকে সুরক্ষা পেতে সরকারের কার্যকর সহযোগিতা চেয়েছেন সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, এআইনির্ভর প্রতারণা ও হয়রানি শনাক্তে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য ব্যাপক প্রচার চালানো প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর এআই কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোরও দাবি উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গ্রহণ, দ্রুত তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন অনেকে।

তথ্য বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, এআই বর্তমান বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি অংশ। শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা, গবেষণা, প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক ব্যবহার রয়েছে। তাই এআইকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার দাবি বাস্তবসম্মত নয়। বরং এর অপব্যবহার রোধে আইন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, ডিজিটাল সচেতনতা এবং ব্যক্তিগত সতর্কতা, এই চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।

সাধারণ মানুষের জন্যও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও দেখে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বাস বা শেয়ার না করে উৎস যাচাই করা, সন্দেহজনক কনটেন্ট সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা এবং প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর নীতিমালা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে সৃষ্ট হয়রানি ও প্রতারণার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারও এআইয়ের অপব্যবহার মোকাবিলায় কার্যকর ও সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, এ-আই অর্থাৎ কৃত্তিম প্রযুক্তি বৈধভাবে ব্যবহার করে অনেক কাজ করা সম্ভব হচ্ছে, অবৈধ ভাবে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে প্রান্তিক মানুষের মাঝে বিভ্রান্ত করলে সেইটা অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসন কাজ করছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সুনামগঞ্জের চাদঁনীঘাটে নিজস্ব অর্থায়নে অস্থায়ী যাত্রীছাউনী নির্মাণ করেন জেলা যুবদলের যোগাযোগ সম্পাদক সুজন মাহমুদ

এআইয়ের ফাঁদে সর্বস্ব হারানোর শঙ্কা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে সরকারি কর্মকর্তারাও হয়রানির শিকার

আপডেট টাইম : ০৪:৫৪:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

রোকন বিশ্বাস-পাবনা প্রতিনিধিঃ

 

পাবনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে এর অপব্যবহার নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার মানুষের জীবনকে সহজ করে তুললেও, একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণা, হয়রানি, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, ভুয়া ছবি-ভিডিও তৈরি এবং ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার মতো ঘটনা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এ ধরনের অপব্যবহারের কারণে বিপাকে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এআইনির্ভর বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের ছবি, কণ্ঠস্বর কিংবা ভিডিও পরিবর্তন করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব ঘটনার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসংগতিপূর্ণ ছবি বা ভিডিও তৈরি করে তা সত্য ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এতে বিভ্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের চাপ।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, প্রযুক্তি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় অনেক মানুষ আসল ও কৃত্রিমভাবে তৈরি কনটেন্টের মধ্যে পার্থক্য করতে পারছেন না। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ছবি, ভিডিও কিংবা অডিওকে সত্য ধরে নিয়ে অনেকে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এর সুযোগ নিয়ে একটি মহল প্রতারণা বা হয়রানির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এআইয়ের অপব্যবহারের প্রভাব থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনও বাদ যাচ্ছে না। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ছবি বা বক্তব্য বিকৃত করে প্রচার, ভুয়া ভিডিও তৈরি কিংবা কৃত্রিমভাবে তৈরি অডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর সময়ে এ ধরনের কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজনৈতিক মহলের অনেকেই বলছেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়; বরং জনসচেতনতা এবং আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভুয়া কনটেন্ট শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি।

শুধু সাধারণ মানুষ কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই নন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়েও এআই ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোনো কর্মকর্তার নামে ভুয়া বক্তব্য, পরিবর্তিত ছবি কিংবা কৃত্রিম ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়া হলে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছাতে পারে। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

তথ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, এআই প্রযুক্তি নিজে ক্ষতিকর নয়। বরং এর ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্য ও ব্যবহারের ধরনই এর সুফল বা অপব্যবহার নির্ধারণ করে। তাই প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে এর নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতারণার নতুন কৌশল নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে সাধারণ জনগনের মধ্যে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কণ্ঠস্বর নকল বা পরিচিত ব্যক্তির মতো কথা বলিয়ে প্রতারণার চেষ্টা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। পরিচিত কারও কণ্ঠস্বরের মতো অডিও তৈরি করে অর্থ দাবি, জরুরি সহায়তার নামে যোগাযোগ কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের মতো প্রতারণার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে অপরিচিত কোনো ফোনকল, অডিও, ভিডিও বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা পাওয়ার পর যাচাই না করে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে তারা অনেক সময় বুঝতেই পারছেন না কোন কনটেন্ট বাস্তব, আর কোনটি কৃত্রিমভাবে তৈরি। ফলে হয়রানি কিংবা প্রতারণার শিকার হলে কোথায় এবং কীভাবে অভিযোগ করবেন, সে বিষয়েও অনেকে পরিষ্কার ধারণা রাখেন না।

সরকারের সহযোগিতা চান সাধারণ মানুষ এই কৃত্রিম প্রযুক্তিকে বৈধভাবে ব্যবহার এবং অবৈধভাবে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান। এআইয়ের অপব্যবহার থেকে সুরক্ষা পেতে সরকারের কার্যকর সহযোগিতা চেয়েছেন সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, এআইনির্ভর প্রতারণা ও হয়রানি শনাক্তে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য ব্যাপক প্রচার চালানো প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর এআই কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোরও দাবি উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গ্রহণ, দ্রুত তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন অনেকে।

তথ্য বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, এআই বর্তমান বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি অংশ। শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা, গবেষণা, প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক ব্যবহার রয়েছে। তাই এআইকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার দাবি বাস্তবসম্মত নয়। বরং এর অপব্যবহার রোধে আইন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, ডিজিটাল সচেতনতা এবং ব্যক্তিগত সতর্কতা, এই চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।

সাধারণ মানুষের জন্যও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও দেখে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বাস বা শেয়ার না করে উৎস যাচাই করা, সন্দেহজনক কনটেন্ট সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা এবং প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর নীতিমালা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে সৃষ্ট হয়রানি ও প্রতারণার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারও এআইয়ের অপব্যবহার মোকাবিলায় কার্যকর ও সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, এ-আই অর্থাৎ কৃত্তিম প্রযুক্তি বৈধভাবে ব্যবহার করে অনেক কাজ করা সম্ভব হচ্ছে, অবৈধ ভাবে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে প্রান্তিক মানুষের মাঝে বিভ্রান্ত করলে সেইটা অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসন কাজ করছে।


প্রিন্ট