বিশেষ প্রতিনিধি:
ঢাকার আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে অজ্ঞাত পচা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত ব্যক্তির শৈশবের বন্ধু মো: আল-আমিনকে (৩৬) খুলনার তেরখাদা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি।
গ্রেপ্তারকৃত আল-আমিন খুলনা জেলার তেরখাদা থানার নয়া বারাসাত গ্রামের মৃত হাসান মোল্লা ওরফে হাসেমের ছেলে। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।পিবিআই জানায়, গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখ আশুলিয়ার বাসাইদ এলাকায় একটি ভাড়া দেওয়া টিনের ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইমসিন টিম ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির সাহায্যে অজ্ঞাত লাশের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত ব্যক্তির নাম মো: কামরুল খান (৪৪)। তিনি খুলনার তেরখাদা এলাকার মৃত করিম খানের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের মামাতো ভাই আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে পিবিআই স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে।
পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম, এন, মোর্শেদ, পিপিএম-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ১৭ আগস্ট দুপুরে খুলনার তেরখাদা থেকে আসামি আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি আশুলিয়ার ওই বাসার বাথরুমের প্যান থেকে উদ্ধার করা হয়।
অর্থের দ্বন্দ্বে বন্ধুকে হত্যা পিবিআইয়ের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আসামির স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, কামরুল ও আল-আমিন দুজনেই শৈশবের পরিচিত। গত ৬ আগস্ট কাজের সন্ধানে তারা খুলনা থেকে ঢাকায় এসে আশুলিয়ার বাসাইদ এলাকায় ৪ হাজার টাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করেন। কাজ শেষে টাকা শেষ হয়ে গেলে ১৪ আগস্ট রাতে কামরুলের কাছে টাকা চান আল-আমিন। কামরুল টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাকে খুলনায় ফিরে যেতে বললে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।
একপর্যায়ে আল-আমিন ঘরে থাকা সবজি কাটার ছুরি দিয়ে কামরুলের গলায় পোচ দেয় এবং গামছা দিয়ে গলা বেঁধে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরদিন ১৫ আগস্ট সকালে কক্ষে তালা ঝুলিয়ে তিনি খুলনায় পালিয়ে যান।
পিবিআই ঢাকা জেলার ইনচার্জ পুলিশ সুপার এম,এন, মোর্শেদ জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র বা কোনো তথ্য না রেখেই বাসা ভাড়া দেওয়ার কারণে শুরুতে আসামিদের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে বাসা ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের জন্য বাড়িওয়ালাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 


















