ঢাকা ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজাপুরে চার বিদ্যালয়ে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ, অসচ্ছল ৭ শিক্ষার্থী পেল শিক্ষা উপকরণ কুড়িগ্রামে জমির বিরোধেকে কেন্দ্র করে হত্যা, পুলিশের অভিযানে ১৭ জন গ্রেপ্তার সুনামগঞ্জের চাদঁনীঘাটে নিজস্ব অর্থায়নে অস্থায়ী যাত্রীছাউনী নির্মাণ করেন জেলা যুবদলের যোগাযোগ সম্পাদক সুজন মাহমুদ কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বিভাগে নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসানের যোগদান প্রাথমিক বৃত্তিতে সাফল্য, উল্লাপাড়ায় ৫০ শিক্ষার্থী সংবর্ধিত অপপ্রচারের অভিযোগে,কুড়িগ্রাম থানায় প্রথম টিভির চেয়ারম্যানের লিখিত অভিযোগ ফেনীর ৬০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাবে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারল বাংলাদেশ নারী ইমার্জিং দল জুলাইয়ে চীনে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, পূর্বাভাসের নিচে বিমানবন্দরের বাইরে গাড়ি থেকে ১,৮১২ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার কাস্টমস্ গোয়েন্দার

কুড়িগ্রামে জমির বিরোধেকে কেন্দ্র করে হত্যা, পুলিশের অভিযানে ১৭ জন গ্রেপ্তার

রুহুল আমিন রুকু কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মাত্র ৮ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সহিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ২টার দিকে উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের রায়গঞ্জ ব্রিজসংলগ্ন খামার আন্ধারীঝাড় কানিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত সহিদুল ইসলাম ওই এলাকার আব্দুল শেখের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল শেখ ও শুক্কুর আলীর মধ্যে প্রায় ৮ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে এর আগে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ এবং ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে শুনানির চেষ্টা করা হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সোমবার দুপুরে শুক্কুর আলীসহ কয়েকজন বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে হালচাষ করে রোপা আমন রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় আব্দুল শেখের ছেলে সহিদুল ইসলাম ও তার স্বজনেরা সেখানে গিয়ে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের সময় সহিদুল ইসলামকে মাছ ধরার সরঞ্জাম কোঁচ দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের একটি দল এবং ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে তাৎক্ষণিক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মারামারি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়।

ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ ছিল। এই বিরোধ আজ মারাত্মক সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং একজন ব্যক্তি নিহত হন। আমরা বিবাদমান এলাকার পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে মারামারি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। নিহতের পরিবারের কাছ থেকে এজাহার পাওয়া গেলে আসামির সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা সম্ভব হবে। স্থানীয় ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, আরও দুই-তিনজন ব্যক্তি পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের মরদেহের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজাপুরে চার বিদ্যালয়ে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ, অসচ্ছল ৭ শিক্ষার্থী পেল শিক্ষা উপকরণ

কুড়িগ্রামে জমির বিরোধেকে কেন্দ্র করে হত্যা, পুলিশের অভিযানে ১৭ জন গ্রেপ্তার

আপডেট টাইম : ০৬:১৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

রুহুল আমিন রুকু কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মাত্র ৮ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সহিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ২টার দিকে উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের রায়গঞ্জ ব্রিজসংলগ্ন খামার আন্ধারীঝাড় কানিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত সহিদুল ইসলাম ওই এলাকার আব্দুল শেখের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল শেখ ও শুক্কুর আলীর মধ্যে প্রায় ৮ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে এর আগে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ এবং ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে শুনানির চেষ্টা করা হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সোমবার দুপুরে শুক্কুর আলীসহ কয়েকজন বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে হালচাষ করে রোপা আমন রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় আব্দুল শেখের ছেলে সহিদুল ইসলাম ও তার স্বজনেরা সেখানে গিয়ে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের সময় সহিদুল ইসলামকে মাছ ধরার সরঞ্জাম কোঁচ দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের একটি দল এবং ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে তাৎক্ষণিক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মারামারি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়।

ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ ছিল। এই বিরোধ আজ মারাত্মক সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং একজন ব্যক্তি নিহত হন। আমরা বিবাদমান এলাকার পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে মারামারি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। নিহতের পরিবারের কাছ থেকে এজাহার পাওয়া গেলে আসামির সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা সম্ভব হবে। স্থানীয় ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, আরও দুই-তিনজন ব্যক্তি পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের মরদেহের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


প্রিন্ট